• ই-পেপার

ব্র্যান্ড

ছোট অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ই-কমার্স জায়ান্ট

  • উদ্যোক্তাদের ১৯০টিরও বেশি দেশের ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করে
  • আলিবাবার বাজারমূল্য ২৯০.৪৩ বিলিয়ন ডলার
  • প্রতিষ্ঠার সময় মূলধন ছিল ৬০ হাজার ডলার
  • লেনদেন সহজ করতে ২০০৪ সালে চালু হয় আলি পে

কর বৃদ্ধিতে অনিশ্চয়তায় পড়বেন গাড়ি আমদানিকারকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কর বৃদ্ধিতে অনিশ্চয়তায় পড়বেন গাড়ি আমদানিকারকরা

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে কর বাড়ায় এ খাতের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ অনিশ্চয়তায় পড়বে বলে জানিয়েছে বারভিডা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১ থেকে ১৫০০ সিসির পরিবর্তে ১ থেকে ১২০০ সিসি এবং ১২০১ থেকে ১৬০০ সিসি নামে নতুন স্ল্যাব নির্ধারণ করে জনপ্রিয় ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ির ওপর সামগ্রিক করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৯.৮০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কর বাড়লে ফুয়েলচালিত একটি রিকন্ডিশন্ড প্রিমিওর দাম প্রায় তিন লাখ টাকা এবং একটি অ্যাক্সিওর দাম আড়াই লাখ টাকার মতো বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্তের জন্য গাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়বে, ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা জানায়, সরকার বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে আমদানিতে উল্লেখযোগ্য শুল্ক ছাড় দিলেও দেশে এখনো পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এরই মধ্যে দেশে বিস্তৃত অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। তাই টেকসই পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভির পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়িকেও সমান নীতি সহায়তার আওতায় আনার আহবান জানায় সংগঠনটি।

বারবিডার দাবি, রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে। এ খাত থেকে বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যাংক, লিজিং ও বীমা খাতের সম্প্রসারণেও এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সরকার নতুন গাড়ির জন্য শুল্ক সুবিধা দিলেও একই সুবিধা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে দেওয়া হয়নি। বরং রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে, যা বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ নির্ধারণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়িকেও প্লাগ-ইন হাইব্রিডের মতো শুল্ক সুবিধা দেওয়ার দাবি জানায় বারভিডা। সংগঠনটির ভাষ্য, হাইব্রিড প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

তেলের দাম কমে ৮০ ডলার, স্বাভাবিক হয়নি হরমুজের মূল নৌপথ

বিকল্প পথে চলছে জাহাজ চার মাস পর তেলের বাজারে স্বস্তি

বাণিজ্য ডেস্ক
তেলের দাম কমে ৮০ ডলার, স্বাভাবিক হয়নি হরমুজের মূল নৌপথ

যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সর্বাত্মক হামলা চালানো শুরু করে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে আবারও ইরানে হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধে ইসরায়েলও জড়িত। কোনোভাবেই তারা লেবাননে হামলা বন্ধ করছে না। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে আবার ভেস্তে যেতে পারে স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা। তবে এসব আশঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ চার মাস পর সুসময়ের দেখা মিলেছে। হরমুজ প্রণালির মূল নৌপথ খোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দামও ৮০ ডলারে নেমে এসেছে।

হরমুজে পাতা ৮০ মাইন : আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি সচল হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স। কম্পানিটি জাহাজ চলাচলের গতিবিধি সম্পর্কে রিয়ালটাইমে ডেটা প্রদান করে। মাইন পেতে রাখার কারণে হরমুজ প্রণালির মূল নৌপথটি এখনো বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকলেও ইরান ও ওমানের জলসীমা দিয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ট্যাংকার মালিকদের বৈশ্বিক বাণিজ্য সংগঠন ইন্টারট্যাংকোয়ের পরিচালক ফিলিপ বেলচার জানান, মূল নৌপথটিতে ৮০টি মাইন পাতা রয়েছে। এগুলো না সরানো পর্যন্ত জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে চলতে হবে। কিছু জাহাজ ইরানের জলসীমার উত্তর দিক দিয়ে চলাচল করছে। অন্য জাহাজগুলো যাচ্ছে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ পাশ দিয়ে। জাহাজের যে জট তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিক হতেও দুই সপ্তাহ লেগে যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান অন্তত ৬০ দিনের জন্য নৌযান বা জাহাজ থেকে কোনো টোল নেবে না। জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেবে। এতে তেল, এলএনজি, সার ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেলের দাম ৮০ ডলার : গতকাল শনিবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৮০.৫৮ ডলারে নামে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৭৭.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে কোনো কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেস্তে গেলে হঠাৎ করে আবার ১০০ ডলারে পৌঁছতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম। ওপেক প্লাস তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করলে সেটাও চাহিদা ও জোগানের ওপর প্রভাব ফেলবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মোট চার মাস যুদ্ধ চলে। এ সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এই জলপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এক পর্যায়ে এপ্রিলের শেষে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১২০ ডলারে উঠে যায়। চুক্তি হতে পারেএই আলোচনা ঘিরে গত এক সপ্তাহে তেলের দাম ৮ শতাংশ কমেছে। বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও অন্তর্বর্তী চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

ইরানের তেলের বাজার : ২০১৮ সাল থেকেই ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের সময় ইরানের তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। চুক্তি হওয়ার পর পুনরায় রপ্তানির বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে ইরান। তেল বিক্রি থেকে ইরান বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করতে পারে। এতে দেশটির অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। সূত্র : সিএনবিসি

সাময়িক প্রণোদনা নয় প্রয়োজন শক্তিশালী নীতি সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাময়িক প্রণোদনা নয় প্রয়োজন শক্তিশালী নীতি সহায়তা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইলশিল্পকে টেকসইভাবে ঘুরে দাঁড় করাতে সাময়িক প্রণোদনার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা বেশি জরুরি। তিনি বলেন, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

গতকাল শনিবার গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

সাময়িক প্রণোদনা নয় প্রয়োজন শক্তিশালী নীতি সহায়তাবিটিএমএর সভাপতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিলের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংগঠনটি পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের করপোরেট করহার ১২ শতাংশ নির্ধারণ এবং নগদ সহায়তার বিপরীতে উৎস কর সম্কূর্ণ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন।

শওকত আজিজ রাসেল আরো বলেন, দেশীয় টেক্সটাইলশিল্পকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি শিল্প খাতকে নয়, বরং দেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ শিল্পায়নকে সুরক্ষা দেওয়া।

বিটিএমএ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত তুলে দিলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববাজারে ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হলে দেশীয় সুতা উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এই শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি
জানিয়েছে বিটিএমএ।

দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একই ভ্যালু চেইনে ন্যায্য করনীতি নিশ্চিত করতে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের করপোরেট করহার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন

৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে পিসিটি

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়বে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে স্থাপন প্রক্রিয়া শেষ হলে ক্রেনগুলো পুরোপুরি অপারেশনে যাবে নতুন এই ক্রেনগুলো ১৬ সারি কনটেইনার বিশিষ্ট বড় আধুনিক জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে পিসিটি

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর আরো এক ধাপ এগোতে যাচ্ছে আধুনিকায়নের পথে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) যুক্ত হয়েছে চারটি অত্যাধুনিক শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, যা টার্মিনালটির পরিচালন সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী জুলাই থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম শুরু হলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়বে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।

বিশেষায়িত এই ক্রেনগুলো নিয়ে আসা জাহাজ এমভি ল্যান হাই হং ইউন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে টার্মিনালের জেটিতে এসে পৌঁছে। জাহাজটি থেকে ক্রেনগুলো নিরাপদে খালাস করার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। পতেঙ্গা টার্মিনালের আশপাশে চলাচলকারী সমুদ্রগামী সব জাহাজ, কোস্টার, ট্যাংকার, মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে জেটি থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কর্ণফুলী চ্যানেলের পূর্ব দিক দিয়ে নৌযান চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাছির উদ্দিন জানান, জাহাজটি নিরাপদে জেটিতে ভেড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। হারবার মাস্টারের তত্ত্বাবধানে রাতেই সফলভাবে জাহাজটির বার্থিং (জেটিতে ভেড়ানো) সম্পন্ন হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের মেরিন সার্ভিস নিশ্চিত করা হয়। এখন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিউজিসিগুলো জেটিতে স্থাপন (ইনস্টল) ও কমিশনিংয়ের কাজ করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে ক্রেনগুলো পুরোপুরি অপারেশনে যাবে, যা পিসিটির কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

চীনের স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রির তৈরি এই চারটি ক্রেন টার্মিনালের জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। নতুন এই ক্রেনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা ১৬ সারি কনটেইনার বিশিষ্ট বড় আধুনিক জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে মূলত ১২ থেকে ১৩ সারির জাহাজ বেশি আসে।

আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, এই ক্রেনগুলো টার্মিনালের জন্য একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক। প্রতিটি ক্রেন একক কনটেইনার অপারেশনে ৪০ টন, টুইন-লিফট মোডে ৪৫ টন এবং বিশেষায়িত কার্গোর ক্ষেত্রে ৬০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম। চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চতা সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই এগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

এই ক্রেনগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুত্চালিত। আরএসজিটি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তির ফলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় থাকবে, যা পরিবেশ রক্ষায় এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। রেল ট্র্যাকে বসানো এই চারটি ক্রেন ব্যবহার করে টার্মিনালে একসঙ্গে দুটি জাহাজে কাজ করা সম্ভব হবে। জাহাজ থেকে ক্রেনগুলো পুরোপুরি খালাস হতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। এর আগে গত বছর ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৪টি রবার টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল আরএসজিটি।

পতেঙ্গা টার্মিনালটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক কনটেইনার)। তবে ২০২৫ সালে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখানে এক লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউএস কনটেইনার এবং ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডল করা হয়েছে, যা মূল সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৯৩ হাজার ৩৪০ টিইইউএস এবং আমদানি ছিল ৬১ হাজার ২২৪ টিইইউএস।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে আমদানি কনটেইনার পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় স্ক্যানার না থাকায় কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা ছিল। পরে মে মাসে আরএসজিটি নিজস্ব অর্থায়নে তিন মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে স্ক্যানার স্থাপন করলে কার্যক্রমের গতি বাড়ে। এরপর গত বছরের আগস্ট মাসে টার্মিনালটি রেকর্ড ২৪ হাজার ৫৯৯ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডল করে।

সৈয়দ আরিফ সারোয়ার আরো বলেন, আমরা ইজারা চুক্তির প্রথম দুই বছর অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করেছি, যাতে আগামী ২০ বছর টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে। নতুন এই এসটিএস ক্রেনগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে টার্মিনালটি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২২ বছরের চুক্তিতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ২০২৪ সালের জুন থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। নতুন এই বড় বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে আরো গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।