• ই-পেপার

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান

বাজার পুনরুদ্ধারের মধ্যে আমার কাজ সীমাবদ্ধ নয়

  • দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট, সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার করা, ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগকারী শিক্ষা বাড়ানো এবং বাজারের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের ভিত্তি গড়ে তোলার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হবে

প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে বিএসটিআইকে

শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল মুক্তাদীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে বিএসটিআইকে
প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মডেল পর্যালোচনা করে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করা হবে

১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশে হাজারও পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সেই মান বজায় রাখা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী দিনে বিএসটিআইকে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী আরো সক্ষম ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই অডিটরিয়ামে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ‘নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ ও নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিটস (এসআই) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির বিকাশে নির্ভুল পরিমাপ পদ্ধতি অপরিহার্য। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়নের প্রসার, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। বিএসটিআইয়ের টেক্সটাইল টেস্টিং ল্যাবরেটরির আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সক্ষমতা দেশের পোশাকশিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মডেল পর্যালোচনা করে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করা হবে। একটি দেশের উৎপাদন ও ভোগ পর্যায়ের পণ্যের মান নিয়ে মানুষের আস্থা থাকতে হবে। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহারের সব পণ্য সঠিক মানদণ্ডে উৎপাদিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই দায়িত্ব পালনে বিএসটিআই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।’

 

ফেরত যাচ্ছে ৬১ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এড়াতে এই পদক্ষেপ ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি স্থানীয় শিপিং এজেন্সি সোলার শিপিং লাইনসের মাধ্যমে আমদানি করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ফেরত যাচ্ছে ৬১ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজ

চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং শিল্পে ভাঙার জন্য আমদানি করা প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের ‘মেমেই’ নামের একটি স্ক্র্যাপ (পুরনো) জাহাজ ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটি বাংলাদেশ জলসীমা ছেড়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছে। এর ছয় দিন পর ২৮ মে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। ফলে জাহাজটি বর্তমানে আনোয়ারা উপকূল সংলগ্ন চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করলেও সেটিকে আমদানিকারকের শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের এসএন করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান স্ক্র্যাপ হিসেবে ব্যবহারের জন্য জাহাজটি কিনে এনেছিল। মেমেই নামের জাহাজটি স্থানীয় শিপিং এজেন্সি সোলার শিপিং লাইনসের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এভার শাইনিং লিমিটেডের মালিকানাধীন এই জাহাজটির ক্রয়মূল্য ছিল ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি টাকার সমান। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ পতাকাবাহী জাহাজটি মূলত সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এর ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার ৮০০ টন।

মার্কিন প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের আওতায় একই কম্পানির ‘ফ্লোরা’ নামের আরো একটি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো মেমেই জাহাজটিকে শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

এসএন করপোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন ম্যানেজার) ওমর ফারুক বলেন, আন্তর্জাতিক ও আইনি জটিলতার কারণে জাহাজটিকে বর্তমানে সৈকতে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সোলার শিপিং লাইনসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি সম্পন্ন করতে আরো প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আমরা নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নিয়ে এসেছিলাম। পরে ওই কম্পানিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। এতে বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বড় আর্থিক ক্ষতি না হলেও ভবিষ্যতে জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকতে হবে।’

গ্রামবাংলার সঞ্চয়ে ভর করে এগোচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং

৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল আমানত

নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রামবাংলার সঞ্চয়ে ভর করে এগোচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং

দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাংকিং সেবার বিস্তার এজেন্ট ব্যাংকিং খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ক্ষুদ্র সঞ্চয়, সহজ লেনদেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার কারণে এ খাতে আমানতের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে একদিকে যেমন ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন নতুন গ্রাহকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে, চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি ৮৯ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ে আমানত বেড়েছে ৮৪২ কোটিরও বেশি, যা খাতটির ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ও গ্রাহক আস্থার প্রতিফলন।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট আমানতের বড় অংশই বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে আটটি ইসলামী ব্যাংকের দখলে রয়েছে ২৭ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের অর্ধেকেরও বেশি। এককভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আমানতই ২২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা, যা পুরো খাতের প্রায় অর্ধেক। এ ছাড়া তিন হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা আমানত নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।

অন্যদিকে প্রচলিত ধারার বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ খাতে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, যার আমানত সাত হাজার ৯০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ব্যাংক এশিয়া, তাদের আমানত ছয় হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এক হাজার ৬২৪ কোটি টাকা নিয়ে তৃতীয় এবং সিটি ব্যাংক এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর উপস্থিতি এ খাতে খুবই সীমিত। মোট আমানতের মাত্র ৮৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের, যার পুরোটাই সোনালী ব্যাংকের।

হিসাবধারীর সংখ্যায়ও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যেখানে হিসাব ছিল দুই কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার, মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজারে। তিন মাসে নতুন হিসাব যুক্ত হয়েছে ছয় লাখ ৩১ হাজারের বেশি। এতে বোঝা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নতুন গ্রাহক দ্রুত যুক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৩ সালে ইউএনডিপির সহায়তায়। একই বছর নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ব্যাংকও এই সেবায় যুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহজে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে, ক্ষুদ্র সঞ্চয় আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে এবং নারীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে এই সেবা বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে কিছু সতর্কতার ইঙ্গিতও রয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা সামান্য কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি খাতটির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য একটি সতর্কসংকেত হতে পারে এবং এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে আমানত ও হিসাব বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের আর্থিক খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। তবে এর স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তদারকি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশের ২০ শতাংশ সিইও জানান

এআই ব্যবহারে কম্পানির আয় বেড়েছে

বাণিজ্য ডেস্ক
এআই ব্যবহারে কম্পানির আয় বেড়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভবিষ্যতের কোনো কল্পিত প্রযুক্তি নয়, বরং এটি দ্রুত পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) ২৯তম সিইও জরিপের বাংলাদেশ সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বড় কম্পানিগুলোর ২০.৫ শতাংশ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানান, এআই গ্রহণের ফলে গত ১২ মাসে তাঁদের কম্পানির রাজস্ব আয় বেড়েছে। ২৫.৬ শতাংশ সিইও জানান, এআই ব্যবহারের ফলে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমেছে।

জরিপে দেখা গেছে, এআই ব্যবহারের ফলে ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে দৃশ্যমান ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, বিশেষ করে বাজার সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানজুড়ে এআই বাস্তবায়নের পথ এখনো দীর্ঘ। মাত্র ৪০ শতাংশ সিইও জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সুস্পষ্ট এআই রোডম্যাপ রয়েছে। আর পাঁচজনের মধ্যে একজনেরও কম মনে করেন, তাঁদের এআই টুলগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথিতে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনার ঘাটতি, সীমিত বিনিয়োগ এবং দক্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের অভাব এআই গ্রহণের গতি কমিয়ে দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এ কে খান অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেডের গ্রুপ সিইও আসিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানজুড়ে এআই এখন আর পরীক্ষামূলক কোনো উদ্যোগ নয়, বরং বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূলভিত্তি হয়ে উঠেছে। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে সফল বাস্তবায়নে যেতে হলে আমাদের মতো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। যেমন—একটি সুস্পষ্ট এআই রোডম্যাপ, সঠিক ডেটা অবকাঠামো এবং কার্যকর পরিচালন ব্যবস্থা।’

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের ৪৫ জন সিইওর মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালনা করে পিডব্লিউসি।

জরিপ অনুযায়ী, এআই ব্যবহারের ফলে কিছু জুনিয়র ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরির সুযোগ কমতে পারে। তবে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা পদগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পরিবর্তে আরো সক্ষম হয়ে উঠবে। এ কারণে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মীদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এআই বিপ্লবের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন খাতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখাচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সিইও জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে তাঁদের প্রতিষ্ঠান নতুন শিল্প বা খাতে ব্যবসা শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।

দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক পরিবেশে ঝুঁকি কমানো এবং নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বহুমুখীকরণের আর্থিক সুফল এখনো সীমিত। মাত্র ১৫ শতাংশ সিইও জানিয়েছেন, তাঁদের মোট আয়ের ২০ শতাংশের বেশি নতুন খাত থেকে আসছে। ফলে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন খাতে টেকসই সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং সেই সক্ষমতা নিজস্বভাবে তৈরি করা, অধিগ্রহণ করা, নাকি অংশীদারির মাধ্যমে অর্জন করা হবে, সে বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থাকলেও দেশের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী রয়েছেন বেশির ভাগ সিইও। দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সিইও মনে করেন, আগামী ১২ মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি মাঝারি থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। তবে একই সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।

মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও ব্যাবসায়িক উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪৪ শতাংশ সিইও জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যাবসায়িক আলোচনায় গুরুত্ব পেলেও তা এখনো প্রতিষ্ঠানের মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান পণ্য উন্নয়নে জলবায়ু বিবেচনা করছে, তবে সরবরাহব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে এর প্রভাব এখনো সীমিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই গ্রহণ, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং নতুন খাতে প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এআই সক্ষমতা, উদ্ভাবনী সংস্কৃতি, জলবায়ু সংবেদনশীল ব্যাবসায়িক কৌশল এবং সুশাসনকাঠামো আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

পিডব্লিউসির এই জরিপে বাংলাদেশের ৪৫ জন সিইও অংশ নেন। বৈশ্বিক পর্যায়ে ৯৫টি দেশ ও অঞ্চলের মোট চার হাজার ৪৫৪ জন সিইওর মতামতও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।