১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশে হাজারও পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সেই মান বজায় রাখা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী দিনে বিএসটিআইকে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী আরো সক্ষম ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই অডিটরিয়ামে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ‘নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ ও নির্ভুল পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিটস (এসআই) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির বিকাশে নির্ভুল পরিমাপ পদ্ধতি অপরিহার্য। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়নের প্রসার, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। বিএসটিআইয়ের টেক্সটাইল টেস্টিং ল্যাবরেটরির আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সক্ষমতা দেশের পোশাকশিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মডেল পর্যালোচনা করে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করা হবে। একটি দেশের উৎপাদন ও ভোগ পর্যায়ের পণ্যের মান নিয়ে মানুষের আস্থা থাকতে হবে। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহারের সব পণ্য সঠিক মানদণ্ডে উৎপাদিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই দায়িত্ব পালনে বিএসটিআই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।’




