রাজপথ কাঁপানো মিছিল, ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি, উত্তাল দিন। বাবা কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে খুঁজছেন তাঁর সন্তানকে—‘খোকা কোথায়? ফিরে আয় ঘরে।’ আজও সেই দৃশ্য অমলিন। বাবা ছিলেন হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কখনো প্রাইভেট টিউশনি করতেন না, কিন্তু নিয়মিত ছাত্রদের পড়াশোনায় সাহায্য করতেন। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বাবা জানতেন, কিন্তু কখনো নিষেধ করেননি। সংঘর্ষের খবর পেলেই উৎকণ্ঠিত হয়ে আমাকে খুঁজতে বের হতেন। কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় প্রতিদিন ভোরে প্রচারণায় বের হতাম। সকালে বালিশের নিচে কিছু টাকা পেতাম, বাবা নীরবে রেখে যেতেন। নির্বাচনের দিন নিজের জামা দিয়ে বলেছিলেন কোনো গরিব মানুষকে তা দান করতে। পরে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির দায়িত্ব নিয়ে পুরনো বই সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মৃত্যুর পরও লাইব্রেরিতে তাঁর ব্যবহৃত কিছু জিনিস পাওয়া যায়। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সততা, আদর্শ, আমার পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে। মনে হয়, তিনি এখনো কোথাও দাঁড়িয়ে আগের মতোই ডাকছেন, ‘খোকা, সাবধানে থাকিস।’
সাব্বির আহমেদ মিঠু, হবিগঞ্জ




