অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলী আকবর খান পিআরএলের (অবসর-পূর্ব ছুটি) আবেদন করেছেন। দায়িত্ব পাওয়ার তিন দিনের মাথায় স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য আবেদন করেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরাল আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ সদর দপ্তর।
এর আগে গত ১ জুন সিআইডির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) সচিব বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন সিআইডিপ্রধান। এতে পদোন্নতিতে বঞ্চিত হওয়া এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের পাঁচজন ডিআইজিকে অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় আলি আকবর খানের নাম না থাকায় তাঁর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় তিনি পিআরএলের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন আলি আকবর খানের ১৫তম ব্যাচের সহকর্মী, বাকি তিনজন ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
আবেদনপত্রে আলি আকবর খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাঁকে ওএসডি করা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
তিনি লিখেছেন, নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে তিনি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর নিতে ইচ্ছুক।
আবেদন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে তার এ অবসর কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন আলি আকবর খান। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) মঞ্জুরের জন্যও আবেদন করেছেন এই কর্মকর্তা।
এদিকে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে আলি আকবর খান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

