কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জাহাঙ্গীর মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাঁরা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, জাহাঙ্গীর মিয়া হত্যার ঘটনাটি অনেকটা ‘ক্লুলেস’ ছিল। এ ঘটনায় করা মামলার রহস্য উদঘাটনে ১১ বার তদন্ত চলে। এরপর এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শহীদ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী হুসনা খাতুন। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই এ তথ্য দেয়।
পিবিআই জানায়, গত বছরের ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর মধ্যপাড়া এলাকার ঘাসক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা দিলুয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। পরে পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়। গত ১ জুন হুসনা খাতুন নামের এক নারীকে কুলিয়ারচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৪ জুন মামলার মূল আসামি শহীদ মিয়াকে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই বলছে, নিহত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে হুসনা খাতুনের দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শহীদ মিয়া তাঁর স্ত্রী হুসনাকে খড় আনতে পাঠান। এ সময় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নিকটস্থ নেপিয়ার ঘাসক্ষেতে হুসনার শারীরিক সম্পর্ক হয়। বিষয়টি টের পেয়ে শহীদ মিয়া ছুরি নিয়ে সেখানে গিয়ে তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান।
এক পর্যায়ে শহীদ মিয়া জাহাঙ্গীরকে পিঠ ও পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীরের নিহত হন। পরে মরদেহের হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে চলে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।