বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি দেশীয় বীজ। কিন্তু হাইব্রিড বীজের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে বহু দেশীয় ধান, শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসলের বীজ হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় সহজলভ্য তুলসীমালা, কাটারিভোগ, পাটনাই কিংবা গোবিন্দভোগের মতো জাতগুলো আজ অনেক এলাকায় খুঁজে পাওয়াই কঠিন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ধানি জমির ৮১ শতাংশে এখন উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হচ্ছে, যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ। কৃষি গবেষকদের হিসাবে বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার দেশীয় জাতের ধান হারিয়ে গেছে।
এই ক্ষতি শুধু কৃষি ঐতিহ্যের নয়। দেশীয় জাতগুলো স্থানীয় মাটি ও জলবায়ুর সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ফলে রোগ-বালাই ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবেলায় এগুলো তুলনামূলক সক্ষম। হাইব্রিড জাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মাটির স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। তবে নাটোর, যশোর ও রাজশাহীর মতো কিছু এলাকায় কৃষকরা এখনো ব্যক্তি উদ্যোগে দেশীয় বীজ সংরক্ষণ করছেন। এই বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে জাতীয় নীতির আওতায় আনতে হবে এবং বীজ ব্যাংক গড়ে তুলতে হবে।
সুমনা আক্তার
শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ




