বর্তমানে দেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তরুণদের ওপর এই নেতিবাচক প্রভাবের বড় কারণ হচ্ছে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে, আর্থিক সংকটে পড়ছে, মানসিক অবসাদে ভুগছে, অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাই অনলাইন জুয়ায় তরুণদের একমাত্র কারণ নয়, বরং বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অসচেতনতা, পারিবারিক তৎপরতার অভাব ও রাষ্ট্রীয় আইনের শিথিলতা সমানভাবে দায়ী। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি, অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে তরুণদের সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মোছা. মায়া আক্তার
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা




