• ই-পেপার

বালুঘাট বন্ধ : কর্মহীন হাজারো শ্রমিক

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম

বর্তমানে দেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তরুণদের ওপর এই নেতিবাচক প্রভাবের বড় কারণ হচ্ছে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে, আর্থিক সংকটে পড়ছে, মানসিক অবসাদে ভুগছে, অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেটের  সহজলভ্যতাই অনলাইন জুয়ায় তরুণদের একমাত্র কারণ নয়, বরং বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অসচেতনতা, পারিবারিক তৎপরতার অভাব ও রাষ্ট্রীয় আইনের শিথিলতা সমানভাবে দায়ী। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি, অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে তরুণদের সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মোছা. মায়া আক্তার

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

ইছামতীর পারে অবৈধ তৎপরতা

ইছামতীর পারে অবৈধ তৎপরতা

সাতক্ষীরায় ইছামতী নদীর পারে প্রকাশ্যে চলছে বেআইনি কর্মকাণ্ড। বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু চক্র নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ কেটে কিংবা ফুটো করে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি ওঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। কালীগঞ্জের শুইলপুর থেকে দেবহাটার ভাতশালাসহ ইছামতী নদীর বিভিন্ন অংশে বর্তমানে এমন অসংখ্য অবৈধ পাইপের অস্তিত্ব দেখা যায়। কোথাও বাঁধ কেটে, কোথাও আবার বাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি মাছের ঘেরে বা চিংড়ি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবছর সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই আলোচনা হয়, এর পেছনে অবৈধ কর্মকাণ্ড দায়ী। আরেকটি ভয়াবহ প্রভাব পড়ে কৃষিতে। লবণাক্ত নদীর পানি যখন বাঁধ ভেঙে ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে, তখন শুধু একটি মৌসুম নয়, সেই জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং সর্বোপরি স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তরিকুল ইসলাম

সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী

পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি

পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছে না। প্রতিবছর পাবলিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় না। গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হারটি ৭ শতাংশ বেড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় অশনিসংকেত। শিক্ষার্থীরা কেন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে নাএটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এক গভীর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত। দারিদ্র্যের কশাঘাত, পারিবারিক বিপর্যয় এবং শিক্ষাসামগ্রীর দুষ্প্রাপ্যতা অনেককে ঝরে পড়তে বাধ্য করছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় অনেকের মাঝে পরীক্ষার ভীতি তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় কেন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালানো জরুরি। ঝরে পড়া রোধে কাউন্সেলিং, বৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ও মানসিক সাহস জোগাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সরফরাজ শিপন

শিক্ষার্থী, সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজ, বগুড়া

অস্তিত্ব সংকটে বেঙ্গল টাইগার

অস্তিত্ব সংকটে বেঙ্গল টাইগার

বেঙ্গল টাইগার আমাদের জাতীয় অহংকার। কিন্তু আজ সেই অহংকার বিলুপ্তির প্রান্তে। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, চোরাশিকার ও খাদ্যসংকটের কারণে সুন্দরবনে ক্রমেই কমছে এই প্রাণীর সংখ্যা। খাদ্যাভাবে বাঘ প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ ও বাঘ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বাঘগণনায় সংখ্যা কিছুটা ইতিবাচক দিক দেখা গেলেও চোরাশিকারিদের ফাঁদ এবং বনের ভেতর অনিয়ন্ত্রিত নৌযান চলাচলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বাঘ।

বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঘ না থাকলে সুন্দরবনে হরিণ ও অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা লাগামহীনভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে তারা বনের নতুন গজানো কচি চারা গাছ খেয়ে ফেলবে এবং ধীরে ধীরে সবুজহীন হয়ে পড়বে সুন্দরবন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, ড্রোনের সাহায্যে স্মার্ট প্যাট্রলিং, বাঘের আবাসস্থল সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে সংকট নিরসনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এ ছাড়া চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত অপরিহার্য।

নূর ছানজিদাহ স্মৃতি

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়