• ই-পেপার

ভৈরবে বাজারের নাম নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২

  • গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে পুলিশ কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার
  • আরো ৫ জেলায় ৪ খুন, ২ লাশ উদ্ধার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক পিছিয়ে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক পিছিয়ে আজ

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের বৈঠক এক দিন পিছিয়ে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দপ্তরে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে মাননীয় স্পিকার মহোদয়ের সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বে ফুল কমিশন সাক্ষাৎ করবে।

গতকাল সিইসি ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। রবিবার ইসি সচিবালয় থেকে স্পিকারের সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। সংসদ সচিবালয় থেকেও ইসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও সোমবার সকালে সেই বৈঠক স্থগিত করা হয়। ইসি, সংসদ সচিবালয় ও সিইসির দপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকালের বৈঠক স্থগিতের কারণ হিসেবে জানা গেছে, এদিন সকালে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ কারণে সিইসির সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের বৈঠকটি স্থগিত করে এক দিন পেছানো হয়েছে।

নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে সিইসিকে সাক্ষাৎ করতে হয়। সাক্ষাতে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সংসদের বৈঠক নিশ্চিত করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই আইনের ৫ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এর আগের নির্বাচনগুলোতে স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ পর্ব শেষ হওয়ার পর দু-এক দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

তবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রয়োজন হয় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হলেই একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করলেই জানা যায় কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর আগে গত রবিবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিক পর্যালোচনা করেন তাঁরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে স্পিকারের সাক্ষাৎ চাওয়া হয়।

ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে পাঁচ বিভাগে

সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে পাঁচ বিভাগে
টাঙ্গাইলে যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট জেলার কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আগামী তিন দিনের মধ্যে উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির এক বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানির স্তর কমেছে এবং আগামী তিন দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুলেটিনে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির স্তর কমেছে এবং আগামী দুই দিন তা আরো কমতে পারে। এরপর পরবর্তী তিন দিন পানির স্তর মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানির স্তর গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল এবং আগামী পাঁচ দিনও তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম অঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর কমেছে। আগামী এক দিনে এসব নদীর পানির স্তর কিছুটা বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে। রংপুর অফিস জানায়, তিস্তা নদীতে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, পাহাড়ি ঢলে পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে : সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সিলেটে সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ৩৫.৫ ডিগ্রি। তীব্র খরতাপে সিলেট যখন পুড়ছে তখন এর নদ-নদীগুলোর পানি বেড়ে কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করে আছে, কোথাও বিপৎসীমার কাছাকাছি। জেলার বাকি ১১ পয়েন্টের মধ্যে ৪ পয়েন্টেই নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটারের কম দূরত্বে অবস্থান করছে। ভারতের আসামে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় খরতাপের মধ্যেও বন্যাঝুঁকিতে সিলেট।

জেলার নদ-নদীগুলোর দৈনিক পানি সমতলের পরিমাপসংক্রান্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে দেখা গেছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি সোমবার সন্ধ্যা ৬টার রেকর্ড অনুযায়ী বিপৎসীমার পয়েন্ট ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য পয়েন্টগুলোতে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। অন্তত চার পয়েন্টে যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার পয়েন্ট ৮১ সেন্টিমিটার, সিলেটের জকিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার পয়েন্ট ৯৪ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার পয়েন্ট ৮৮, শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার পয়েন্ট ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সেখানে নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু স্থান প্লাবিত হয়েছে। পাউবো বলছে, ভারতের মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের নদ-নদীর পানি বেড়ে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকায় বন্যার আশঙ্কা কম। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের আসামের বন্যার পানি নামছে; যে কারণে সুরমা ও কুশিয়ারায় পানি বেড়ে রয়েছে। তবে আপাতত নতুন করে সিলেট কিংবা ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারি বর্ষণের কোনো পূর্বাভাস নেই। তাই সিলেট অঞ্চলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা কম।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস : উত্তর-বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপকূল দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করেছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় উপকূলীয় তিন বিভাগ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানায় আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপটি আরো ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপকূল দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করেছে। গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপকূল দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে আজ মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এবং আগামীকাল বুধবার উত্তরাঞ্চলে মাঝারি আকারের ভারি বৃষ্টিপাত হবে।

মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে যাঁরা ফ্যাসিবাদের দল বলেন, তাঁদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
বিএনপিকে যাঁরা ফ্যাসিবাদের দল বলেন, তাঁদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপিকে যাঁরা ফ্যাসিবাদের দল বলেন, তাঁদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে বিএনপির গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহবান জানিয়ে বলেন, নিজেদের দল কতটা গণতান্ত্রিক, সেটিও মূল্যায়ন করা উচিত।

গতকাল সোমবার রংপুর নগরীর টার্মিনাল রোডে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যাঁরা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলেন, তাঁরা বিএনপির ইতিহাস ও গঠনতন্ত্র সম্পর্কে জানেন না। বিএনপি গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছে। তাই এ ধরনের মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি তাঁকে বলব, আগে বিএনপির গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়ে দেখুন, এরপর মন্তব্য করুন। একই সঙ্গে নিজেদের দল কতটা গণতান্ত্রিক, সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি পদে দলের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কবে হবে, প্রার্থীদের যোগ্যতা কী হবে কিংবা নির্বাচনী বিধিমালা কিভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সরকার কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। তিনি জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিকে আরো উৎপাদনমুখী ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে সুদমুক্ত ঋণ, সহজ বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। সরকারের চার মাসের মধ্যে কৃষি উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০ কোটি মানুষের দেশে সবকিছু সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। প্রত্যেককে সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইন আরো কঠোর করা হয়েছে এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালকে এরই মধ্যে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। হাসপাতালের অবকাঠামো, জনবল ও চিকিৎসাসেবার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা পর্যায়ক্রমে দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

প্রবাসী কার্ডে স্মার্ট পরিচয়ের পাশাপাশি বাড়বে রেমিট্যান্স

আবদুল্লাহ আল মিরাজ
প্রবাসী কার্ডে স্মার্ট পরিচয়ের পাশাপাশি বাড়বে রেমিট্যান্স

প্রবাসীদের জন্য আগামী মাসে চালু হতে যাওয়া প্রবাসী কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; বরং সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, আন্তর্জাতিক মানের ইএমভি চিপসংবলিত এ কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবা পাওয়া সহজ হবে, বাড়বে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগও। এ লক্ষ্যে কার্ডটির সেবা ও বাস্তবায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করতে কাজ করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক কার্ডটির কারিগরি ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে কাজ করছে।

প্রতিবছর কয়েক লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যান। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার শুরু থেকে দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত নানা ধরনের ভোগান্তি, দালালের প্রতারণা, ব্যাংকিং জটিলতা এবং সরকারি সেবা পেতে হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বিমানবন্দর, আর্থিক লেনদেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবায় এসব সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এই কার্ড চালু হলে বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা না করে প্রবাসীরা ব্যবহার করতে পারবেন আলাদা ইমিগ্রেশন বুথ। দেশে-বিদেশের বিমানবন্দরে মিলবে বিনামূল্যে লাউঞ্জ সুবিধা ও মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা। সরকারি হাসপাতালে থাকবে বিশেষ সেবা, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে মিলবে ছাড়।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করার উদ্যোগ : বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এখনো বিভিন্ন কারণে হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠান। ব্যাংকে যেতে সময় লাগে, অনেক এলাকায় শাখা নেই, আবার ছুটির দিনেও লেনদেন করা যায় না। ফলে অনেকেই সহজ বিকল্প বেছে নেন।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকই ডুয়েল কারেন্সি হিসাব পরিচালনার সুবিধা দিচ্ছে। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই প্রবাসীদের জন্য নতুন সেবা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আরো বেশি পরিমাণে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রথম পর্যায়ে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে জর্দানে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার নারীকর্মীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তবে কোন শ্রেণির প্রবাসীরা কিভাবে এই কার্ড পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই কার্ড ইস্যু করা হবে। কার্ড পেতে হলে জনতা ব্যাংকে হিসাব, বৈধ পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং বিএমইটির স্মার্ট কার্ড থাকতে হবে।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা কার্যকর সেবা : সৌদি আরবপ্রবাসী সাকিফ বলেন, আমরা লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী সৌদি আরবে কাজ করছি। দেশে আসা-যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। কষ্টার্জিত অর্থ সহজে দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানির শিকার হতে হয়। আমরা এসব ভোগান্তির অবসান চাই। সরকার এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বলে আশা করি। আরো কয়েকজন প্রবাসী বলেন, এর আগে বিএমইটির স্মার্ট কার্ড চালু হলেও সেটির ব্যবহার সীমিত ছিল। বাস্তবে খুব বেশি সুবিধা না পাওয়ায় নতুন কার্ড নিয়েও তাঁদের প্রত্যাশার পাশাপাশি কিছুটা সতর্কতাও রয়েছে। তাঁদের মতে, ঘোষিত সুবিধা বাস্তবে নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন কার্ডও আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হবে। এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিনির্ভর এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা অন্তত ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।

সফলতার শর্ত কার্যকর বাস্তবায়ন : অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, নতুন কোনো উদ্যোগ চালুর ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বলে শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের মতামত নেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একজন কর্মী বিদেশে যাওয়ার আগে, বিদেশে অবস্থানকালে এবং দেশে ফেরার পরপুরো অভিবাসন চক্রজুড়েই যেন এই কার্ড ব্যবহার করতে পারেন, সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। আসিফ মুনীরের ভাষায়, অতীতে বিএমইটির স্মার্ট কার্ড মূলত বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে। অধিকাংশ কর্মীর কাছে সেটির আলাদা কোনো কার্যকারিতা ছিল না। তাই নতুন প্রবাসী কার্ডের সঙ্গে আগের কার্ডের পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। তিনি আরো বলেন, প্রবাসী কার্ডধারীরা যদি অন্য নাগরিকদের মতো একই ধরনের সেবা পান, তাহলে এই কার্ড ব্যবহারে আগ্রহ তৈরি হবে না। হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর, ঋণ, তথ্যসেবা কিংবা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বা ফাস্ট-ট্র্যাক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই কার্ডটির বাস্তব মূল্য তৈরি হবে।

নিয়মিত তদারকির ওপর নির্ভর করবে সফলতা : অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু কার্ড ইস্যু করলেই উদ্যোগ সফল হবে না। ঘোষিত সুবিধাগুলো বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, সেবার মান বজায় থাকছে কি না এবং প্রবাসীরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছেন কি নাএসব বিষয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

তাঁদের মতে, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্রবাসী কার্ড শুধু প্রবাসীদের হয়রানি কমাবে না; বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, সরকারি সেবা সহজ করা এবং প্রবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।