আমাদের বন্ধু আতিক। তার বড় চাচার অদ্ভুত এক রোগ হয়েছে। ইংরেজিতে খুব খটমট একটা নাম। যার বাংলা হচ্ছে বিষণ্নতা রোগ। তিনি হাসতে ভুলে গেছেন। ডাক্তার বলেছে তাঁকে মজার মজার সিনেমা দেখাতে। ঘুরতে নিয়ে যেতে। আমরা তাঁকে দারুণ সব সিনেমা দেখালাম। হাসতে হাসতে আমরা গড়িয়ে পড়ি, উনি ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থাকেন। ওনাকে হাসির বই পড়তে বলা হলো। আমরা লাইব্রেরিতে গিয়ে হাসির বই এনে দিলাম। তিনি বই পড়ে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেললেন। বিড়বিড় করে বললেন, 'রাবিশ!' আমরা শুনলাম খবিশ। 'এক কাজ করলে কেমন হয়?' বন্ধু তন্ময় বলল, 'রনি ভাইকে নিয়ে এলে কেমন হয়?' 'কোন রনি ভাই?' 'ওই যে স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান। ওনার জোকস শুনে তোর চাচা হাসতে বাধ্য।' 'আরে মি. বিনকে আনলেও কাজ হবে না। আতিকের চাচার হাসির জন্য যে নার্ভ কাজ করে, ওইটার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।' ফোড়ন কাটল সাকিব। কিন্তু সাকিবের কথা আমরা পঃৎষ+উ চেপে রিসাইকেল বিনে ফেলে দিলাম। পরদিন নিয়ে এলাম আমাদের ভার্সিটির রনি ভাইকে। তিনি এসেই চাচাকে সালাম দিয়ে বললেন, 'চাচা কী অবস্থা?' 'এই তো চলছে।' 'সাবধানে চালাবেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা তো ভালো না।' রনি ভাইয়ের কথা শুনে আমরা হেসে ফেললাম। চাচা মুখ গম্ভীর করে ফেলল। আমরা রনি ভাইকে ইশারা করলাম। উনি জোকস শুরু করে দিলেন। 'এক লোকের বাসায় রাতে নক হলো। ঠক ঠক। কে? আমরা পুলিশ। কী চাই? কিছু কথা বলার ছিল। কয়জন আপনারা? তিনজন। তাহলে আমাকে কেন? নিজেদের মধ্যেই কথা বলে নিন।' আমরা হো হো করে উঠলাম। বড় চাচা বিড়বিড় করল, 'খবিশ!' আমরা বুঝলাম ওইটা রাবিশ বলতে চেয়েছে। এভাবে রনি ভাই আরো জোকস শোনালেন। মজার মজার ওয়ানলাইনার বললেন। আমরা হাসতে থাকলাম, বড় চাচা ফিসফিস করতে লাগল-রাবিশ, খবিশ! হাল ছেড়ে, পাল তুলে দিয়ে রনি ভাই চলে গেলেন। যাওয়ার সময় বলে গেলেন, 'আমার জোকস শুনে সুন্দরবনের বাঘও হেসে ফেলতে পারে। তোমার চাচাকে হাসানো অসম্ভব।' তারপর একদিন। আতিকদের বাসায় আমরা ক্যারম খেলছি। হঠাৎ শুনি তার বড় চাচার রুম থেকে হা হা হা হাসির, না না অট্টহাসির শব্দ। আমরা দৌড়ে গেলাম। রান্নাঘর থেকে ধড়াস-ধড়াস পাতিল ফেলে এলো আতিকের মা। দেখি চাচা পেট চেপে হাসছেন। আমরা অবাক বিস্ময়ে স্তব্ধ। 'কী হলো চাচা?' ফিসফিস করল আতিক। হাসতে হাসতেই আতিকের বড় চাচা পেপারে একটা খবর দেখালেন। আমরা সবাই সেই খবরের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লাম। খবর : অমুক এলাকায় গতকাল সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। স্থানীয় মেয়র বললেন, 'কেউ মনে হয় বিদ্যুতের টাওয়ার ধরে নাড়াচাড়া করেছে!'