• ই-পেপার

বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

উক্তি

উক্তি

বাজেটে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি খাত গতি ফিরে পাবে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, বাণিজ্যমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার কিছু নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার কিছু নেই
সালাহউদ্দিন আহমদ

পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিরোধী দল যেসব অভিযোগ তুলেছে তাতে আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর যেকোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক দলের মতামত ও প্রতিবাদ প্রকাশের অধিকার রয়েছে। সেটা আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যরা তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছেন। সেটা করতে পারেন। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই। গতকাল রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং সমসাময়িক ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদাধিকার বলে দায়িত্ব পালনকালীন সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সাংবিধানিক সুরক্ষা (ইমিউনিটি) পেয়ে থাকেন, তা বলবৎ থাকবে। তা ছাড়া আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এসএসএফ, পিজিআর ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পত্রিকায় দেখেছি। কী তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো পত্রিকা এমন একটি সংবাদ দিল, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন। তবে সরকারের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

মতিঝিল মেট্রো রেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস উদ্ধার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উল্টো রথযাত্রা বা কোনো বিশেষ ধর্মীয় উৎসবকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়েছেএমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই; বরং এটি কাকতালীয়। তিনি বলেন, ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের তৎপরতায় তা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাঁরা সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে যাঁরা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবায় ব্যাঘাত ঘটাবেন বা অপকর্মে লিপ্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনপ্রত্যাশা ও জন-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পুরস্কার ও তিরস্কার নীতি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তাড়াহুড়া করে তৈরি করা প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পুলিশ পদক প্রদান করা হবে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান। অনুষ্ঠানে দুটি ভিন্ন সাহসিকতা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।

আজ ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে কাল

মাসুদ রায়হান পলাশ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে কাল

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের মধ্যে আজ সোমবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দপ্তরে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠক নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। সকাল ১১টার দিকে নির্বাচন ভবন থেকে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন সিইসি। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে সিইসিকে সাক্ষাৎ করতে হয়। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সংসদের বৈঠক নিশ্চিত করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ আইনের ৫ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগের নির্বাচনগুলোতে স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ পর্ব শেষ হওয়ার পর দু-এক দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন। তাঁদের ধারণা, আগামী মঙ্গলবার তফসিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সে রকম প্রস্তুতিই রয়েছে।

গতবার ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিন ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটগ্রহণের তারিখ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান ছিল ২৫ দিন। তবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রয়োজন হয় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হলেই একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করলেই জানা হয়ে যায় কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে, সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠক হবে। তবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যস্ত মানুষ। উনি যখন বলবেন, সে সময় সাক্ষাৎ হবে। তবে সংসদ ও ইসি সচিবালয় আজ এ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত শুক্রবার বিকেলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ শীর্ষক ওই পত্রে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পালন করবেন। আর ওই সময় পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। গতকাল সংসদ সচিবায়লকে চিঠি দিয়ে সিইসি ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সাক্ষাৎ চান। কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ইসি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সাক্ষাৎ চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিক পর্যালোচনা করেন তাঁরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে স্পিকারের সাক্ষাৎ চাওয়া হয়।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে বলে, ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও সিইসি বৈঠকে বসবেন। ইসি সচিবালয় সূত্রও একই তথ্য জানায়।

সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

সদ্যোবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ আজাদি পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়েরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আজাদি পার্টির আহ্বায়ক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত এত লোককে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে; কোনো দিন প্রতিবাদ করেননি সাবেক এই দুই রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধে তাঁদের মৌন সম্মতি ছিল।

সংগঠনটির প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, গুম, খুন, আয়নাঘরসহ বাংলাদেশে যতগুলো গণহত্যা হয়েছে, যতগুলো নারকীয় ঘটনা ঘটেছে, সব ঘটনার সময় এই দুজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতিরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন, সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। এই অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ওই ক্ষমতার অংশ হয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন। এই দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি এই অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না।

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে শুধু সদ্যোবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাই তুলে ধরেছেন অভিযোগে। এতে বলা হয়েছে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে গুম করা হয়। পরদিন ১৯ জানুয়ারি বাংলামোটর এলাকায় তাঁকে ফেলে রেখে যায়। অভিযোগে সদ্যঃসাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করা, অমানবিক নির্যাতন, খুন, গুমের হুকুমদাতা হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং চব্বিশের গণ-আন্দোলনে সাহাবুদ্দিনের কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

তারকাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ : রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ, ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠা অন্যদের মধ্যে আছেনঅভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, অভিনেতা সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, সুজাতা আজিম, জায়েদ খান, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদী, সোমা ইসলাম ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ছিলেন এসব তারকা। এই অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত প্রত্যাশা করছি।