• ই-পেপার

সাক্ষাৎকার : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিকের ১ কোটি ৩৫ লাখ শিক্ষার্থী পাবে পাটের স্কুলব্যাগ

  • নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলো কিভাবে কর্মপন্থা ঠিক করে কাজ করছে? এর মধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়ে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘রোডম্যাপ’ চূড়ান্ত করেছে কি না? নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী কী কর্মসূচি ঠিক করা হলো? এসব নিয়ে কালের কণ্ঠকে বিস্তারিত বলেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান

উক্তি

উক্তি

একটি বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়, এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে সফল বাস্তবায়নের ওপর।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামেও গ্যাসের জন্য হাহাকার জোগান অর্ধেক

বন্ধ সিইউএফএল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামেও গ্যাসের জন্য হাহাকার জোগান অর্ধেক

আমদানি করা এলএনজিনির্ভর চট্টগ্রামে গ্যাসের জোগান চাহিদার অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র গ্যাসসংকট। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে।

চট্টগ্রামে দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা ৫৬.২৫ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা অঞ্চলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রামের গ্যাস আরো ডাইভার্ট করা হলে সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বর্তমানে গ্যাসসংকটের কারণে চট্টগ্রামে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএলে সার উৎপাদন  উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু বহুজাতিক সার কারখানা কাফকো চালু রয়েছে। কাফকোতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বর্তমানে শুধু শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন চালু আছে, যেখানে দৈনিক দেওয়া হচ্ছে ৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বিদ্যুৎ ও সার কারখানা বাদে বাকি ১৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতে।

এসব খাতে গ্যাসের জোগান সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। অথচ চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রয়োজন হয় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। 

গ্যাসের চাপ (প্রেসার) আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে কাঙ্ক্ষিত প্রেসার না থাকায় দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। অনেক এলাকায় রান্নাঘরের চুলা না জ্বলায় দুর্ভোগে পড়েছে গৃহিণীরা।

নগরীর বাদুড়তলা এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সায়মা তাবাস্সুম বলেন, সকালে স্বাভাবিক ছিল গ্যাসের চাপ। দুপুর হতে হতে একেবারেই নেই। চুলা আর জ্বলছে না। গ্যাস থাকবে না জানলে রাতেই রান্না করে রাখতাম। এখন বাইরে থেকে খাবার কিনেই আমাদের খেতে হচ্ছে।

দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ সরোয়ার আলম বলেন, তাঁদের এইচএম স্টিল ও গোল্ডেন ইস্পাত কারখানায় আগের তুলনায় গ্যাসের চাপ কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এখনো বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইস্পাতশিল্পে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে গেলে চুল্লিকে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় নিতে বেশি সময় লাগে। ফলে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন সম্ভব হয় না। অথচ গ্যাসের ব্যবহার ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয় না।

কেজিডিসিএলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম পুরোপুরি এলএনজিনির্ভর। কোনো কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে বিকল্প কোনো উৎস থাকে না। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সরবরাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান টার্মিনালটি মেরামতে কাজ চলছে এবং আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে এটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে টার্মিনাল চালুতে বিলম্ব হলে কিংবা ঢাকার চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রাম থেকে অতিরিক্ত গ্যাস সরিয়ে নেওয়া হলে বন্দরনগরীর গ্যাসসংকট তীব্র হয়ে উঠবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) মো. রফিক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপও কমে গেছে। এ কারণে কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে। তবে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। আশা করছি, দু-তিন দিনের মধ্যে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে।

পাঁচ দেশের পাসপোর্ট তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে

ওমর ফারুক
পাঁচ দেশের পাসপোর্ট তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে
বেনজীর আহমেদ

একসময়কার প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। নিজেকে তুরস্কের নাগরিক পরিচয় দিয়ে এবং পাঁচটি দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত সফল হননি তিনি। দুবাই পুলিশের কাছ থেকে পরিচয় নিশ্চিত করতে চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারও আনুষ্ঠানিকভাকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে তৎপর। আমিরাত সরকারও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতার ইঙ্গিত দিয়েছে। চিঠি চালাচালির এই প্রক্রিয়ায় দ্রুতই বেনজীরকে দেশে ফেরত আনা হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বেনজীর আহমেদের বিচার সম্পন্ন করা গেলে দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স-নীতির একটি মাইলফলক রচিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, বিদেশ থেকে অপরাধী ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা আছে। সব বাধা দূর করে বেনজীর আহমেদকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করা গেলে সরকারের জন্য এটি বড় একটি সাফল্য হয়ে থাকবে। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তারাও ম্যাসেজ পাবে দুর্নীতি করে বিদেশে পালিয়ে থাকা যায় না।

তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় পেশাদারির বাইরে গিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দিতে পারলে পুলিশ বাহিনীও ম্যাসেজ পাবে, পেশাদারির বাইরে গিয়ে বিদেশে পালিয়েও শেষরক্ষা পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, দুবাই পুলিশ যখন বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে, তখন তিনি নিজেকে তুরস্কের নাগরিক দাবি করে ওই দেশের পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন। পরে নিবিড় তল্লাশিতে তাঁর কাছে ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি দেশের পাসপোর্টের তথ্য পায় ওই দেশের পুলিশ। এর মধ্যে প্রথম পাসপোর্টটি বাংলাদেশের। এ ছাড়া পর্তুগালসহ আরো দুটি দেশের পাসপোর্টও নেন তিনি।

গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ই-মেইলের মাধ্যমে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর বিষয়েও বলেন তিনি। গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে তাঁকে ফেরত আনার প্রস্তুাব পাঠানোর বিষয়টিও সেদিন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুবাই থেকে চিঠি আসার পর এক সপ্তাহের মধ্যে বেনজীরকে ফেরত আনার প্রস্তাব পাঠানো হয়। দুবাই পুলিশ ওই প্রস্তাব পাওয়ার পর দ্রুত ফিরতি চিঠি পাঠিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রকৃতই বেনজীর আহমেদ কি না, তা জানতে চেয়ে গত সপ্তাহে চিঠি পাঠিয়েছে। সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তারের নথিপত্র ও ছবিও পাঠানো হয়। এ ছাড়া মামলার নথিসহ বেশ কিছু বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছে বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিলম্ব না করে তিনি প্রকৃত বেনজীর আহমেদ জানিয়ে আরবি ভাষায় একটি চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ মামলার নথিসহ বেশ কিছু বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে সেই জবাব প্রস্তুত করছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে বেনজীর দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক শেয়ার কিনেছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয় লুকিয়ে বিদেশ ভ্রমণের পৃথক অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে দুদকের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটির বিচার চলছে, বাকিগুলো তদন্তাধীন।

তরুণীসহ ভিডিও ভাইরাল

এমপি নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে চিঠি জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
এমপি নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও ইসিকে চিঠি জামায়াতের
গাজী নজরুল ইসলাম

ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২  নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আপনার (স্পিকার/প্রধান নির্বাচন কমিশনার) অবগতি ও প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হলো।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, গত বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে অবহিত করতে আজ (বৃহস্পতিবার) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এর আগে গত বুধবার জামায়াতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সে ক্ষেত্রে সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে চিঠি না দিলে কমিশনের কিছু করার আছে কি না সেই প্রশ্ন ওঠে। কারণ এর ১৭৮ বিধির দফা ১-এ বলা আছে, নির্বাচনের পর কোনো সদস্য সম্বন্ধে যদি এমন বিরোধ দেখা যায় যে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতাগুলোর কোনো একটি কারণে তিনি অযোগ্য বিবেচিত হইবেন কি না, অথবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁহার আসন শূন্য হইবে কি না, তাহা হইলে স্পিকার উক্ত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করিবেন। সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির দফা ২-এ বলা আছে, যদি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এই হয় যে, উক্ত সদস্য অযোগ্য হইয়াছেন, অথবা তাঁহার আসন শূন্য করা উচিত, তাহা হইলে তিনি আর সদস্য থাকিবেন না।

আইনগত এই বাস্তবতার কারণে জামায়াত গতকাল স্পিকারকেও চিঠি দিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কারের চিঠি দিয়ে এমপি পদ থাকা না থাকার আলোচনা একটি বিতর্কিত বিষয়। গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, কমিশন এ ধরনের ঘটনায় আগের নজিরগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে ২০০০ ও ২০১৫ সালে দুটি নজির আলোচনায় এসেছে।

২০০০ সালে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রথমবারের মতো এমন বিষয়ে রায় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সে সময় বিএনপি থেকে নির্বাচিত কিশোরগঞ্জ-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে অনুরোধ করেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত দিতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন স্পিকার। সে সময় শুনানি করে আখতারুজ্জামানের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল ইসি।

একইভাবে ২০১৫ সালে টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগ তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর তাঁর সংসদ সদস্য আসন শূন্য ঘোষণার জন্য জাতীয় সংসদের স্পািকারকে অবহিত করা হয়। তখন স্পিকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য চিঠি দেন। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বিষয়টি শুনানির জন্য লতিফ সিদ্দিকীকে নোটিশ পাঠালে সেই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর আবেদনও আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে খরিজ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট লতিফ সিদ্দিকীকে নির্বাচন কমিশনে যেতে বলেন। এই পরিস্থিতিতে লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হাজির হয়ে বলেন, শুনানির প্রয়োজন নেই। আমি সংসদ থেকে পদত্যাগ করব। এরপর ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। সে কারণে লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে রায় ঘোষণা করতে হয়নি।

 

জামায়াতের তদন্ত : জানা যায়, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে। ইজ্জত উল্লাহ জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক, দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য। কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তদন্ত কমিটি গাজী নজরুলসহ তাঁর প্রথম স্ত্রী, কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয়। তদন্তে প্রমাণ হয় যে গাজী নজরুল বিয়ের আগে থেকেই ওই নারীর (কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী) সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি পর্দা লঙ্ঘন করেছেন।

 

শ্যামনগরে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ : এদিকে গতকালও সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে সচেতন নাগরিক সমাজ-এর ব্যানারে বিক্ষোভে অংশ নেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু দল থেকে বহিষ্কার নয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংসদ সদস্য পদ থেকেও গাজী নজরুল ইসলামকে অপসারণ করতে হবে। তারা তাঁকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং বলে, শ্যামনগরের মানুষ তাঁকে আর সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় না।

শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর, নুরনগর, বংশীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তারা। এর আগে গত বুধবার দল থেকে বহিষ্কারের খবরে শ্যামনগরে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।