• ই-পেপার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তৎপর বিএনপি

গতির ঝড় থামিয়ে ফাইনালে স্পেন

মামুন উর রশীদ
গতির ঝড় থামিয়ে ফাইনালে স্পেন
স্পেনের প্রথম গোলের পর গোলদাতা মিকেল ওয়াইরসাবালের সঙ্গে সতীর্থদের উল্লাস। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দ্বৈরথটা ২-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছে স্প্যানিয়ার্ডরা। ছবি : রয়টার্স

তাদের আক্রমণভাগ নিয়ে চিন্তা করলেও কাঁপুনি উঠে যায় সব প্রতিপক্ষের। অথচ সেই দলটিকেই কি না অকার্যকর করে দিল স্পেনের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক উনাই সিমন। লা রোজাদের রক্ষণে বারবার প্রবেশ করেও সফল হতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্র্যাডলি বারকোলা আর উসমান দেম্বেলেরা। কিন্তু ঠিকই ছন্দোময় ফুটবলে ফরাসিদের রক্ষণ চিড়ে দুটি গোল আদায় করে ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। টানা তৃতীয়বার বড় কোনো আসরের সেমিতে তাদের কাছে হারল ফ্রান্স। গতকাল মঙ্গলবার ডালাসে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর লা রোজারা পৌঁছুল আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে। আর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করল গত আসরের রানার্স আপ লেস ব্লুজ। সর্বশেষ যে চারবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স, প্রতিবারই উঠেছে ফাইনালে। কিন্তু তাদের বিপক্ষে বড় আসরে সেমি জেতার দারুণ রেকর্ডটাকে তিনে নিয়ে গেল লা রোজারা।

শেষ চারের এই ম্যাচটি ঘিরে অনেক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ঘেঁটে বোঝা যাচ্ছিল হতে যাচ্ছে জমজমাট লড়াই। বিধ্বংসী আক্রমণের বিপক্ষে জমাট রক্ষণ আর সিমনের মতো বিশ্বকাপে রেকর্ড ৬৫০ মিনিট গোল হজম না করা গোলরক্ষকের সাক্ষাৎ। এ কারণেই স্পেন চলতি বিশ্বকাপে আগের ছয় ম্যাচে হজম করেছে মাত্র একটি গোল। তবে গত বছর নেশন্স লিগ এবং সবশেষ ইউরোতে (২০২৪) সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞায় নামে ফ্রান্সের গতিময় আক্রমণভাগ। ম্যাচের শুরুর দিকে কিছু সুযোগও তৈরি করে ফরাসিরা, আক্রমণের ধারও ছিল বেশি। কিন্তু লা রোজাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও সিমনের দক্ষতায় গোল পাননি বারকোলা, দেম্বেলেরা। উল্টো ২১ মিনিটের সময় স্পেনের আক্রমণে ডি-বক্সে লামিন ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে সরাসরি পেনাল্টি দেন রেফারি। ভিএআর বিশ্লেষণেও বহাল থাকে সেটি। ২২ মিনিটের সময় স্পট কিকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে নেন (১-০) মিকেল ওয়াইরসাবাল। এরপর যেন দুর্দশা বাড়ে ফরাসিদের, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়ে ২৯ মিনিটে উইলিয়াম সালিবাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ৩৭ ও ৩৮ মিনিটে পরপর দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি স্পেনের পেদ্রো পোরো ও ফাবিয়ান রুইজ। এরপর আর গোল পায়নি কোনো দলই।

সবমিলিয়ে প্রথমার্ধে ফ্রান্স চারটি ও স্পেন পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে স্পেন। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পরও বিশ্বকাপে শেষ চারে জিতেছে ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এবং ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া। সে দুটি ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশায় দ্বিতীয়ার্ধে নামে ফরাসিরা। কিন্তু লা রোজার সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগে ব্যর্থ হয়েছেন এমবাপ্পে, দেম্বেলেরা আগের মতোই। উল্টো ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর কাছ থেকে বল পেয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো (২-০)। ৬১ মিনিটে ইয়ামালের আরেকটি গোল বাতিল হয় অফসাইডে। মাঝমাঠের দখলটা ধরে রাখে স্পেন এবং সে কারণেই ফরাসি আক্রমণভাগ ভয়ংকর কোনো আক্রমণ করে সাফল্য আদায় করতে পারেনি। বেশ কয়েকবার তারা জোর চেষ্টা করেছে, তবে স্পেনের জমাট রক্ষণব্যূহ ভেদ করে গোলের নিশানা খুঁজে পাননি এমবাপ্পেরা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে ২০১০ সালের পর আবার ফাইনালে উঠে যায় লা রোজারা।

চলতি আসরে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেন ১৬ বছর আগে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের আসরেও হজম করেছিল মাত্র দুটি গোল। এবারও তারা যেভাবে ফাইনালে উঠেছে তাতে আরেকটি গৌরব অর্জনের পথে এক পা এগিয়েই থাকল তারা। সেই সঙ্গে এই ম্যাচ জিতে ইতালির রেকর্ড ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডেও ভাগ বসাল স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের সেমির রেকর্ডও ফ্রান্সের বিপক্ষে বেশ ভালোই। অনূর্ধ্ব-১৯ ও ২১ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং জাতীয় দলের ২০২৪ ইউরোতে ও নেশন্স লিগের সেমিতে ফ্রান্সকে হারিয়েছে তাঁর শিষ্যরা। সবমিলিয়ে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে স্পেনের এবং দুটিতে আছে ফ্রান্সের জয়। সেটি ধরে রেখে বড় আসরে দেশমের দলের বিপক্ষে টানা তিনটি সেমি (আগের দুটি ইউরো, নেশন্স লিগসহ) জিতল ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

পরাজয়ের ক্ষত শুকানোর দৃঢ়সংকল্প নিয়ে দেশম কোচ হিসেবে রেকর্ড ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচে নেমেও পেলেন না সুখের পরশ। পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০) এবং ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) পর টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার রেকর্ডটাও ছোঁয়া হলো না তাদের। এবার সেমিতে উঠেই ফরাসি দল টানা তিন বিশ্বকাপের সেমি খেলার রেকর্ডও গড়েছিল। সেখানেই থেমে গেল তারা। অথচ ১৯৫৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে সেমি থেকে বিদায় নেওয়া ফ্রান্স আর কখনোই বিশ্বকাপে শেষ চারের ম্যাচে হারেনি। ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা সেমিতে জিতে পা রাখে ফাইনালে। কিন্তু তাদের প্রবল শত্রুতে পরিণত হওয়া স্পেন যখন প্রতিপক্ষ, তখন আর সেই রেকর্ড থাকে কি করে!

উক্তি

উক্তি

প্রতিটি হুংকারে আমরা সংঘবদ্ধ হব, দেশের জন্য এক কাতারে দাঁড়াব।

মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

তিন বিষয়ে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
তিন বিষয়ে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে
আ ন ম এহছানুল হক মিলন

টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়ার ঘোষণা

দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না পেছানোয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এহছানুল হক মিলন এই ঘোষণা দেন। গত সোমবার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সংসদ অধিবেশনে দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলতে চাইনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, আমি সিম্পলি দুঃখ প্রকাশ করছি।

এর আগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, পরীক্ষা পেছানোর দাবি উপেক্ষা এবং পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয় তুলে ধরে সরকারের ব্যাখ্যা জানতে চান সংসদ সদস্যরা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুকূলে থাকায় পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পূর্বাভাস সঠিক না হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহবান জানাই।

গতকাল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। অথচ সরকার এক বা দুই দিনের জন্যও পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়নি। পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ কী, সেটি তিনি জানতে চান।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সারা দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। তবে দেশের অন্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পরীক্ষার আগের দিন বিকেল পর্যন্ত ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই বিকেল ৫টার দিকে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি মৌসুমের পরীক্ষাগুলো নিয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। যেসব পরীক্ষাকেন্দ্র বন্যার পানি বা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব সমস্যা সমাধান করা কঠিন নয়। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রয়েছে, তাই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে কোথাও কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। জরিপ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে পুনঃ পরীক্ষার (রি-এক্সাম) ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এরই মধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। যেসব শিক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তাদের জন্য শুকনা পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পরে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর প্রথম বক্তব্যে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও পরের বক্তব্যে তিনি গত সোমবারের পদার্থবিজ্ঞানসহ তিনটি পরীক্ষাই পুনরায় নেওয়ার কথা বলেছেন।

বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার আহবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার আহবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সালাহউদ্দিন আহমদ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব তিনিই দিয়েছিলেন। সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকার এই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চায়। সে জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার শীর্ষক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধির আওতায় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি উত্থাপন করেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের প্রশ্নে সবাই এক। সে সময় যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা ধরে রাখতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব যেন কেউ এককভাবে দাবি না করেন এবং কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী যেন এই আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি সবার আগে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানান।

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ দাবিতে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল। পরে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে ফিরলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো হবে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সরকার সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তিনি তাঁদের আলোচনায় ফিরে আসার আহবান জানান।

জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শ্রেণির আহতদের পাঁচ লাখ টাকা, শ্রেণির আহতদের তিন লাখ টাকা এবং শ্রেণির আহতদের এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতাও চালু করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের প্রয়োজন হলে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জুলাই ঘোষণাপত্র। সেই ঘোষণাপত্রের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সংসদে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনায় এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের বিষয়টি যথাযথভাবে উঠে আসেনি।

তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদে শহীদ পরিবারের সুরক্ষা, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।