দুর্নীতির চেয়েও সম্পদের অপচয় বেশি হচ্ছে। এই ধরনের অপচয় রোধ করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

দুর্নীতির চেয়েও সম্পদের অপচয় বেশি হচ্ছে। এই ধরনের অপচয় রোধ করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

শনিবার ভোররাতে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটেছে তা খুবই পরিচিত। বুধবারও এমনটা ঘটেছিল, যখন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত, ৬০ জন আহত এবং আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বিমান হামলার সাইরেন, মানুষের ফোনের অ্যালার্ম, পাল্টাপাল্টি আক্রমণ—পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটাই যেন এক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর, মধ্যস্থতাকারীদের এবং জিসিসির জন্য শুধু অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোই নয়, বরং যুদ্ধ বন্ধের একটি পর্যায়ে পৌঁছানোও ততই কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবার এ ধরনের হামলা রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে আরো কঠোর করে তুলছে এবং তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ধারণাটিকে আরো বেশি ভঙ্গুর করে দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এই গ্রহবাসী দেখছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
সামরিক কৌশলের ব্যবহার বাড়ছে : আলোচনা চলাকালে সুবিধা আদায়ের জন্য উভয় পক্ষই একই ধরনের সামরিক কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যখনই তারা কোনো ধরনের মীমাংসার কাছাকাছি চলে আসে, তখনই এই অঞ্চলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো না কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যায়। বিশ্ববাসী লেবাননে এমনটা ঘটতে দেখছে এবং এর ফলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার টেবিলে স্বাভাবিক নিয়মে নিজেদের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু ইসরায়েল যা করার চেষ্টা করছে তা হলো এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা বজায় রাখা। কারণ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা বা কোনো মীমাংসায় একমত হতে পারে, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সমস্যাগুলো সমাধানের একটি মঞ্চে পরিণত হবে। এবং ইসরায়েল এটিকে এই অঞ্চলে তার প্রভাব ও ক্ষমতার অবক্ষয় হিসেবে দেখে। চলমান যুদ্ধের প্রায় ১০০ দিনে এখন পর্যন্ত এটাই মূল গতি-প্রকৃতি।
ইরানের নতুন সামরিক কৌশল : কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিশ্ববাসী যা শুনে আসছে, তা লক্ষণীয়ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গত সপ্তাহে আইআরজিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত যেকোনো দেশ বা আকাশসীমা থেকে হামলা চালানো হলে তারা তার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে দেশটি হামলার বৈধ টার্গেট বিবেচনা করে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি নিয়ে সাম্প্রতিক বিবাদে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার কোনো সমন্বয় ছাড়াই প্রণালিটি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আইআরজিসির বিবৃতি অনুসারে, তারা সেগুলোর মধ্যে একটিকে সতর্ক করে দেয় এবং সেটি ফিরে যায়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে মুখ করে থাকা কেশেম দ্বীপ এবং সিরি দ্বীপে রেভল্যুশনারি গার্ডের একটি টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান স্পষ্টভাবে জানায়, তারা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরে।
তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখা যাচ্ছে, ইরান সংঘাতকে বিস্তৃত না করেই এই অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এটিকে একটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করছে। গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ, লেবানন সীমান্ত নিয়ে বিরোধ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ লক্ষ করা গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা যুদ্ধবিরতির অবস্থাকে প্রভাবিত করেনি বা করতে পারেনি। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে কথা বলেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এ সময় তিনি বলেন, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলা যদি চলতে থাকে, তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটতে পারে। সূত্র : আল জাজিরা, অ্যাক্সিওস, রয়টার্স

যে ছন্দোময় ফুটবলের খোঁজে ছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা, তা পাওয়া গেল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে এসে। শুরু থেকে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে ইতিবাচক কিছুর ইঙ্গিতও দিচ্ছিলেন। কিন্তু ভালো ফুটবল খেলেও হ্যাটট্রিক শিরোপা আর জেতা হয়নি বাংলাদেশের। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে ম্যাচেও ফেরে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর ভারতকে আটকাতে পারেনি রক্ষণভাগ। দুই গোল হজম করে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে পিটার বাটলারের দল। এ নিয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ষষ্ঠ শিরোপা জিতল ভারত। আর বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।
গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনালে পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দর্শকের দেখা মেলেনি। গতকাল ফাইনাল বলে ভারতীয় কিছু সমর্থক মাঠে এসেছিলেন, যাঁরা কিনা ম্যাচজুড়েই স্বাগতিকদের সমর্থন জুগিয়ে গেছেন। এর প্রতিদানও দিয়েছেন মনীষা কল্যাণীরা। এ মাঠেই ১৯৯৯ সালে সাফের ফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। সেই একই মাঠে হতাশার দিন পার করলেন ঋতুপর্ণা চাকমারা।
এদিন দুটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ বাটলার। উমেহলা মারমা ও সুরভি আকন্দ প্রীতির বদলে নামান তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে। গত সাফে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা চলতি আসরে এই প্রথম সুযোগ পান শুরু থেকে খেলার। প্রথম ১৫ মিনিটে দারুণ শুরুই করেছিল বাংলাদেশ। বল পায়ে রেখে উইং ধরে আক্রমণে গিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। যদিও ফরোয়ার্ডের ব্যর্থতায় গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ১২ মিনিটে দারুণ সুযোগও তৈরি হয়। বাঁ দিক দিয়ে তহুরার বাড়ানো বল পান ঋতুপর্ণা। তাঁর নিচু করে নেওয়া কাটব্যাকে বক্সের ভেতরে পা ছোঁয়াতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র। দুই মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন তহুরা। শামসুন্নাহারের বাড়ানো পাস ধরে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তহুরা, কিন্তু শট নিতে দেরি করে ফেলায় ভারতের এক ডিফেন্ডার কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন। ৩৮ মিনিটে দারুণ দক্ষতায় বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। মধ্যমাঠ থেকে বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মনীষা কল্যাণী। তাঁর নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ফেরান মিলি। একটু পরে অবশ্য আর ভারতকে আটকে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ রক্ষণভাগ। বাঁ দিক থেকে আসা বল পেয়ে কিছুটা এগিয়ে বক্সের ওপর থেকে পিয়ারি সাসার নেওয়া শট আরফিনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জড়িয়ে যায় জালে। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক মিলির। পিছিয়ে পড়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করেনি বাংলাদেশ। ‘কুইক’ আক্রমণে ভারতের ওপর চাপ বাড়ায়। ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আনিকার দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে ফেরান ভারতের গোলরক্ষক। তবে এক মিনিট পর আর বাংলাদেশকে আটকাতে পারেননি। মধ্যমাঠের একটু ওপরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আনিকা বাড়ান তহুরাকে। চলন্ত বলে পা ছুঁয়ে তিনি এগিয়ে দেন ঋতুপর্ণাকে। ডি বক্সে ঢুকে নিখুঁত প্লেসিং শটে তিনি ঠিকানা খুঁজে নেন। সমতার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালেও অবিশ্বাস্য এক গোল করে আলোচনায় ছিলেন ঋতু। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তাঁর ১৫তম গোল। আর সাফের ফাইনালে দ্বিতীয় গোল।
বিরতির আগেই সমতা ফেরানোয় দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইয়ের আভাস মিলছিল। কিন্তু বিরতি থেকে ফেরার পরপরই আবার পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে সানফিদা ননগ্রুমের নিখুঁত হেড সাইড পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের বিপদ বাড়তে পারত ৬৫ মিনিটে। সানফিদার পাসে বক্সে বল পেয়ে যান মনীষা, তবে পেরু লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ডের সাইড ভলি অল্পের জন্য যায় বাইরে। ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা আফঈদা তালগোল পাকিয়ে বসলেন ৮২ মিনিটে। বল ক্লিয়ার করার জন্য ডানে-বাঁয়ে অনেক বিকল্পই ছিল তাঁর সামনে, কিন্তু তিনি নেন জোরালো শট, বল মালভিকার পায়ে লেগে চলে যায় লিন্ডা ছেত্রোর কাছে। অনায়াসে জাল খুঁজে নেন তিনি। এই গোলেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন।

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “মাঝেমধ্যে মনে হয় যে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে থাকি। ঘর থেকে বের হলেই দূষিত বাতাস ও ‘পলিউটেড অক্সিজেনের’ সম্মুখীন হতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না।”
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৬৩ সালে যখন ঢাকা কলেজে পড়ি, তখন বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো যেত। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এতটাই দুর্গন্ধযুক্ত যে, তার কাছে যাওয়া যায় না। বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে না। কোনো সময় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। শুধু বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়। আসল কাজ হয় না।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই ঢাকা শহরের সমস্যার সমাধান হবে না। যাঁরা নীতি নির্ধারণ করছেন এবং শহর শাসনের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা কতটা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন? ঢাকা শহরের উন্নয়নের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চললেও সাধারণ নাগরিকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেটি গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’
পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ও পানিসংকট নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন তৈরি করা হলেও পানি নিষ্কাশন সঠিকভাবে হচ্ছে না। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হাজার মিটার নিচে নেমে যাওয়ায় সামনে ভয়াবহ বিপদ ঢাকার জন্য।
‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুধু আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করা হবে। সরকার ও মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘যানজট, জলাবদ্ধতা, মশার সমস্যা, রিকশার সমস্যা, হকার সমস্যা ঢাকার দৈনন্দিন বাস্তবতা। সমন্বিত উদ্যোগের বাস্তব রূপ এই দক্ষিণের জানালা। লক্ষ্য শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব সমাধানের পথ গড়ে তোলা। আধুনিক বাসযোগ্য মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে এই উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘পুরো ঢাকা শহরকে রিকশা ও হকারে পরিপূর্ণ করা যাবে না, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আবার হকার আর রিকশার শহরও করা যাবে না। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখার দায়িত্বও নাগরিকদের।’
ষাটের দশকের ঢাকার স্মৃতিচারণা করে শিক্ষাবিদ আইনুন নিশাত বলেন, ‘ঢাকা একটি সবুজ শহর ছিল। সেই শহর যতটা পারেন, ফেরত আনেন। প্রতিটি এলাকার সমস্যা এলাকাবাসী জানে। জলবায়ু সমস্যার কারণে দিন দিন সমস্যা আরো বাড়ছে। ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ঢাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করতে যাচ্ছে আগামী দিনে।’ শুধু প্রকল্প হাতে নিলেই হবে না সবাই শুধু প্রকল্প নিতে চায়, তবে ব্যবস্থাপনাটাও প্রকল্পের অংশ হওয়া উচিত বলে মত দেন এই শিক্ষাবিদ।