• ই-পেপার

মির্জা ফখরুল

মাঝেমধ্যে মনে হয় ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে থাকি

উক্তি

উক্তি

দুর্নীতির চেয়েও সম্পদের অপচয় বেশি হচ্ছে। এই ধরনের অপচয় রোধ করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা বাড়ায় আলোচনা কঠিন হয়ে উঠছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা বাড়ায় আলোচনা কঠিন হয়ে উঠছে

শনিবার ভোররাতে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটেছে তা খুবই পরিচিত। বুধবারও এমনটা ঘটেছিল, যখন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত, ৬০ জন আহত এবং আন্তর্জাতিক টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বিমান হামলার সাইরেন, মানুষের ফোনের অ্যালার্ম, পাল্টাপাল্টি আক্রমণপারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটাই যেন এক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর, মধ্যস্থতাকারীদের এবং জিসিসির জন্য শুধু অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোই নয়, বরং যুদ্ধ বন্ধের একটি পর্যায়ে পৌঁছানোও ততই কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবার এ ধরনের হামলা রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে আরো কঠোর করে তুলছে এবং তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ধারণাটিকে আরো বেশি ভঙ্গুর করে দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এই গ্রহবাসী দেখছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

সামরিক কৌশলের ব্যবহার বাড়ছে : আলোচনা চলাকালে সুবিধা আদায়ের জন্য উভয় পক্ষই একই ধরনের সামরিক কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যখনই তারা কোনো ধরনের মীমাংসার কাছাকাছি চলে আসে, তখনই এই অঞ্চলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো না কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যায়। বিশ্ববাসী লেবাননে এমনটা ঘটতে দেখছে এবং এর ফলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার টেবিলে স্বাভাবিক নিয়মে নিজেদের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু ইসরায়েল যা করার চেষ্টা করছে তা হলো এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা বজায় রাখা। কারণ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা বা কোনো মীমাংসায় একমত হতে পারে, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সমস্যাগুলো সমাধানের একটি মঞ্চে পরিণত হবে। এবং ইসরায়েল এটিকে এই অঞ্চলে তার প্রভাব ও ক্ষমতার অবক্ষয় হিসেবে দেখে। চলমান যুদ্ধের প্রায় ১০০ দিনে এখন পর্যন্ত এটাই মূল গতি-প্রকৃতি।

ইরানের নতুন সামরিক কৌশল : কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিশ্ববাসী যা শুনে আসছে, তা লক্ষণীয়ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গত সপ্তাহে আইআরজিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত যেকোনো দেশ বা আকাশসীমা থেকে হামলা চালানো হলে তারা তার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে দেশটি হামলার বৈধ টার্গেট বিবেচনা করে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি নিয়ে সাম্প্রতিক বিবাদে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার কোনো সমন্বয় ছাড়াই প্রণালিটি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আইআরজিসির বিবৃতি অনুসারে, তারা সেগুলোর মধ্যে একটিকে সতর্ক করে দেয় এবং সেটি ফিরে যায়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে মুখ করে থাকা কেশেম দ্বীপ এবং সিরি দ্বীপে রেভল্যুশনারি গার্ডের একটি টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান স্পষ্টভাবে জানায়, তারা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরে।

তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেখা যাচ্ছে, ইরান সংঘাতকে বিস্তৃত না করেই এই অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এটিকে একটি নতুন সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করছে। গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ, লেবানন সীমান্ত নিয়ে বিরোধ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ লক্ষ করা গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা যুদ্ধবিরতির অবস্থাকে প্রভাবিত করেনি বা করতে পারেনি। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে কথা বলেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এ সময় তিনি বলেন, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের হামলা যদি চলতে থাকে, তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটতে পারে। সূত্র : আল জাজিরা, অ্যাক্সিওস, রয়টার্স

 

হতাশা কাটানোর সুযোগ ফ্রান্সের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
হতাশা কাটানোর সুযোগ ফ্রান্সের
কিলিয়ান এমবাপ্পে

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই রাতের কথা সহজে ভুলতে পারার কথা নয় ফ্রান্সের। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচটির হতাশার ছবিটাই যে ছিল লা ব্লুদের। অথচ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে সেদিন কোনো অংশে পিছিয়ে ছিল না তারা। কিন্তু ভাগ্যের হেরফেরে ২০১৮ সালের পর টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলা হয়নি ফ্রান্সের। ক্যালেন্ডার ঘুরে সেই হতাশা কাটানোর সুযোগ এখন তাদের সামনে। বরাবরের মতো এবারও তারা ফেভারিট হিসেবেই বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেছে।

হতাশা কাটানোর সুযোগ ফ্রান্সেরশিরোপাপ্রত্যাশী এই দলের প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদে মৌসুমটা শিরোপাহীন কাটলেও বড় মঞ্চ রাঙানোর অপেক্ষায় এই তারকা। ফ্রান্সের তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগে এমবাপ্পের সঙ্গে আছেন ব্যালন ডিঅরজয়ী উসমান দেম্বেলে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন লিগ জয়ে তাঁর ছিল বড় ভূমিকা। বিশ্বকাপেও সেরা ছন্দের ঝংকার তুলতে চাইবেন এই ফরোয়ার্ড। তবে মাঝমাঠে আঁতোয়ান গ্রিজমানের মতো একজন অভিজ্ঞ প্লে মেকারের অভাব এবার ফ্রান্সকে ভোগাতে পারে। চেরকি বা ওলিসে সেই জায়গা কতটা পূরণ করতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে। এ ছাড়া কোচ দিদিয়ের দেশমের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলেরও সমালোচনা আছে। একই সঙ্গে আসন্ন বিশ্বকাপে বরাবরের মতো দলটির বড় চ্যালেঞ্জ তারকা ঠাসা ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ধরে রাখা। গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের দলের ভেতর ফাটল এখনো আলোচনার টেবিলে ঝড় তোলে। যদিও সেবারের মতো কোচ হিসেবে কড়া মাস্টার হিসেবেই পরিচিত দেশমই আবার আছেন কোচের ভূমিকায়।

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে এটাই দেশমের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট হতে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল ফরাসিরা। এরপর কোচ হিসেবে তাঁর হাত ধরেই ২০১৮ বিশ্বকাপে দলটির লম্বা খরা কেটেছিল দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের মাধ্যমে। একই সঙ্গে খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকায়ই বিশ্বকাপ জেতার বিরল কীর্তিতেও দেশম নাম লেখান মারিয়ো জাগালো আর ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পাশে। এবার দুজনকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে। এবার ফ্রান্স ফাইনালে উঠলে কোচ হিসেবে কোনো দলকে টানা তিনটি আসরে ফাইনালে তোলারও নতুন রেকর্ড গড়বেন তিনি। দেশমের মনোযোগজুড়ে এখন অবশ্য শুধুই বর্তমান। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর কথায় সেটাই উঠে এসেছে, আমি বর্তমান আর আগামীকাল নিয়েই শুধু ভাবি। সত্যি এর বাইরে কোনো কিছুই আসলে খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না; সামনে কী আছে সেটিতেই আমার মনোযোগ। তবে খেলোয়াড় হিসেবে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কোচ হিসেবেও সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়া দেশমকে আপ্লুত করে। সেটি অনুভবও করেন তিনি, ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অনেক কিছুই জিতেছি; কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’—এই শব্দযুগলের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে এমন কিছু নেই। আপনার নিজের নামটা বদলাবে না, তেমনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শব্দযুগলও জুড়ে থাকবে চিরদিনের মতো।

ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখতে যাওয়া ফ্রান্সকে শিরোপার দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রাখছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের করা এক বিশেষ জরিপও। সেখানে অংশ নেওয়া বেশির ভাগের মতেই ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি জিতবে ফ্রান্স। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মহাদেশের ১৬০ জন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে গত ১১ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩১ শতাংশ। ফ্রান্স ও স্পেনের পর শিরোপার দৌড়ে সেরা পাঁচে বাকি তিনটি দল হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে যুক্তি তুলে লন্ডনভিত্তিক আরবিসির সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডি বলেন, ২০২২ সালের ফাইনালের হতাশা ভুলে এবার ফ্রান্স আরো শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামবে। দলটির বেশির ভাগ খেলোয়াড় এখন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন এবং পিএসজির কয়েকজন তরুণ তারকা দলটিকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, তারা এবারও সতেজ কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলে পাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, সেরা অস্ত্রদের নিয়েই দুঃখ মোছার অভিযানে যাচ্ছে ফ্রান্স।

ফাইনাল হারের হতাশা বাংলাদেশের

ফাইনাল হারের হতাশা বাংলাদেশের
ঋতুপর্ণা চাকমার এই উচ্ছ্বাস শেষ পর্যন্ত থাকেনি। তাঁর গোলে সমতা ফিরিয়ে বাংলাদেশ লড়াই জমিয়ে তোলার আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত নিরাশই হতে হয়েছে। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হার ৩-১ গোলে। ছবি : মীর ফরিদ

যে ছন্দোময় ফুটবলের খোঁজে ছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা, তা পাওয়া গেল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে এসে। শুরু থেকে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে ইতিবাচক কিছুর ইঙ্গিতও দিচ্ছিলেন। কিন্তু ভালো ফুটবল খেলেও হ্যাটট্রিক শিরোপা আর জেতা হয়নি বাংলাদেশের। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে ম্যাচেও ফেরে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর ভারতকে আটকাতে পারেনি রক্ষণভাগ। দুই গোল হজম করে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে পিটার বাটলারের দল। এ নিয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ষষ্ঠ শিরোপা জিতল ভারত। আর বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

ফাইনাল হারের হতাশা বাংলাদেশেরগ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনালে পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দর্শকের দেখা মেলেনি। গতকাল ফাইনাল বলে ভারতীয় কিছু সমর্থক মাঠে এসেছিলেন, যাঁরা কিনা ম্যাচজুড়েই স্বাগতিকদের সমর্থন জুগিয়ে গেছেন। এর প্রতিদানও দিয়েছেন মনীষা কল্যাণীরা। এ মাঠেই ১৯৯৯ সালে সাফের ফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। সেই একই মাঠে হতাশার দিন পার করলেন ঋতুপর্ণা চাকমারা।

এদিন দুটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ বাটলার। উমেহলা মারমা ও সুরভি আকন্দ প্রীতির বদলে নামান তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে। গত সাফে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা চলতি আসরে এই প্রথম সুযোগ পান শুরু থেকে খেলার। প্রথম ১৫ মিনিটে দারুণ শুরুই করেছিল বাংলাদেশ। বল পায়ে রেখে উইং ধরে আক্রমণে গিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। যদিও ফরোয়ার্ডের ব্যর্থতায় গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ১২ মিনিটে দারুণ সুযোগও তৈরি হয়। বাঁ দিক দিয়ে তহুরার বাড়ানো বল পান ঋতুপর্ণা। তাঁর নিচু করে নেওয়া কাটব্যাকে বক্সের ভেতরে পা ছোঁয়াতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র। দুই মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন তহুরা। শামসুন্নাহারের বাড়ানো পাস ধরে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তহুরা, কিন্তু শট নিতে দেরি করে ফেলায় ভারতের এক ডিফেন্ডার কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন। ৩৮ মিনিটে দারুণ দক্ষতায় বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। মধ্যমাঠ থেকে বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মনীষা কল্যাণী। তাঁর নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ফেরান মিলি। একটু পরে অবশ্য আর ভারতকে আটকে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ রক্ষণভাগ। বাঁ দিক থেকে আসা বল পেয়ে কিছুটা এগিয়ে বক্সের ওপর থেকে পিয়ারি সাসার নেওয়া শট আরফিনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জড়িয়ে যায় জালে। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক মিলির। পিছিয়ে পড়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করেনি বাংলাদেশ। কুইক আক্রমণে ভারতের ওপর চাপ বাড়ায়। ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আনিকার দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে ফেরান ভারতের গোলরক্ষক। তবে এক মিনিট পর আর বাংলাদেশকে আটকাতে পারেননি। মধ্যমাঠের একটু ওপরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আনিকা বাড়ান তহুরাকে। চলন্ত বলে পা ছুঁয়ে তিনি এগিয়ে দেন ঋতুপর্ণাকে। ডি বক্সে ঢুকে নিখুঁত প্লেসিং শটে তিনি ঠিকানা খুঁজে নেন। সমতার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালেও অবিশ্বাস্য এক গোল করে আলোচনায় ছিলেন ঋতু। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তাঁর ১৫তম গোল। আর সাফের ফাইনালে দ্বিতীয় গোল।

বিরতির আগেই সমতা ফেরানোয় দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইয়ের আভাস মিলছিল। কিন্তু বিরতি থেকে ফেরার পরপরই আবার পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রসে সানফিদা ননগ্রুমের নিখুঁত হেড সাইড পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের বিপদ বাড়তে পারত ৬৫ মিনিটে। সানফিদার পাসে বক্সে বল পেয়ে যান মনীষা, তবে পেরু লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ডের সাইড ভলি অল্পের জন্য যায় বাইরে। ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা আফঈদা তালগোল পাকিয়ে বসলেন ৮২ মিনিটে। বল ক্লিয়ার করার জন্য ডানে-বাঁয়ে অনেক বিকল্পই ছিল তাঁর সামনে, কিন্তু তিনি নেন জোরালো শট, বল মালভিকার পায়ে লেগে চলে যায় লিন্ডা ছেত্রোর কাছে। অনায়াসে জাল খুঁজে নেন তিনি। এই গোলেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন।