রাজধানীসহ সারা দেশেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটপাট, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জনজীবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেও খুনখারাবির অনেক ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে এমন অনেক খবর প্রকাশিত হচ্ছে।
গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রাজধানীর অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণকারী আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক শ্যুটার বা পেশাদার হত্যাকারী সক্রিয় রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন, তারিক সাইফ মামুন, ইয়াছিন খান ওরফে কাইল্লা পলাশসহ অন্তত ১১ জনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জামিনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আড়ালে থেকে পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তাদের প্রত্যেকেরই আলাদা ‘শ্যুটার’ বা ‘কিলার গ্রুপ’ রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যদের কাছে ছোট ও ভারী—দুই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রই রয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, নিকট ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের আরো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।
দেশের বাইরে থেকেও অনেক হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি সূত্রের দাবি, টিটন হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ বিদেশ থেকে এসেছে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর টিটন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ভাঙ্গারি রনি ওরফে রনিকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, রনি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একটি কিলার গ্রুপের সদস্য এবং পেশাদার সন্ত্রাসী বলে তদন্তে তথ্য মিলেছে। হত্যা, হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সে নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে র্যাব-২ মিন্টু শেখ নামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ ২৯টি মামলা রয়েছে।
কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত আরেক খবরে বলা হয়, বগুড়ায় পূর্বশত্রুতার কারণে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে হত্যা করা হয়েছে এক গৃহবধূকে। যশোরে পুত্রবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে এক সন্ত্রাসীর মৃত্যু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে প্রাইভেট কার চালকের মারধরে মারা গেছেন এক অটোরিকশাচালক। এ ছাড়া যশোরে এক ভ্যানচালকের লাশ পাওয়া গেছে।
সারা দেশেই গুরুতর অপরাধের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান দেশে প্রবেশ করছে। মাদকের কারবার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেমন খুনখারাবি বাড়ছে, তেমনি মাদকাসক্তরা মাদক কেনার অর্থ জোগাতে অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া সারা দেশেই কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বেড়েছে। বেড়েছে মোটরসাইকেলসহ যানবাহন চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং নানা ধরনের প্রতারকচক্রের কর্মকাণ্ডও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আমরা আশা করি, অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোর কর্মকাণ্ড ব্যাপক করা হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান রোধে সীমান্তে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।

