প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক ধারাবাহিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এবারও সেই অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পাওয়া গেছে। অতিবর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও শহরে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় নারী, শিশুসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই আটজন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো কয়েকজন।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গত রবিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া আশ্রয়শিবিরে দফায় দফায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিল। এমন সময় ঘরের ওপর পাহাড় আছড়ে পড়ে। এতে মাটিচাপা পড়ে বেশ কয়েকজন। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েক দিন আরো ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে আরো পাহাড়ধস হতে পারে। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেওয়া।
২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনভূমি উজাড় করে ৩৪টি আশ্রয়শিবির তৈরি করা হয়। এসব আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। জানা গেছে, এর মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগেও রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
পাহাড়ধস প্রাকৃতিক দুর্যোগ; তবে এর পেছনে মানবসৃষ্ট কারণও যোগ হয়েছে। এক শ্রেণির প্রভাবশালী চক্র আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে আবাসন, বাণিজ্যিক স্থাপনা বা রাস্তা তৈরির নামে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে। এতে মাটির বাঁধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্ষায় ভারি বৃষ্টিপাত হলেই আলগা মাটি ধসে নিচে নেমে আসছে। আর পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র ও আশ্রয়হীন মানুষই পাহাড়ধসের নির্মম শিকার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞমহল বলছে, পাহাড়-বনাঞ্চল সুরক্ষায় দেশে বিদ্যমান পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও শাস্তির বিধান থাকলেও তা প্রয়োগের নজির অত্যন্ত কম। প্রশাসনের নজরদারিও আশানুরূপ নয়। এতে একদিকে দিন দিন যেমন পাহাড়-বন ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নতুন বনায়ন কর্মসূচিও নেই। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলছে।
আমরা মনে করি, পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাহাড়ের কোলে যারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে, তাদের শুধু সতর্কবার্তা দিলেই হবে না, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

