• ই-পেপার

ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা, বিশ্বকাপ শেষ মাঝমাঠের তারকার

রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি, কোয়ার্টারে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি, কোয়ার্টারে স্পেন

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ম্যাচ। এমন সময় ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর ম্যাচে ফিরতে আর তেমন সময় হাতে ছিল না পর্তুগালের কাছে। এই এক গোলের হারেই শেষ হয়ে যায় রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন। আর লামিনে ইয়ামালরা চলে যান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

বিস্তারিত আসছে…

 

পর্তুগালের আক্রমণ রুখে বিশ্বরেকর্ড স্পেনের

ক্রীড়া ডেস্ক
পর্তুগালের আক্রমণ রুখে বিশ্বরেকর্ড স্পেনের

ফুটবল মাঠে ভাগ্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধন কতটা নাটকীয় হতে পারে, ডালাস স্টেডিয়ামে আজ তা দেখল বিশ্ববাসী। ঘড়ির কাঁটায় তখন ম্যাচের ৪১ মিনিট। পর্তুগালের নুনো মেন্দেসের এক বুলেট গতির শট যখন স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথা ছুঁয়ে জালের দিকে ছুটছিল, তখন নিশ্চিত গোলের আশঙ্কায় ছিল স্প্যানিশ ভক্তরা। ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বল পোরো হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে চাইলেও বলের গতি স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকেও ফাঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে কপাল জোরে বেঁচে যায় স্পেন।

ঠিক তার পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৪২তম মিনিটে ইতিহাস নতুন করে লিখল ‘লা রোহা’রা। সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ ১৬ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় জাল অক্ষত রাখার অনন্য বিশ্বরেকর্ড এখন স্পেনের দখলে।

পর্তুগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নামার আগেই স্পেনের রক্ষণভাগের ঝুলিতে ছিল টানা ৫১৯ মিনিট গোল না খাওয়ার কীর্তি। রেকর্ড স্পর্শ করতে দরকার ছিল আর ৪০ মিনিট। ম্যাচে নুনো মেন্দেসের সেই শটটি ক্রসবারে প্রতিহত হওয়ার ঠিক ৬০ সেকেন্ড পরেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৪২ মিনিটে পা রাখার সাথে সাথেই স্পেনের জাল অক্ষত থাকার সময়কাল দাঁড়ায় ৫৬০ মিনিটে, যা ভেঙে দেয় সুইজারল্যান্ডের ৫৫৯ মিনিটের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজা পর্যন্ত স্পেনের এই ‘ক্লিন শিট’ রেকর্ড গিয়ে ঠেকেছে ৫৬১ মিনিটে।

বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি সময় কোনো গোল না খাওয়ার আগের রেকর্ডটি এককভাবে ছিল সুইজারল্যান্ডের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা তিনটি আসর মিলিয়ে ৫৫৯ মিনিট নিজেদের জালে বল ঢুকতে দেয়নি সুইসরা।

স্পেন এই যাত্রা শুরু করেছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ভাগে। সেখানে মরক্কোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিট গোলহীন থাকার পর, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ (২৭০ মিনিট) এবং নকআউট পর্বের আগের ম্যাচেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। 

সিমন-কস্তার প্রতিরোধে গোলশূন্য প্রথমার্ধ স্পেন-পর্তুগালের

ক্রীড়া ডেস্ক
সিমন-কস্তার প্রতিরোধে গোলশূন্য প্রথমার্ধ স্পেন-পর্তুগালের

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়াই জমে উঠলেও প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ব্যবধানে। দুই দলের ফরোয়ার্ডদের একাধিক সুযোগ নসাৎ করে দিয়েছেন দুই গোলরক্ষক উনাই সিমন ও দিয়েগো কস্তা।

ম্যাচের ৯ম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। তবে পর্তুগিজ গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালের বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল।

তিন মিনিট পরই পাল্টা আক্রমণে যায় পর্তুগাল। ১২ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে জোরালো শট নেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তবে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই শট রুখে দেন।

১৭ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত তৈরি করে স্পেন। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ডানপ্রান্তে থাকা লামিন ইয়ামালকে পাস বাড়ান রদ্রি। বাঁ পায়ে ভেতরে ঢুকে ইয়ামালের নেওয়া জোরালো শট প্রথম দফায় দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। ফিরতি বলে আবারও শট নেন আলেক্স বায়েনা, কিন্তু এবারও কস্তা দেয়াল হয়ে দাঁড়ালে হতাশ হতে হয় স্পেনকে।

প্রথমার্ধের শেষদিকে স্প্যানিশ রক্ষণভাগে চাপ বাড়ায় পর্তুগাল। কিছুটা নিচে নেমে খেলা তৈরি করেন রোনালদো। তার পাস থেকে জোয়াও ফেলিক্সের নেওয়া হেড ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। এর পরপরই বক্সের ভেতর দুর্দান্ত এক অ্যাক্রোবেটিক শট নেন রোনালদো, তবে এবারও সিমন পরাস্ত হননি। দুই গোলরক্ষকের অসামান্য নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।

স্পেনের একাদশ অপরিবর্তিত, পর্তুগালের চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের একাদশ অপরিবর্তিত, পর্তুগালের চমক
রয়টার্সের ছবি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আজ রাতে মাঠে নামছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে স্পেনের কোচ আগের ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখলেও, পর্তুগাল শিবিরে এসেছে বড় পরিবর্তন। একাদশে চমক হিসেবে ফিরেছেন জোয়াও ফেলিক্স।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলা সবশেষ ম্যাচটির একাদশই অপরিবর্তিত রেখেছে স্পেন। গোলপোস্টের নিচে থাকছেন উনাই সিমোন। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে ও মার্ক কুকুরেয়া। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকছেন রদ্রি, পেদ্রি ও দানি ওলমো। আর আক্রমণভাগে দেখা যাবে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারজাবাল ও আলেক্স বায়েনাকে।

অন্যদিকে, পর্তুগাল তাদের শুরুর একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছে। যেখানে সবচেয়ে বড় চমক জোয়াও ফেলিক্সের অন্তর্ভুক্তি। দলটির গোলরক্ষক হিসেবে খেলবেন দিয়োগো কস্তা। ডিফেন্সে থাকবেন জোয়াও ক্যান্সেলো, রেনাতো ভেইগা, রুবেন দিয়াস ও নুনো মেন্দেস। মাঝমাঠ সামলাবেন জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আর আক্রমণভাগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন জোয়াও ফেলিক্স ও পেদ্রো নেতো।

স্পেন একাদশ:

উনাই সিমোন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারজাবাল, আলেক্স বায়েনা।

পর্তুগাল একাদশ:

দিয়োগো কস্তা, জোয়াও ক্যান্সেলো, রেনাতো ভেইগা, রুবেন দিয়াস, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও ফেলিক্স, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেদ্রো নেতো।