ফুটবল মাঠে ভাগ্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধন কতটা নাটকীয় হতে পারে, ডালাস স্টেডিয়ামে আজ তা দেখল বিশ্ববাসী। ঘড়ির কাঁটায় তখন ম্যাচের ৪১ মিনিট। পর্তুগালের নুনো মেন্দেসের এক বুলেট গতির শট যখন স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথা ছুঁয়ে জালের দিকে ছুটছিল, তখন নিশ্চিত গোলের আশঙ্কায় ছিল স্প্যানিশ ভক্তরা। ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বল পোরো হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে চাইলেও বলের গতি স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকেও ফাঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে কপাল জোরে বেঁচে যায় স্পেন।
ঠিক তার পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৪২তম মিনিটে ইতিহাস নতুন করে লিখল ‘লা রোহা’রা। সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘ ১৬ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় জাল অক্ষত রাখার অনন্য বিশ্বরেকর্ড এখন স্পেনের দখলে।
পর্তুগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নামার আগেই স্পেনের রক্ষণভাগের ঝুলিতে ছিল টানা ৫১৯ মিনিট গোল না খাওয়ার কীর্তি। রেকর্ড স্পর্শ করতে দরকার ছিল আর ৪০ মিনিট। ম্যাচে নুনো মেন্দেসের সেই শটটি ক্রসবারে প্রতিহত হওয়ার ঠিক ৬০ সেকেন্ড পরেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৪২ মিনিটে পা রাখার সাথে সাথেই স্পেনের জাল অক্ষত থাকার সময়কাল দাঁড়ায় ৫৬০ মিনিটে, যা ভেঙে দেয় সুইজারল্যান্ডের ৫৫৯ মিনিটের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজা পর্যন্ত স্পেনের এই ‘ক্লিন শিট’ রেকর্ড গিয়ে ঠেকেছে ৫৬১ মিনিটে।
বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি সময় কোনো গোল না খাওয়ার আগের রেকর্ডটি এককভাবে ছিল সুইজারল্যান্ডের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা তিনটি আসর মিলিয়ে ৫৫৯ মিনিট নিজেদের জালে বল ঢুকতে দেয়নি সুইসরা।
স্পেন এই যাত্রা শুরু করেছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ভাগে। সেখানে মরক্কোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিট গোলহীন থাকার পর, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ (২৭০ মিনিট) এবং নকআউট পর্বের আগের ম্যাচেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।




