• ই-পেপার

প্রতিশোধ নয়, প্রয়োজন ঐক্য

  • জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

অবিলম্বে পদক্ষেপ নিন

সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকরা বিপাকে

অবিলম্বে পদক্ষেপ নিন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার পর ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না। এতে তাঁরা শুধু আর্থিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তা-ই নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বেতন নির্ধারণের (ফিক্সেশন) কাজ শুরু না হওয়ায় শিক্ষকরা নতুন গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন না। এই ছয় মাসেও বেতন নির্ধারণের দাপ্তরিক কাজটুকু কেন সম্পন্ন হলো না, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে তাঁরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সর্বাত্মক অবস্থান নেবেন।

কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-১০-এ উন্নীত করা হয়। এমনকি প্রজ্ঞাপন জারির দিনই প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবর দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের জন্য চিঠি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কিন্তু হতাশার ব্যাপার হলো, আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকদের বেতনকাঠামো সময়োপযোগী করার দাবি আজকের নয়। ২০১৪ সালে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দশম গ্রেড ও গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদার দাবিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট করেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৪৫ জন শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার রায় দেন আদালত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সে অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর সব প্রধান শিক্ষক একযোগে মামলার প্রস্তুতি নিলে প্রধান শিক্ষকের পদটিই দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় সরকার।

বাস্তবতা হলো, সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকদের টানাপোড়েন অনেক। দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯ হলেও মাত্র ৩০ হাজার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকিগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত দিয়ে দায়িত্ব চালানো হচ্ছে। অনেক দিন হলো পদোন্নতি নেই।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধান শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন না হওয়ার ব্যাপারটি এত দিন আমার নজরে আনা হয়নি। সম্প্রতি ব্যাপারটি জানতে পেরেছি। যেকোনো মূল্যে বিষয়টি আমরা সমাধান করব।

আশা করি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অবিলম্বে বেতন নির্ধারণে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করা হবে।

কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

ঢাকা যখন ‘গোল্ড করিডর’

কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে কয়েক দিন পর পর সোনা জব্দের ঘটনা যেন ধারাবাহিক রুটিনে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই দেখা যায়, কাস্টম হাউস, শুল্ক গোয়েন্দা এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সোনার বার, গয়না ও তরল সোনা জব্দ হচ্ছে। ধারণা করা হয়, চোরাচালানের যে পরিমাণ সোনা ধরা পড়ছে, তার থেকে বহুগুণ বেশি সোনা বিমানবন্দরের সুরক্ষিত নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হয়ে চলে যাচ্ছে। আবার এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতারাও থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চোরাচালানের গোল্ড করিডর তকমা পর্যন্ত পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম সোনার (১৬০টি বার) চোরাচালান জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। বিমানটি ঢাকায় এসেছে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে। কিন্তু কাউকে আটক করা যায়নি। এর আগে ১১ জুন ৬০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। তারও আগে ২৮ মার্চ প্রায় ১৮ কেজি সোনা জব্দ করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, চলতি বছর প্রায় ৬৩ কেজি সোনা জব্দ করা হয়েছে। আর বিগত পাঁচ বছরে জব্দকৃত সোনার পরিমাণ প্রায় ৪৭ মণ। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই বিপুল পরিমাণ সোনা জব্দ করা হলেও এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নজির অত্যন্ত কম।

খবরে বলা হয়েছে, চোরাপথে বেশির ভাগ সোনা আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এই অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭০টি সিন্ডিকেট। আবার অভিযোগ রয়েছে, দেশের সিভিল এভিয়েশন ও শুল্ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরাও চোরাকারবারিদের সহযোগিতা করে থাকেন। 

এদিকে পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত অভিনব সব কৌশল ব্যবহার করছে। এ জন্য সোনার চালান জব্দের কাজটি বেশ কঠিন। সোনার চালান জব্দের পাশাপাশি মূল হোতাদের আটক করতে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর আরো সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা মনে করি, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া যেখান থেকে সোনা আসছে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শক্তিশালী সমন্বয় তৈরি করাও জরুরি।

ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন

জনস্বাস্থ্যে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব

ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন

দেশে কীটনাশকের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কীটনাশকের প্রভাবে দূষণ বাড়ছে। উপকারী কীটপতঙ্গ, অণুজীব, মাছসহ জলজ প্রাণী কমছে। দীর্ঘ মেয়াদে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে। আবার ফলমূল ও শাক-সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং কীটনাশকের প্রভাব কাটার আগেই বাজারজাত করায় তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। দেশে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের রোগ দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবের যোগসূত্র থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ও ক্ষতিকর ব্যবহার রোধে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

ফলমূল বা শাক-সবজিতে কীটনাশক ব্যবহারের পর তা খাদ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। একেক ধরনের কীটনাশকের ক্ষেত্রে এই সময় একেক রকম। সে জন্য ফল বা সবজি তোলার বা বাজারজাত করার আগে আগে কীটনাশক ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু আমাদের কৃষকদের সেই জ্ঞান সীমিত। এমনও দেখা যায়, সকালে কীটনাশক ছিটানোর পর বিকেলে সবজি বাজারজাত করা হয়। আবার গণমাধ্যমে এমন খবরও এসেছে যে বেগুন বাজারজাত করার আগে ড্রামে রাখা কীটনাশক মেশানো পানিতে চুবিয়ে নেওয়া হয়, যাতে পোকামাকড়ের কারণে বেগুন নষ্ট না হয়। কীটনাশকের এ ধরনের অপব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। জানা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার ছিল মাত্র চার হাজার মেট্রিক টন। পাঁচ দশকের ব্যবধানে সেই পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ বেড়ে ৪০ হাজার টন ছাড়িয়েছে। ধান, শাক-সবজি, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনে বর্তমানে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, গত পাঁচ বছরেই দেশে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৮১.৫ শতাংশ।

মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক কৃষক সুপারিশ করা মাত্রা ও সময়সীমা না মেনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে ফসলে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থেকে যাচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উপকারী পোকামাকড় ও মাটির অণুজীব ধ্বংস হচ্ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব রাসায়নিক জলাশয়ে গিয়ে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও হুমকি তৈরি করছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে আসা সবজি সংগ্রহের সময় ২০ থেকে ৩০ শতাংশে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তালতলা ও যাত্রাবাড়ী বাজার থেকে সংগ্রহ করা বেগুন ও ফুলকপির নমুনায় উচ্চ মাত্রায় ক্ষতিকর অর্গানোফসফরাস কীটনাশকের উপস্থিতি রয়েছে। ২১টি নমুনার ২০টিতেই কীটনাশকের মাত্রা ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্ধারিত সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ সীমা অতিক্রম করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কীটনাশকের ব্যবস্থাপনা সংস্কারে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। কঠোর করা হচ্ছে নতুন বালাইনাশকের নিবন্ধন, অনুমোদন ও আমদানি নীতিমালা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের কাঁচামাল আমদানিতে কড়াকড়ি, ল্যাব পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশক ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায়ে কীটনাশকের ব্যবহার কার্যকরভাবে মনিটর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিলারদের জবাবদিহি বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ

কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান

একসময় দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজে ক্রেতাদের চোখ জ্বালা করত, দাম ছিল চড়া। সেই পেঁয়াজ এবার দেশে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদিত হয়েছে। দামও কমেছে। বলা হচ্ছে, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে দেশ, যা অত্যন্ত আশা-জাগানিয়া খবর। কিন্তু একই সঙ্গে হতাশ হতে হয়, যখন দেখা যায় পেঁয়াজ চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, বেশির ভাগ পেঁয়াজ চাষি তাঁদের উৎপাদন খরচের অর্ধেকও তুলতে পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ পরিমাণ পেঁয়াজ ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এর পরও স্বস্তিতে নেই তাঁরা। জানা গেছে, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদন খরচের অর্ধেকের কম দামে কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষোভ, হতাশায় অনেক কৃষককে পুকুর বা ডোবার পানিতে পেঁয়াজ ফেলে দিতেও দেখা গেছে। এবার প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়ও নেমে এসেছে। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ টাকা। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, দেশ যখন পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে, সেই সময়ও এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করছেন। এতে কৃষক আরো ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, তাঁরা ক্ষতির মুখে আছেন। এই অবস্থায় আমদানির কোনো সুযোগ নেই। আমরা পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নিতে চাইছি। তাঁর এই কথার বাস্তবায়ন জরুরি।

খবরে বলা হয়েছে, সারা বছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে এবার পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার টন। আরো আশার কথা শুনিয়েছেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাসউদুল হক ঝন্টু। তিনি জানান, পেঁয়াজের ২২টি ফেনোটাইপ নিয়ে গবেষণা চলছে এবং প্রতিবছর উৎপাদন ৭ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি বড় অংশই মুড়ি কাটা বা আগাম জাতের, যা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায় না। এ ছাড়া মূল মৌসুমের হালি পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য দেশে আধুনিক বা নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার স্টোরেজ অনেক কম। এ কারণে প্রতিবছর উৎপাদিত পেঁয়াজের উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়।

আমরা মনে করি, রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন অনেক বড় অর্জন, তবে এই অর্জন ধরে রাখাও কম বড় চ্যালেঞ্জ নয়। এর জন্য প্রথমত কৃষক যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা দেখতে হবে। তাঁদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক স্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।