• ই-পেপার

কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

  • ঢাকা যখন ‘গোল্ড করিডর’

ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন

জনস্বাস্থ্যে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব

ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন

দেশে কীটনাশকের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কীটনাশকের প্রভাবে দূষণ বাড়ছে। উপকারী কীটপতঙ্গ, অণুজীব, মাছসহ জলজ প্রাণী কমছে। দীর্ঘ মেয়াদে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে। আবার ফলমূল ও শাক-সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং কীটনাশকের প্রভাব কাটার আগেই বাজারজাত করায় তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। দেশে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের রোগ দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবের যোগসূত্র থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ও ক্ষতিকর ব্যবহার রোধে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

ফলমূল বা শাক-সবজিতে কীটনাশক ব্যবহারের পর তা খাদ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। একেক ধরনের কীটনাশকের ক্ষেত্রে এই সময় একেক রকম। সে জন্য ফল বা সবজি তোলার বা বাজারজাত করার আগে আগে কীটনাশক ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু আমাদের কৃষকদের সেই জ্ঞান সীমিত। এমনও দেখা যায়, সকালে কীটনাশক ছিটানোর পর বিকেলে সবজি বাজারজাত করা হয়। আবার গণমাধ্যমে এমন খবরও এসেছে যে বেগুন বাজারজাত করার আগে ড্রামে রাখা কীটনাশক মেশানো পানিতে চুবিয়ে নেওয়া হয়, যাতে পোকামাকড়ের কারণে বেগুন নষ্ট না হয়। কীটনাশকের এ ধরনের অপব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। জানা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার ছিল মাত্র চার হাজার মেট্রিক টন। পাঁচ দশকের ব্যবধানে সেই পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ বেড়ে ৪০ হাজার টন ছাড়িয়েছে। ধান, শাক-সবজি, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনে বর্তমানে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, গত পাঁচ বছরেই দেশে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৮১.৫ শতাংশ।

মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক কৃষক সুপারিশ করা মাত্রা ও সময়সীমা না মেনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে ফসলে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থেকে যাচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উপকারী পোকামাকড় ও মাটির অণুজীব ধ্বংস হচ্ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব রাসায়নিক জলাশয়ে গিয়ে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও হুমকি তৈরি করছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে আসা সবজি সংগ্রহের সময় ২০ থেকে ৩০ শতাংশে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তালতলা ও যাত্রাবাড়ী বাজার থেকে সংগ্রহ করা বেগুন ও ফুলকপির নমুনায় উচ্চ মাত্রায় ক্ষতিকর অর্গানোফসফরাস কীটনাশকের উপস্থিতি রয়েছে। ২১টি নমুনার ২০টিতেই কীটনাশকের মাত্রা ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্ধারিত সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ সীমা অতিক্রম করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কীটনাশকের ব্যবস্থাপনা সংস্কারে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। কঠোর করা হচ্ছে নতুন বালাইনাশকের নিবন্ধন, অনুমোদন ও আমদানি নীতিমালা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের কাঁচামাল আমদানিতে কড়াকড়ি, ল্যাব পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশক ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায়ে কীটনাশকের ব্যবহার কার্যকরভাবে মনিটর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিলারদের জবাবদিহি বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ

কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান

একসময় দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজে ক্রেতাদের চোখ জ্বালা করত, দাম ছিল চড়া। সেই পেঁয়াজ এবার দেশে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদিত হয়েছে। দামও কমেছে। বলা হচ্ছে, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে দেশ, যা অত্যন্ত আশা-জাগানিয়া খবর। কিন্তু একই সঙ্গে হতাশ হতে হয়, যখন দেখা যায় পেঁয়াজ চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, বেশির ভাগ পেঁয়াজ চাষি তাঁদের উৎপাদন খরচের অর্ধেকও তুলতে পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ পরিমাণ পেঁয়াজ ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এর পরও স্বস্তিতে নেই তাঁরা। জানা গেছে, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদন খরচের অর্ধেকের কম দামে কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষোভ, হতাশায় অনেক কৃষককে পুকুর বা ডোবার পানিতে পেঁয়াজ ফেলে দিতেও দেখা গেছে। এবার প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়ও নেমে এসেছে। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ টাকা। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, দেশ যখন পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে, সেই সময়ও এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করছেন। এতে কৃষক আরো ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, তাঁরা ক্ষতির মুখে আছেন। এই অবস্থায় আমদানির কোনো সুযোগ নেই। আমরা পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নিতে চাইছি। তাঁর এই কথার বাস্তবায়ন জরুরি।

খবরে বলা হয়েছে, সারা বছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে এবার পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার টন। আরো আশার কথা শুনিয়েছেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাসউদুল হক ঝন্টু। তিনি জানান, পেঁয়াজের ২২টি ফেনোটাইপ নিয়ে গবেষণা চলছে এবং প্রতিবছর উৎপাদন ৭ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি বড় অংশই মুড়ি কাটা বা আগাম জাতের, যা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায় না। এ ছাড়া মূল মৌসুমের হালি পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য দেশে আধুনিক বা নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার স্টোরেজ অনেক কম। এ কারণে প্রতিবছর উৎপাদিত পেঁয়াজের উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়।

আমরা মনে করি, রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন অনেক বড় অর্জন, তবে এই অর্জন ধরে রাখাও কম বড় চ্যালেঞ্জ নয়। এর জন্য প্রথমত কৃষক যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা দেখতে হবে। তাঁদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া পেঁয়াজ সংরক্ষণে আধুনিক স্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

বাড়ছে সাইবার অপরাধ

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

তথ্য-প্রযুক্তিতে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং এটিই কাঙ্ক্ষিত। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই এখন ডিজিটাইজ হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিজীবনেও মানুষ অনেক বেশি ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। শুধু শহর এলাকায় নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও মানুষ ইন্টারনেটে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশে কিংবা বিদেশে থাকা স্বজন ও সুহৃদদের সঙ্গে আলাপচারিতা হোক, দেশ-বিদেশের খবরাখবর কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের যোগাযোগনানা ক্ষেত্রেই বর্তমানে নেট অপরিহার্য। কিন্তু প্রদীপের নিচে যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি ভালোর বিপরীতে মন্দও থাকে। তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের পরিমাণও। ক্রমেই অধিক হারে মানুষ এ ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে। অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাও ঘটছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই রাষ্ট্রীয় কিংবা ব্যক্তিগত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড হ্যাকিংয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সারা পৃথিবী আজ সাইবার নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যথার্থই বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হাতে দমন করা হবে। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও অনুরূপ সতর্কবার্তা তুলে ধরেন। গত বুধবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ প্রান্তিক কণ্ঠস্বর-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হাজার কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেওয়া থেকেও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সাইবারজগতের সুবিধার অপব্যবহার করে অনেক ধরনের অপরাধই ঘটে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম নানা ধরনের প্রতারণা। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানএই তিন দেশের প্রতারকদের একটি চক্র মানুষের সঙ্গে নানাভাবে প্রতারণা করছে। আর এ কাজে ব্যবহার করছে ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমকে। গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সময় এমন অনেককে আটকও করেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও এদের দৌরাত্ম্য কমছে না। অনেক নিরীহ মানুষ এদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। ঋণ প্রদান, চাকরি প্রদান কিংবা আরো অনেক প্রলোভন তৈরি করে প্রতারকরা মানুষের সর্বনাশ করে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে বিকৃত অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এদের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আবার জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডেও সাইবারজগতের ব্যবহার রয়েছে। রয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড কিংবা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে পরিচালিত নানা ধরনের অপচেষ্টা।

সাইবার নিরাপত্তার অর্থ হলো, ক্ষতিকর আক্রমণ এবং অনুমোদনহীন অনুপ্রবেশ থেকে ডিজিটাল সম্পদ, নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমকে রক্ষা করার সক্রিয় ব্যবস্থা। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সাইবার ঝুঁকি প্রশমনের জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থারও সতর্ক প্রয়োগ থাকা জরুরি।

আমরা মনে করি, সাইবার অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যের গোপনীয়তা, অখণ্ডতা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

মানবপাচারে দালালের দৌরাত্ম্য

কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশে কর্মসংস্থানের সংকট, আকাশছোঁয়া বেকারত্ব ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে পড়ে অনেকে অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হন। তাঁদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয় না। অনেকে জিম্মিদশার শিকার হন। চলে জুলুম-নির্যাতন। আবার চাইলে বাড়িও ফেরা যায় না। সে ক্ষেত্রেও লাখ লাখ টাকার মামলা। এভাবে বহু পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে।

কালের কণ্ঠের খবরে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে হাজারো বাংলাদেশি ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁদের চাকরির কথা বলে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের বাধ্য করা হয় প্রতারণার কাজে। এমনই এক ভুক্তভোগী নোয়াখালীর আব্দুল্লাহ আল শাকিল গত ফেব্রুয়ারিতে দালালদের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। তাঁকেও এক স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে দুই লাখ টাকা পরিশোধের পর কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে দেশে ফিরেছেন। আরেক খবরে দেখা গেছে, রাজবাড়ী জেলার আলী হাসান সোহেল অটোরিকশা চালাতেন। জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে কষ্টের টাকা দিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। কথা ছিল, মাসে ৬০ হাজার রুবলে নির্মাণকাজ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, নামমাত্র ট্রেনিং দিয়ে তাঁকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। ড্রোন হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেল। ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি। সোহেলের মতো আরো অনেক বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এটি ঠিক যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে যাঁরা বৈধ পথে বিদেশে যান, তাঁরা প্রতারণার শিকার হন না। কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল দেশের বাস্তবতা হলো, বহু লোক দালালদের কথা বিশ্বাস করেন বা ভুঁইফোড় এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যান। অনেকে সরকারি দপ্তরের নিয়ম-কানুন বোঝেন নামূলত দালালরা তাঁদেরই টার্গেট করে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবপাচার ও প্রতারণা প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে দালালচক্রের বিরুদ্ধে শাস্তির নজির কম। এ কারণেও দালালদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

দেশের মানুষ জীবিকার তাগিদে ভিটামাটি বিক্রি করে বিদেশে যেতে চান, তাঁরা যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য দালালচক্রের অপতৎপরতা বন্ধে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিএমইটির পরিষেবা যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছানো যায়, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতন প্রয়াসও।