একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য স্থানীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচন যেখানে একটি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়, সেখানে স্থানীয় নির্বাচন হলো তার ভিত্তি। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা বা পৌরসভা স্তরের জনপ্রতিনিধিরাই জনগণের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকেন, তাই এই পর্যায়ে সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা বাঞ্ছনীয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান যথার্থই বলেছেন, ‘নির্বাচনসংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করলে যে কেউ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, এ বিষয়ে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কারণ নেই।’
কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকার চাইছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকুক। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ চাইলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, যেহেতু এটা নির্দলীয়ভাবে হচ্ছে।’ তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আওয়ামী লীগের পদ-পদবী যাঁদের রয়েছে তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন কি না? জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, সংগঠন নিষিদ্ধ নেই। কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ, এই পদ-পদবী তিনি আসলে ব্যবহার করছেন না, করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে কেউ যদি শর্তাবলি পূরণ করতে পারেন, তাহলেই তিনি নির্বাচন করতে পারবেন।’ তবে আওয়ামী লীগ বা দলীয় বক্তব্য প্রচার করা যাবে না বলেও জানান তিনি।
চব্বিশের গণ-আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আবারও ফিরে আসবে কি না, এলে কখন কিভাবে আসবে—তা নিয়ে চায়ের আড্ডায়, সামাজিক মাধ্যমে হরদম আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য প্রাসঙ্গিক মনে করছেন অনেকেই। প্রকৃতপক্ষে, যারা অপরাধ করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া দরকার। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু দেশে যে বিপুলসংখ্যক সমর্থক, নেতাকর্মী রয়েছেন তাঁদের গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার সুযোগ কোথায়?
এ বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে বলে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এটি হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন। এটি সরকারের জন্য পরীক্ষাও বটে। আমরা আশা করি, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার মধ্য দিয়ে সরকার সফলতার সঙ্গে তা উত্তীর্ণ হবে।

