• ই-পেপার

নিম্নবিত্তদের দুর্ভোগ চরমে উঠবে

  • নতুন খড়্গ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় দুরবস্থা

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

দেশে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম যারপরনাই হতাশাজনক। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর অন্যতম কারণ আর্থিক বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। কিন্তু এটিও দেখা গেছে, যেটুকু বরাদ্দ রয়েছে, সেটুকুও যথাযথ ব্যবহৃত হচ্ছে না। আবার যেসব গবেষণা হচ্ছে, তার সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা নেই, নেই কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতি। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় এসব গবেষণার ফল তেমন কাজেও আসছে না।

দেশে এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৫ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬। মোট ১৭১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, ১৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় দুই কোটি টাকার নিচে। সরকারি ৩৩টি এবং বেসরকারি ৯৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ব্যয়ের চিত্র খুবই করুণ। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা নিজেদের পদোন্নতির জন্য যেনতেনভাবে গবেষণাপত্র জমা দিচ্ছেন। অনেক গবেষণায় বড় ধরনের চৌর্যবৃত্তির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এই হলো মোটাদাগে সার্বিক পরিস্থিতি। তবে এসবের ভিড়ে মানসম্মত গবেষণা যে একেবারেই নেই, তা নয়। কিন্তু সেই সংখ্যা অতি নগণ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয় নিয়ে ইউজিসি সর্বশেষ ২০২৩ সালে তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, সরকারি ৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় ছিল ১২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যয় করেছে, ১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০২৩ সালে বেসরকারি ১১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যয় ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় একাই ব্যয় করেছে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই গবেষণা ব্যয় অনেক কম। এসব কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম কোনো র‌্যাংকিংয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না।

ইউনেসকোর পরামর্শ হলো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা প্রয়োজন। সেখানে বাংলাদেশে ব্যয় করা হচ্ছে মাত্র ১.৫৩ শতাংশ। আবার যে পরিমাণ বরাদ্দ থাকে, তারও বেশির ভাগ ব্যয় হয় অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ। সেই তুলনায় গবেষণায় নামমাত্র বরাদ্দ থাকে। এত অল্প বরাদ্দে মানসম্পন্ন গবেষণা কার্যক্রম প্রায় অসম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার সূতিকাগার। এর প্রাণভোমরা হলো মৌলিক ও ফলিত গবেষণা। কাজেই আমাদের উচ্চশিক্ষার মান উন্নত করতে হলে অবশ্যই গবেষণা খাতে ব্যয় ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে জিডিপির একটি নির্দিষ্ট অংশ গবেষণার জন্য সুনির্দিষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নানা অনিয়ম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক

ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরুক

ঢাকার রাস্তায় অনিয়মের শেষ নেই। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, বেআইনিভাবে লেন পরিবর্তন, জেব্রা ক্রসিং দখল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ বহু অনিয়ম এখানে নিত্যদিনের চিত্র। পরিস্থিতি এমন, চিরচেনা এই শহরে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক নগরায়ণের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত সড়কে এরই মধ্যে ১২০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিগগির আরো ৪০০ এআই ক্যামেরা বসানো হবে। জানা গেছে, ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। বর্তমানে ১১০টি ক্যামেরা থেকে ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে এগুলো এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দেখা গেছে, অনেক অনিয়ম শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এসব ক্যামেরা। নিয়ম অমান্য করলে জরিমানাসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হতে না হতেই এটি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে। এক মোটরসাইকেলচালককে নাম্বার প্লেট ঢেকে চলাচল করতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই চালককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তি চালুর পর সেটি ফাঁকি দেওয়ার নানা চেষ্টা হতে পারে। এসব রোধে বিশেষ অভিযান চলবে বলে জানান তিনি। এআই ক্যামেরার সুফল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

এআই ক্যামেরা অনেক বেশি নিখুঁত ও স্বয়ংক্রিয়। বলা বাহুল্য, এর সংযোজন প্রচলিত ট্রাফিক ব্যবস্থায় নতুন সক্ষমতা যোগ করবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞমহল বলছে, ঢাকার সড়ক কি নতুন এই প্রযুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত? এআই ক্যামেরা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য রাস্তায় সুনির্দিষ্ট লেন, জেব্রা ক্রসিং এবং রোড সাইন স্পষ্ট থাকা জরুরি, যা ঢাকার বেশির ভাগ সড়কেই নেই। অনেক গাড়িতে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট নেই, অনেক ভুয়া নম্বর ব্যবহারের নজিরও রয়েছে। এতে দেখা যাবে, অপরাধ করবে একজন, আর এআই জরিমানা পাঠাবে আরেকজনের কাছে।

শুধু এআই ক্যামেরা বসানোই যথেষ্ট নয়, নতুন প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে এর সফল বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এ লক্ষ্যে সুসমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস, বাড়ছে খেলাপি ঋণ

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের অর্থনীতি রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সময়ে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো গণহারে চাঁদাবাজি ও হামলার শিকার হতে থাকে। জ্বালাও-পোড়াও, মব সন্ত্রাস বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে। সেই সঙ্গে চলতে থাকে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের নানাভাবে হয়রানি করা। মামলা, অ্যাকাউন্ট জব্দ, বিদেশযাত্রায় বাধাসহ নানা কারণে উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে ঋণের উচ্চ সুদের হার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, ডলার সংকট, আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ নানা কারণে ধুঁকতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্য। বৈশ্বিক পরিস্থিতিও নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে আসে। ব্যবসা-বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নামে। বহু কারখানা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। আর ব্যবসা-বাণিজ্যের এমন দুরবস্থার কারণে অনেক ঋণগ্রহীতাই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন। ফলে দ্রুত বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ।

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও দুর্নীতির উচ্চমাত্রার প্রভাবে খেলাপি ঋণ অনেক বৃদ্ধি পায়। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। আর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন ঘটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ছাড়ে ২০২৬ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে। আর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বাড়ে আরো ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে উচ্চ সুদের হার, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধ এবং আমাদের দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যতম। এত দিন কোনো নির্বাচিত সরকার ছিল না। তাই বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। তাই আমরা ব্যবসাও করতে পারিনি। বেসরকারি খাতকে সহায়তা না করে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরো ক্ষতি করেছে। তারা ছিল একটি ব্যবসাবিরোধী সরকার। শুধু বাণিজ্য খাত নয়, ওই সরকার ব্যাংকগুলোকে দুর্বল ঘোষণা করার মাধ্যমে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগ ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কঠোর কড়াকড়িতে বলতে গেলে ঋণই পাচ্ছেন না বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত থেকে বেসরকারি খাতের ঋণের এমন দুর্ভাগ্যজনক চিত্রই পাওয়া গেছে। গত মার্চ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৭২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এটি গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দশকের বেশি তথ্য সংরক্ষণ করে না। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাস্তবে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ঋণপ্রবাহ।

আমরা মনে করি, দ্রুততম সময়ে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা আশা করি, নির্বাচিত সরকার সেই লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ইতিহাস আপনাকে মনে রাখবে

তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ

ইতিহাস আপনাকে মনে রাখবে

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কিংবদন্তি নেতা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা অপূরণীয়। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা শুধু একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককেই হারাইনি, হারিয়েছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস ও অকুতোভয় এক কাণ্ডারিকে। দেশের রাজনীতির ইতিহাসে যে কজন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছেন, তোফায়েল আহমেদ তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। বিশ্লেষকদের মতে, তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনীতির সুদীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। 

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তোফায়েল আহমেদকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিউমোনিয়া থেকে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরবর্তী আট মাসের বেশি সময় তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। অবশেষে গত সোমবার তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর পর এক নিবন্ধে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী লিখেছেন, ৬৯-এর গণ-আন্দোলনে যদি তোফায়েল আহমেদ না থাকতেন, যদি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে না বের করে আনতে পারতাম, বঙ্গবন্ধু যদি ৬৯-এ মুক্তি না পেতেন, আইয়ুব খানের বিদায় না হতো, তাহলে আজ বাংলাদেশ হতো না।  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবরে বলা হয়েছে, তাঁর জানাজায় দল-মত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল।

রাজনীতিতে মতপার্থক্য, আদর্শিক দূরত্ব থাকবে। দলীয় রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও স্বাভাবিক বিষয়। তার পরও দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে খুব কম নেতাই সর্বজনীন হয়ে উঠতে পারেন, গণমানুষের কাছাকাছি যেতে পারেন। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন সেই বিরলপ্রজ নেতাদের একজন। উনসত্তরে গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর সংসদীয় রাজনীতি কিংবা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি যে প্রজ্ঞা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। সংগত কারণে ইতিহাসের পাতায় তিনি থাকবেন আবশ্যিক অধ্যায় হিসেবে।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমরা এই মহান নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।