ভাইভা হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি ২০২৬। ভাইভা রুমে ছিলাম ১৫ মিনিটের মতো। দরজা খুলেই বললাম, স্যার, আসতে পারি। চেয়ারম্যান স্যার ‘আসুন’ বলে বসতে বললেন। আমি ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বসলাম।
চেয়ারম্যান : আপনি সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে মাস্টার্স করেছেন?
জি, স্যার।
এর আগে কাউকে এই সাবজেক্টের পাইনি। গুড। আচ্ছা মিস্টার নাবিল তাহমিদ, একজন মানুষকে কি তার পার্সোনালিটি ও এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস দিয়ে যাচাই করা পসিবল?
জি স্যার, পসিবল।
তাহলে বলুন, আপনি পড়াশোনার বাইরে কী করেছেন ক্যাম্পাসে?
স্যার, আমি পড়াশোনার বাইরে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিতে সদস্য হিসেবে ছিলাম। আমি সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছি।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আপনার ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের একটা উদাহরণ দিন।
স্যার, ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিভিন্ন আন্দোলনের সামনে থেকে কাজ করতে হয়। সেখানে নানা রকম ক্রাইসিস ম্যানেজ করতে হয়।
না, সুনির্দিষ্ট একটি ঘটনা বলুন।
(আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন প্রোগ্রামের একটি ঘটনা উল্লেখ করলাম।)
কখনো সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হননি?
জি স্যার, হয়েছি।
সে রকম একটা ঘটনা বলুন।
(অন্য ক্যাম্পাস থেকে মাস্টার্স করতে আসা ছাত্রদের আবাসন সমস্যার একটা ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বলি।)
আচ্ছা সাংবাদিকতা বাদে আর কী করেছেন?
স্যার, সাংবাদিকতা ছাড়াও আমি ছোটগল্প, কবিতা ও গান লিখেছি।
কী ধরনের বিষয় নিয়ে লিখতেন?
মূলত প্রকৃতি, জীবন আর প্রেম বিষয়ে লিখতাম। (প্রেম শব্দটা বলা ঠিক হলো কি না, তাই একটা হাসি দিলাম। চেয়ারম্যান স্যার বুঝতে পেরে বললেন, ‘ঠিক আছে, এটা স্বাভাবিক। সমস্যা নেই।)
আচ্ছা, এমন একটা কাজ বলুন, যেটা ক্যাম্পাসে আর কেউ করেনি কিন্তু আপনি শুরু করেছেন।
স্যার, আমি কৃষিবিষয়ক একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলাম, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষিশিক্ষাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।
সেটা বন্ধ করে দিলেন কেন?
চাকরির প্রিপারেশন নিতে গিয়ে আর কন্টিনিউ করা সম্ভব হয়নি।
আপনার কিসে দুর্বলতা?
স্যার, আমার দুর্বলতা কথোপকথনে। (আমি যেসব দুর্বলতা বলব বলে ভেবে রেখেছিলাম সেগুলো বলা হয়নি। স্যার শুরুতে একটা ব্রিফিং দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি যা, তা-ই বলবেন। মিথ্যা কিছু বলার দরকার নেই।’ এ জন্য বানিয়ে না বলে যেটা সত্যি সেটাই বলেছি।)
What do you do to overcome this?
Sir, I am trying my best to improve this problem.
এখন তো অনেক অনলাইন কোর্স আছে। এগুলো করবেন।
জি স্যার, আমি করব।
এক্সটার্নাল-১ : আপনি তো সিড সায়েন্সে পড়েছেন। কয়েকটি সিড বর্ন ডিজিজের (বীজবাহিত রোগ) নাম বলুন তো।
Loose smut, Fusurium ছত্রাকের মাধ্যমে এই ধরনের রোগ হয়। (এটা ছাড়া আর কোনো রোগের নাম মনে আসেনি। তাই ‘স্যরি’ বললাম।)
Why do we need to import seeds?
Sir, Mainly BADC produces and distributes seeds in our country. But it is not sufficient. Our farmers are not well educated to produce seeds. And that’s why many private companies import seeds to meet the demand.
কিছু সিড কম্পানির নাম বলুন।
(আমি তিনটি সিড কম্পানির নাম বললাম। অন্যগুলো মাথায় আসেনি।)
Why will we recruit you as an Administration Officer?
Sir, I have leadership skills, as I was the president in BAU Journalists’ Association. I have good communication skills and computer literacy. So, I think, I have the ability to be a BCS Administration Officer.
এক্সটার্নাল-২ : আপনার প্রথম চয়েস পরেই ট্যাক্সেশন ও কাস্টমস রয়েছে (যদিও কাস্টমস চয়েসে ছিল না)। এগুলো তো সাধারণত অবৈধ সুযোগের জন্য মানুষ পছন্দ করে। আপনি কেন আসতে চান?
স্যার, প্রশাসন ক্যাডারের মাধ্যমে আমি সরাসরি জনসেবায় কাজ করতে পারব। আর ট্যাক্সেশন ও কাস্টমসের মাধ্যমে আমি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার সুযোগ পাব। আর স্যার, অবৈধ সুযোগ গ্রহণের কোনো উদ্দেশ্যই আমার নেই।
আপনি ‘ব্যালান্স অব পেমেন্ট’ ও ‘ব্যালান্স অব ট্রেড’-এর পার্থক্য বলুন।
(‘ব্যালান্স অব ট্রেড’ সম্পর্কে ধারণা থাকলেও ‘ব্যালান্স অব পেমেন্ট’ সম্পর্কে ধারণা ছিল না। আর পার্থক্যও জানা ছিল না। তাই ‘স্যরি’ বলি।)
এটা আপনার চয়েস লিস্টে আছে। এটা তো আপনার জানা উচিত ছিল।
স্যরি, স্যার। এটা আমার জানা উচিত ছিল, কিন্তু এই মুহূর্তে পারছি না।
আচ্ছা, আপনি ট্যারিফ আর ট্যাক্স সম্পর্কে বলতে পারবেন?
জি স্যার, ট্যারিফ হলো দেশের বাইরে থেকে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক। আর ট্যাক্স হলো দেশে উৎপাদিত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক।
তাহলে ভ্যাট কী? ট্যাক্স নাকি ট্যারিফ?
স্যার, ভ্যাট হলো ট্যাক্স।
আপনি নিশ্চিত?
জি স্যার।
ট্যাক্স কত প্রকার ও কী কী?
স্যার, ট্যাক্স দুই প্রকার—প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর।
তাহলে ভ্যাট কোন ধরনের কর?
পরোক্ষ কর।
(এই প্রশ্নের পর চেয়ারম্যান স্যার বললেন, ‘ছেড়ে দিন।’ এক্সটার্নাল-২ স্যারের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বেরিয়ে এলাম।)
বিসিএস ভাইভা প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ
পিএসসিতে আমার তিনবার ভাইভা দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। তিনটি ভাইভাতেই সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এর মধ্যে দুইবার নন-ক্যাডার (সহকারী তথ্য কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা) ও সর্বশেষ কৃষি ক্যাডার। তিনটি ভাইভার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, ভাইভায় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব যাচাই করা হয়। ভাইভায় ভালো করার জন্য নিজেকে জানাটা জরুরি। নিজের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাটা জানতে পারলেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও ভাইভায় যাচাই করা হয়। কারণ একজন বিসিএস কর্মকর্তাকে তাঁর অধীন এলাকায় বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। প্রার্থীর পাঠ্যক্রমবহির্ভূত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজও মূল্যায়ন করা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর বিশ্নেষণধর্মী আলোচনা ভাইভার অন্যতম অংশ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ঘটনা, কারণ ও বিশ্লেষণ করার দক্ষতা প্রার্থীকে অনেক এগিয়ে রাখে। মোটকথা, যেকোনো বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকাটা জরুরি।




