এখন আমের মৌসুম। পাকা আম খাওয়ার পাশাপাশি ত্বকচর্চায়ও ব্যবহার করতে পারেন। আমে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন এ, বি, ই ও কে। এ ছাড়া প্রচুর কপার, ফোলেট, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন পাওয়া যায় আমে। এসব পুষ্টি উপাদানের সমন্বয়ে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উপকরণ হিসেবে আম ব্যবহূত হচ্ছে। ত্বকের ম্লানভাব দূর করা, কোলাজেন উত্পাদন, ত্বক টান টান ও উজ্জ্বল দেখানো, বলিরেখা দূর করাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও ঘরোয়া টোটকা হিসেবে আমকে কাজে লাগাতে পারেন।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। অতিরিক্ত শুষ্কতা দূর করতে নিয়মিত আমের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এক টেবিল চামচ আমের পাল্প নিন। এর সঙ্গে দুই চা চামচ বেসন ও কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে ঘন প্যাক বানিয়ে নিন। এরপর প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাক ব্যবহার করুন।
আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তবে এক টেবিল চামচ আমের পাল্পের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মুলতানি মাটি ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। আম, মুলতানি মাটি ও লেবুর এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব দূর হবে।

স্বাভাবিক ত্বকের যত্নেও আম উপকারী। এক টেবিল চামচ মসুর ডালের গুঁড়া নিন। এর মধ্যে এক টেবিল চামচ আমের পাল্প ও এক টেবিল চামচ গোলাপজল ভালো করে মিশিয়ে ঘন প্যাক বানিয়ে নিন। মুখের ত্বকে প্যাক লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হবে।
আমের সঙ্গে চন্দন গুঁড়ার মিশ্রণ এই গরমে মুখের একটি আদর্শ মাস্ক। দুই টেবিল চামচ পাকা আমের পাল্প, এক টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া ও দুই চামচ গোলাপজল মিশিয়ে ঘন প্যাক বানিয়ে মুখ ও গলায় মেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আর্দ্র ও কোমল হবে।
সারা বছর ত্বকের যত্নে আম ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য পাকা আমের রস ডিপ ফ্রিজে রেখে ছোট ছোট কিউব করে সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের আগে কিউব বের করে গলিয়ে নিন। পাকা আমের সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া যখনই আম খাবেন সম্ভব হলে খাওয়ার পরপরই খোসাটুকু ত্বকে ঘষুন। ত্বকে হলুদাভ দীপ্তি খেলা করবে।
খেয়াল রাখুন
* ত্বকের যত্নে গাছপাকা আম ব্যবহার করুন। কেনা আম ব্যবহার করতে চাইলে তা যেন কার্বাইডমুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
* টাটকা আমের পাল্প দিয়ে প্যাক বানিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করুন। নয়তো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হবে।








