অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টির নাম শব্দ। গঠনের দিক থেকে শব্দ দুই প্রকার। যথা—মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ। একাধিক মৌলিক শব্দ যুক্ত হয়ে বা মৌলিক শব্দের সঙ্গে প্রত্যয়, উপসর্গ ইত্যাদি যোগে গঠিত হয় নতুন নতুন শব্দ। এভাবে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য শব্দ তৈরির প্রক্রিয়াকে বলা হয় শব্দ গঠন। অর্থাৎ যেসব নিয়ম বা রীতি অনুযায়ী সাধিত শব্দ গঠিত হয়, সেসব নিয়ম বা রীতিকেই শব্দ গঠন রীতি বলা হয়। বাংলা শব্দ গঠনের পদ্ধতি বা উপায় : বাংলা ভাষায় শব্দগুলো নানা উপায়ে গঠিত হয়ে থাকে। নিচে শব্দ গঠনের উপায়গুলো উদাহরণসহ তুলে ধরা হলো : ক) ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ‘কার’ যোগ করে। যেমন : ম + া (আকার) = মা। খ) ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ব্যঞ্জনবর্ণের সংযোগ ঘটিয়ে বা ‘ফলা’ যোগ করে। যেমন : ক্র + ম = ক্রম, ক + র্ + ম = কর্ম। গ) সন্ধির সাহায্যে। যেমন : বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, আশা + অতীত = আশাতীত। ঘ) শব্দের শুরুতে উপসর্গ যোগ করে। যেমন : বি + ফল = বিফল, প্র + ভাব = প্রভাব। ঙ) শব্দের শেষে প্রত্যয় যোগ করে। যেমন : চল্ + অন্ত = চলন্ত (কৃৎ প্রত্যয়), বৎসর + ইক = বাৎসরিক (তদ্ধিত প্রত্যয়)। চ) সমাসের সাহায্যে। যেমন : মা ও বাবা = মা-বাবা, বিদ্যার আলয় = বিদ্যালয়। ছ) শব্দের শেষে বিভক্তি যোগ করে। যেমন : কল + এর = কলের, কর্ + ছে = করছে। জ) পদের দ্বিরুক্তির সাহায্যে। যেমন : রাজায় রাজায়, ঘণ্টায় ঘণ্টায়। ঝ) ধ্বন্যাত্মক শব্দের মাধ্যমে। যেমন : কনকন, ঝিরঝির। ঞ) পদ পরিবর্তনের মাধ্যমে। যেমন : লোক (বিশেষ্য) > লৌকিক (বিশেষণ), মূল (বিশেষ্য) > মৌলিক (বিশেষণ)।