আপনি তো ভিক্ষুকের অভিনয় করেছেন। ভিক্ষুক হওয়ার সবচেয়ে সুবিধা অসুবিধা কী? সবচেয়ে সুবিধা হলো, ভিক্ষুকের পোশাকের কোনো আয়রন করতে হয় না। আর অসুবিধা হলো, ভিক্ষুকের অভিনয় করতে গেলে অনেক ধুলাবালি শরীরে লাগে। ফলে কোনো মেকআপম্যানও কাছে আসতে চায় না। আপনার বাড়ি সুন্দরবনের পাশে। সুন্দরবনের বাঘের সঙ্গে কখনো দেখা হয়ে গেলে কী করবেন? বাঘের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে আমাকে কিছু করতে হবে না; যা করার বাঘই করবে। পকেটমারের অভিনয় করেছেন, বলতে পারেন কিভাবে পকেটমারকে সহজে ধরে ফেলা যায়? পকেটমার সামনে থেকে পকেট মারলে ধরে ফেলা যায়; কিন্তু পেছন থেকে পকেট মারলে ধরে ফেলতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পড়ালেখা করেছেন চারুকলায়। ছবি আঁকেন না কেন? হ্যাঁ, ছবি আঁকি তো। আপনি দেখতে চাইলে এখনই আমার প্রেমিকার ছবি এঁকে দেখিয়ে দিতে পারি। জীবনে কখনো প্রেমিকার ছবি এঁকেছেন? অনেকবার এঁকেছি। প্রেমিকার চোখ সুন্দর বলে সেদিকে নজর দিতে গিয়ে চোখ টেরা করে ফেলি। প্রেমিকার ছবি আঁকলেই চোখ টেরা হয়ে যায়! আপনি কি আপনার ঘরের মানুষের সঙ্গে অভিনয় করেন? কী অভিনয় বেশি করেন? হ্যাঁ, ঘরের মানুষের সঙ্গে যতবার অভিনয় করেছি, ততবারই ধরা খেয়েছি। তার পরও চেষ্টা করি অভিনয় করতে। কোনো কিছু আনতে বললে ইচ্ছা করেই না এনে বলি-ওহ্, ভুলে গেছি। আমার তো মনেই ছিল না। বউয়ের কাছে প্রেমিক হিসেবে আপনি কতটা যোগ্য? বউয়ের কথা-তুমি প্রেমিক হিসেবে একেবারেই অযোগ্য। তবে স্বামী হিসেবে অনেক ভালো। ভালো প্রেমিক হতে হলে কী গুণ থাকা দরকার? প্রেমিকার সব কথা মেনে নেওয়ার গুন। মজার ঘটনা গণধোলাই নাটকটির নাম ছিল 'সাং উলিপুর'। পরিচালক ছিলেন শাহনেওয়াজ কাকলী। রিকশাওয়ালার সঙ্গে মারামারির একটি সিকোয়েন্স ছিল সেটিতে। পরিচালক আমাকে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ক্যামেরার পেছনে চলে যান। বেশ দূর থেকে তাঁরা আমাকে ফলো করবেন। আমার সঙ্গে মারামারির জন্য একজন রিকশাওয়ালাও ঠিক করা ছিল। আমি আর রিকশাওয়ালা শট দেওয়ার জন্য তৈরি। পরিচালক 'লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন' বলতেই আমরা অভিনয় শুরু করলাম। আমি রিকশাওয়ালাকে বকাবকি করছি। সেও আমাকে বকাবকি করছে। একপর্যায়ে আমি তার কলার ধরি। সেও আমার কলার ধরে। হঠাৎ রিকশাওয়ালা বেশ হট হয়ে যায়। আমার হাতে নখ দিয়ে খামচি দিতে থাকে। আমার বুকের মধ্যেও খামচি দিয়ে বসে। মেজাজ গরম হয়ে যায় আমার। দুজনের মধ্যে সত্যিকারের মারামারি লেগে যায়। ওদিকে পরিচালক ও শুটিং ইউনিটের কেউই বুঝতে পারেননি আমরা সত্যি সত্যি মারামারি করছি। পরিচালক ভাবছিলেন, ভালোই শুটিং হচ্ছে। একদম বাস্তবের মতো। আমাদের মারামারি দেখে আশপাশের রিকশাওয়ালারা এগিয়ে আসে। তারা আমার রিকশাওয়ালার সঙ্গে জোট বাঁধে। একতাবদ্ধ হয়ে আমাকে গণধোলাই দিতে শুরু করে। তাদের মার খেয়ে আমার অবস্থা একেবারে কাহিল। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পরিচালক 'কাট কাট' বলে এগিয়ে আসেন; কিন্তু রিকশাওয়ালাদের ধোলাই কমে না। ইউনিটের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করেন। বেঁচে যাই সে যাত্রা। এরপর রাস্তায় বেরিয়ে কোনো গণধোলাই দেখলে আমাকে দেওয়া সেদিনের গণধোলাইয়ের কথা মনে পড়ে যায়। নিজের সম্পর্কে * আমি যখন ঢাকায় প্রথম কোচিংয়ের জন্য এলাম, আমার রুমে একটা ক্রিমের কৌটার মধ্যে আইকা ছিল। আমি ক্রিম মনে করে পুরো মুখে মেখেছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছিলাম যে এটা ক্রিম নয়। পাশের রুমের সবাই দেখে সেকি হাসাহাসি! * আমার আর বউয়ের একই কালারের অনেক পোশাক আছে। একবার তড়িঘড়ি করে শুটিং স্পটে গিয়ে পৌঁছে দেখি বউয়ের জামা পরে এসেছি। * 'রঙের মানুষ' নাটকের পর একবার আমি আর আমার বউ গাউছিয়া মার্কেটে শপিং করতে যাই। বউ শপিং করতে থাকে। আমি বাইরে চলে আসি। হঠাৎ এক দোকানদার আমার বউকে বলে ওঠে, আপনার সঙ্গে হাবলু টাইপের মানুষটি ছিল, সে আপনার কী হয়? অঙ্কন : বিপ্লব কথোপকথন : ফরিদুল ইসলাম নির্জন