• ই-পেপার

মুক্তিযোদ্ধা সনদ চেয়ে ৯৫ হাজার আবেদন

আজকের খেলা

আজকের খেলা

জন আরিয়াসের গোল উদযাপন

জন আরিয়াসের গোল উদযাপন
জন আরিয়াসের গোল উদযাপন। তাঁর ওই গোলেই ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া। ছবি : রয়টার্স

রাখাইনে বিমান হামলায় কাঁপছে টেকনাফ

আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি অপরাধ বন্ধে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
রাখাইনে বিমান হামলায় কাঁপছে টেকনাফ

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে দখলদার আরাকান আর্মির (এএ) ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনী। আর তার পাল্টা জবাব দিচ্ছে আরাকান আর্মি সদস্যরাও।  হামলা ও পাল্টা হামলায় হতাহত বাড়ছে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বেসামরিক লোকজন। এ অবস্থায় রাখাইন রাজ্যের বিপরীতে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ওপারে বিকট শব্দের বিস্ফোরণে এখানকার সীমান্তবর্তী মানুষজনের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। সেই সঙ্গে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কাও করছে কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার টেকনাফে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদ ও স্থল সীমানায় বিজিবি-কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টানা ১১ মাস যুদ্ধের পর ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্য থেকে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুচিডং, রাচিডং টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা দখলে নেয় আরাকান আর্মি। বাকি আছে রাজ্যের রাজধানী সিথুয়ে। এখন সিথুয়ে থেকে উড়ে এসে বিমানে হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। মংডু থেকে সিথুয়ের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। দখলকৃত রাখাইন রাজ্যের বিপরীতে টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পড়েছে। জানা গেছে, মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনীর উপর্যুপরি বিমান হামলায় কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা। দীর্ঘ প্রায় সাত মাস পর বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা চালাল দেশটির সেনাবাহিনী। গত তিন দিনের উপর্যুপরি হামলায় রাখাইনের সাহেববাজার, ভুচিডং ও বলিবাজার এলাকায় বহু লোকজন হতাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জান্তা বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলিবাজারের আরাকান আর্মির বড় ক্যাম্প। গত বুধবার থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিন আরাকান আর্মির ক্যাম্পগুলো লক্ষ্য করে জান্তা সরকারের বিমান হামলা চলেছে। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিমান হামলার ঘটনা কমেছে বলে জানা গেছে।

টেকনাফে গতকাল জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় অপহরণ, মাদক-অস্ত্র চোরাচালান ও সমুদ্রপথে মানবপাচার বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ, আশ্রয়শিবিরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করা অনলাইন জুয়া বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে সকাল ১১টা থেকে এই বিশেষ সভা বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।

সভায় মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং নাফ নদ সংলগ্ন টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরেন কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। সভায় জানানো হয়, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নাফ নদ অতিক্রম করে কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও টহল বাড়াতে হবে। সভা শেষে এমপি শাহজাহান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া বহুমাত্রিক অপরাধের ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী এবং বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশসহ মাদক ও পণ্য পাচার রোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের রামু বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার অধিনায়ক লে. কর্নেল নিয়ানুল হালিম খান, উখিয়া ৬৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার প্রমুখ।

এদিকে মায়ানমার বাহিনী এবং রাখাইনের বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের মধ্যেও টেকনাফের স্থলবন্দর যথারীতি চালু রয়েছে। স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জসিম উদ্দিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাখাইনে সংঘাত অব্যাহত থাকলেও মাছ বোঝাই তিনটি কার্গো নৌকা গত বৃৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের জেটিতে এসে ভিড়েছে। অন্যদিকে গতকালও রপ্তানির পণ্য নিয়ে দুটি কার্গো বোট গেছে মায়ানমারে।

পদ্মা রেলপথে যন্ত্রাংশ চুরি, অচল স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল

এস এম দেলোয়ার হোসাইন, মাদারীপুর
পদ্মা রেলপথে যন্ত্রাংশ চুরি, অচল স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল

মাদারীপুরের শিবচর অংশে পদ্মা রেলপথের সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথ ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হয়। প্রায় ৩৮ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ চালুর পর রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই পথে যাতায়াত করছে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে ব্যয়বহুল এই অবকাঠামো এখন সংঘবদ্ধ চোরচক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনের উত্তর প্রান্তে থাকা ১৩টি ট্র্যাক পটের মধ্যে এরই মধ্যে ৯টি চুরি হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে একটি ট্র্যাক পট চুরি হয়। এর আগে গত ১৯ জুন রাতে পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্ট থেকে কয়েকটি ট্র্যাক পট খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সব ট্র্যাক পট চুরি হয়। এরও আগে ১৮ মার্চ একই ধরনের ঘটনায় স্টেশনটির সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ট্র্যাক পট, ট্র্যাক ট্রান্সফরমার, সিগন্যাল কেবল, গার্ড রেলের স্ক্রু স্পাইক, অ্যাক্সেল কাউন্টার, পয়েন্ট মেশিন, স্টিল গ্রেটিং, হ্যান্ডরেল, বৈদ্যুতিক কেবল, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, ফিশ বোল্ট, ফিশ প্লেট, ইলাস্টিক রেল ক্লিপ, গেজ প্লেটসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ। এসব যন্ত্রাংশ চুরির কারণে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বারবার অচল হয়ে পড়ছে।

শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. কামরুজ্জামান বলেন, সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে লুক স্টিক ব্যবহার করে পেপার লাইন ক্লিয়ার পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়। ট্রেনগুলোকে হোম সিগন্যালের কাছে এসে ম্যানুয়াল সিগন্যালের অপেক্ষা করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে এবং রেলকর্মীদের রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগে এ ধরনের চুরির ঘটনা খুব একটা ছিল না। কিন্তু এখন ট্র্যাক পটসহ সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বারবার চুরি হচ্ছে। নতুন যন্ত্রাংশ বসানোর কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো আবার চুরি হয়ে যায়। এতে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আগের মতো নিয়মিত পুলিশ টহলও নেই। তাই স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা জরুরি।

পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, সিগন্যালিং ব্যবস্থার ট্র্যাক পটসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিটি ঘটনার পর ট্রেন পরিচালনায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেলওয়ের কয়েকজন কর্মী জানান, ২০২৪ সালেও স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় গভীর রাতে আড্ডা বা সন্দেহজনক চলাচল কম ছিল। বর্তমানে স্টেশনের আশপাশে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আড্ডা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং মাদকসেবীদের উপস্থিতি বেড়েছে। রেলকর্মীরা তাদের সরিয়ে দিতে বা সতর্ক করতে গেলে অনেকেই সহযোগিতা করে না, বরং অসদাচরণ করে। তাঁদের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও এলাকাবাসী সমন্বিত উদ্যোগ নিলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি ও নাশকতা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শিবচরের বন্দরখোলা এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রেললাইনের আশপাশে গভীর রাত পর্যন্ত অনেকের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যায়। এসব নিয়ন্ত্রণে না আনলে যন্ত্রাংশ চুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। রেলপথ এলাকায় নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক শাহজালাল বলেন, যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় নিয়মিত টহলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে চুরি প্রতিরোধে টহল আরো জোরদার করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা সনদ চেয়ে ৯৫ হাজার আবেদন | কালের কণ্ঠ