kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

কেয়ার বাংলাদেশ ও কালের কণ্ঠ’র যৌথ উদ্যোগে ওয়েবিনার

‘কোভিডজনিত আর্থ-সামাজিক ঝুঁকি থেকে উত্তরণ : অর্থায়ন ও নীতিকৌশল’

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



 

 

 

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ পৃথকভাবে প্রদর্শিত হওয়া দরকার

এম এ মান্নান

সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো দরকার আছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। অনেকে বলছেন বাজেটে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ পৃথকভাবে প্রদর্শিত হওয়া দরকার। আমি বিষয়টার গুরুত্ব সমর্থন করি। ব্যাংক সংস্কারের কথা অনেকে বলছেন। আমিও মনে করি, ব্যাংকের সংস্কার আনা জরুরি। এত বছর পেরিয়ে গেলেও কেন ভ্যাট অনলাইনে হলো না, তা নিয়ে আমারও প্রশ্ন আছে। রাজস্ব আদায়ের হার বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার আনার প্রয়োজনীয়তা আছে। গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্যের জন্য হাওর উন্নয়নসহ বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে প্রবাসী আয় কমে যাওয়া নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার যেমন ভয় আছে; তেমনি আশাও আছে। করোনা চলে গেলে আবার তেলের দাম বাড়বে। তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমাদের দেশ থেকে সস্তায় শ্রমিক নিতে হবে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ভয় সত্য না-ও হতে পারে।

 

পরিকল্পনাহীনতার ফলে কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না

ফজলে হোসেন বাদশা

করোনা সংক্রমণ রোধে আমরা সঠিক কর্মকৌশল গ্রহণ করতে পারিনি। মার্চ মাসের শুরুতে আমাদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ চিকিৎসা কিভাবে করব, হাসপাতালগুলোকে আমরা সেভাবে প্রস্তুত করতে পারিনি। এ ক্ষেত্রে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পরিকল্পনাহীনতার ফলে আমাদের দেশে কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। অনেকে বলেছেন, লকডাউনে সংক্রমণ কমে। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো লকডাউন হয়নি। এর পরিবর্তে সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। মানুষ সাধারণ ছুটি ভোগ করতে গ্রামে গেছে। ফলে গ্রামেও সংক্রমণ হয়েছে। আমার প্রশ্ন—এই কৌশলের ক্ষেত্রে কি মনোভাব কাজ করেছে?

 

কোভিড-১৯ মোকাবেলা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

মোহাম্মদ জয়নুল বারী

কোভিড-১৯ মোকাবেলা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আরো সময় লাগবে। আমরা এখনো জানি না কবে এটি ‘পিকে’ যাবে, আর কবে এটি কমবে। এর সঙ্গে আর্থ-সামাজিক বিষয়টিও সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে কৌশল গ্রহণ করেছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানো হয়েছে। ৫০ লাখ পরিবারকে দুই হাজার পাঁচশত টাকা করে নগদ দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক লোকজন যাতে সমস্যায় না পড়ে, কর্মহীন লোকজনের যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যাতে নিয়োজিত করা যায় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে সচল থাকে সে জন্য মানুষকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

 

দরিদ্র মানুষের জন্য করণীয় ঠিক করতে হবে

রমেশ সিং

করোনা মোকাবেলায় সরকার এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ৫০ লাখ পরিবারকে দুই হাজার পাঁচশত টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই ঘোষণা সত্যি প্রশংসনীয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে করোনা মোকাবেলা করতে হলে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া করোনা-পরবর্তী সময়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের এখনই করণীয় ঠিক করতে হবে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক নানা ক্ষতি হচ্ছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

সময়মতো টাকা পৌঁছানো নিয়ে সন্দেহ রয়েছে

ব্যারিস্টার নিহাদ কবির

ব্যবসার দিক থেকে বলব অর্থনীতিতে উত্তরণের জন্য আমাদের ডমেস্টিক অ্যাগ্রিগেটেড ডিমান্ড বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। এটি ছাড়া আমাদের অর্থনীতি যেখানে এসে কিছুটা থেমে গেছে, সেখান থেকে দ্রুত গতি সঞ্চার করা যাবে না। অর্থনীতিতে যদি চাহিদা বাড়াতে হয় তাহলে সবার হাতে খরচ করার মতো টাকা পৌঁছে দিতে হবে। সেটা কিভাবে করবেন তা এ বাজেটে আমরা কিছুটা দেখেছি। সোশ্যাল সিকিউরিটি নেটে যে অর্থায়নগুলো, সেগুলো যাতে জায়গামতো স্বচ্ছভাবে পৌঁছায়, এ ক্ষেত্রে আইটির ব্যবহারসহ অন্যান্য পদক্ষেপও নেওয়া যেতে পারে। বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকা বড় শিল্পের জন্য, ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের কাছে  সময়মতো পৌঁছানো যাবে কি না সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

 

কর্মহীনদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চাই

রোকেয়া রফিক

বর্তমানে প্রচুর মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আরএমজি সেক্টরে যারা এসেছে, তারা এমন একটি অবস্থা থেকে এসেছে; তাদের জন্য ফিরে যাওয়ার কোনো অবস্থা নেই। তারা গ্রামে ফিরেও যেতে পারছে না। কারণ গ্রামেও কিছু রেখে আসেনি। অর্থাৎ নিঃস্ব, অসহায় হয়ে তারা ঢাকামুখী হয়েছে। সেখানে আমরা দেখছি তারা চাকরি হারাচ্ছে। সরকার এরই মধ্যে প্রচুর প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রণোদনা হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের হাতেও পৌঁছাচ্ছে। তার পরও যারা চাকরি হারাচ্ছে, তাদের জন্য ন্যূনতম ছয় মাসের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা যেন করা হয়। কারণ যারা চাকরি হারাচ্ছে, তারা তো চিহ্নিত। তাদের আট হাজার টাকার একটি মাসিক ইনকাম গ্রান্ট প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

 

কোভিড-১৯ জনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় সুপারিশমালা

আমানুর রহমান

কোভিডের কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা-স্বাস্থ্য আজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিআইডিএসের জরিপমতে, কোভিডের কারণে নতুন করে আরো ১.৬৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এরই মধ্যে ১৩ শতাংশ মানুষ কাজ বা চাকরি হারিয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ১০১,১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। বাজেটে ১০,০০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, কৃষি ভর্তুকিতে কিছুটা বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কৌশলগত অগ্রাধিকার ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন দরকার। এ অবস্থায় আমাদের সুপারিশ হচ্ছে—বিদ্যমান দরিদ্র জনগোষ্ঠী  নতুন দরিদ্র পরিবারের জন্য অন্তত ৬ থেকে ১২  মাস ৫০০০ টাকা (গ্রামীণ দরিদ্র) ও ৮০০০ টাকা (নগর দরিদ্র) হারে নগদ সহায়তা প্রদান। কৃষি ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে বা জিটুপি পদ্ধতিতে প্রদান করা। ধানসহ অন্যান্য পণ্যে ন্যূনতম মূল্য সহায়তা প্রদান করা। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুবিধা ও সামাজিক বীমার প্রচলন। নারী, তরুণ উদ্যোক্তা/স্টার্টআপগুলোকে প্রণোদনা প্রদান। ব্যাংকঋণ সুবিধা সহজ করা। হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল এক বছর ফ্রিজ করা। মোবাইল টকটাইমের ওপর ট্যারিফ কমানো। সরকারি অর্থায়নের সদ্ব্যবহার করা। সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা।

 

এখনই সংস্কারের সবচেয়ে ভালো সময়

ড. ফাহমিদা খাতুন

যেহেতু এটি কোভিড-১৯ বছর, তাই এই বাজেটটিকে কোভিড বাজেট হিসেবেই আশা করেছিলাম। সে অনুযায়ী কিছুটা চেষ্টাও করা হয়েছে। কৃষি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য, স্বাস্থ্যতে জোর দেওয়া ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বাজেটে প্রবৃদ্ধির মোহ রয়েছে। এটা বাস্তব মনে হয়নি। সারা বিশ্ব কোভিডের কারণে ওলটপালট হয়ে গেছে। একদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে গেছে, এ পরিপ্রেক্ষিতে পৃথিবীর সব দেশই তাদের প্রবৃদ্ধির হিসাবটা বর্তমান ও আগামী অর্থবছরের জন্য নিচে নামিয়ে এনেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও প্রবৃদ্ধির হিসাব নিম্নমুখী করেছে। তাই বাংলাদেশের জন্যও এটি চিন্তার কিছু ছিল না। আমাদের করজালের আওতা অনেক ছোট। উচ্চবিত্তের অনেকেই কর দিচ্ছেন না বা ফাঁকি দিচ্ছেন। কোভিডের সময়ই সংস্কারের সবচেয়ে ভালো সময়। কর ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশন করতে হবে।

 

নগরের হতদরিদ্ররা সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছে না

রেবেকা সানিয়াত

কোভিড-১৯ পিরিয়ডের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল স্বাস্থ্য খাতে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কিছু বাড়ানো হলেও সব দিক বিবেচনা করলে বাড়ানো তো হয়নি; বরং কমেছে। তাই আমার জোরালো অনুরোধ এ বিষয়টি সংশোধন করা যায় কি না দেখার জন্য। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ যে ব্যবহার হবে সে ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। নগরের হতদরিদ্ররা এখন পর্যন্ত কোনো কৌশলগত নীতিমালায় সম্পৃক্ত নেই। কোনো রকম সামাজিক সুরক্ষা বা সেবা তারা পাচ্ছে না। বিশেষ করে বস্তিবাসী কিছু পাচ্ছে না। না পাওয়ার বড় একটি কারণ, বস্তিবাসী অবৈধ। কিন্তু তারা তো অবৈধ নাগরিক না। তাদের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। 

 

করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা জয়ী হবোই

ইমদাদুল হক মিলন

করোনার কারণে এলোমেলো দেশের অর্থনীতি। রাজস্ব আয়, আমদানি, রপ্তানি, প্রবাসী আয়সহ অর্থনীতির সব সূচকই স্থবির হয়ে পড়েছে। করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়ছে মানুষ। শহর ছেড়ে গ্রামমুখী মানুষের স্রোত বাড়ছে। মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, দরিদ্র শ্রেণি নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েছে করোনার প্রভাবে। সরকার এক লাখ কোটি টাকার বেশি যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, দ্রুত সেই প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা ছাড় করতে হবে। আমি বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আমরা এক দুর্যোগে পড়েছি। অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের। সরকার চেষ্টা করছে। মানুষকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা লড়াই করা জাতি। আমরা এই যুদ্ধে জয়ী হব। এই দুর্দিনে বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপ এগিয়ে এসেছে। করোনার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। আড়াই হাজার শয্যার হাসপাতাল করেছে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য। হাজার হাজার মানুষকে সহযোগিতা করছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

 

প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে উত্তরণ

নাহিম রাজ্জাক

বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি আসলে মূল লক্ষ্য না। ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, অটোমেশন খুবই জরুরি বিষয় বর্তমান প্রেক্ষাপটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক লাখ তিন হাজার কোটি টাকার ওপর যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, তা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে আমরা করোনাকালীন অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে পারব। ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে যদি এই প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে নজরদারিতে কারা থাকবে, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নজরদারিতে বিশেষ ঘাটতি রয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণ যদি এখানে না থাকে, তাহলে বিষয়টি নিশ্চিত হবে না।

 

বাজেটে নতুন দরিদ্রদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু নেই

মহসিন আলী

বাজেট বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি ভালো দিকও আছে, সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ভালো দিকের মধ্যে রয়েছে ১০০ উপজেলার সব প্রবীণকে বয়স্ক ভাতার মধ্যে আনা হবে। এর ফলে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন মানুষ ভাতা পাবে। বিধবা ভাতায় যুক্ত হবে তিন লাখ ৫০ হাজার, প্রতিবন্ধী ভাতায় দুই লাখ ৫৫ হাজার যুক্ত হবে। এগুলো সরকারের খুবই ভালো উদ্যোগ। কাবিখা, কাবিটা, ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ১৩ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে  করা হয়েছে ১৬ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। তবে নগর দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে তেমন বরাদ্দ নেই। স্বাধীনতার পর নগরের গরিব-বস্তিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে ছয় গুণ।  প্রায় এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে এবং আরো বৃদ্ধি পাবে। এ বাজেটে এদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু নেই।

 

কৃষিতেই সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে

মনোয়ার মোস্তফা

বর্তমান দুর্যোগ সময়ে লোকাল কনজাম্পশন বা লোকাল ডিমান্ড বাড়াতে হবে। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমাদের অর্থনীতি বাড়ছিল, আমাদের মধ্যবিত্ত তৈরি হচ্ছিল। মূলত কনজাম্পশনের জায়গা থেকে চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে তারা অনেক ভূমিকা রাখবে অর্থনীতিতে। যখন মধ্যবিত্তরা দেখে সামনে দুর্দিন বা অশ্চিয়তা, তখন তাদের কনজাম্পশন কমিয়ে দেয়। সুতরাং আমাদের কনজাম্পশন বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে যারা একেবারে নিম্নস্তরে থাকে, অর্থাৎ কৃষিতে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের নগদ সহায়তা দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা