• ই-পেপার

বাজেটে তরুণদের জন্য বরাদ্দ ও তার বাস্তবায়ন

  • ড. সুলতান মাহমুদ রানা

শিশুদের যৌন নির্যাতন সমাজের এক নীরব সংকট

ড. মো. রুহুল আমিন সরকার

শিশুদের যৌন নির্যাতন সমাজের এক নীরব সংকট

শিশু মানবসমাজের সবচেয়ে কোমল, নিষ্পাপ ও নিরাপত্তাহীন সদস্য। একটি শিশুর শৈশব নিরাপদ, আনন্দময় ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কথা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বর্তমান সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে শিশু ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বলাৎকার, নির্যাতন কিংবা হত্যার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিছু ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়, কিন্তু অসংখ্য ঘটনা নীরবে চাপা পড়ে যায়। আড়ালে থাকা সেসব ঘটনা হয়তো আরো বেশি ভয়াবহ।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমাদের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি শিশুর ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। কারণ একটি শিশু আত্মরক্ষার সক্ষমতা রাখে না, সে তার ওপর সংঘটিত অপরাধের প্রকৃতি বুঝতে পারে না এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সে নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার শক্তিও রাখে না। ফলে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন হলো ক্ষমতার নির্মম অপব্যবহার, যা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শিশু নির্যাতনকারী সব সময় সমাজের প্রান্তিক বা অপরিচিত মানুষ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। বাইরে থেকে তাদের স্বাভাবিক, ভদ্র এবং ধার্মিক মনে হলেও আড়ালে তারা এমন সব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, যা কল্পনা করাও কঠিন। বহু মামলায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ওপর নির্যাতন চলেছে, কিন্তু ভয়, লজ্জায় এবং সামাজিক চাপে বিষয়টি প্রকাশ পায়নি।

চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতায় এমন বহু মামলার তদন্ত হয়েছে, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ক কোমলমতি শিশুদের ওপর অমানবিক যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে নির্যাতনের ফলে শিশুদের শরীরে গুরুতর আঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তারা শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে দিনের পর দিন নীরবে কষ্ট সহ্য করেছে। ভয়, লজ্জা ও হুমকির কারণে তারা কাউকে কিছু বলতে পারেনি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বা অভিভাবকরা বিষয়টি টের পেলে সত্য প্রকাশিত হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—কেন একজন মানুষ একটি অসহায় শিশুর ওপর এমন বর্বর নির্যাতন চালায়? আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞান এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বহু গবেষণা করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, শিশু যৌন নির্যাতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। কিছু মানুষের মধ্যে শিশুদের প্রতি বিকৃত যৌন আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি শুধু যৌন আকর্ষণের বিষয় নয়, বরং ক্ষমতা প্রদর্শন, আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, সহিংসতা এবং আত্মসংযমের অভাবেরও বহিঃপ্রকাশ। কিছু অপরাধী শিশুর অসহায়ত্বকে ব্যবহার করে নিজের বিকৃত মানসিক তৃপ্তি অর্জন করে।

তবে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের শিশু যৌন নির্যাতনকে শুধু মানসিক রোগ বলে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়। কারণ বেশির ভাগ অপরাধী জানে যে সে অপরাধ করছে। সে জানে তার কাজ অনৈতিক, অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য। তার পরও সে অপরাধ করে। অর্থাৎ এখানে শুধু মানসিক সমস্যা নয়; নৈতিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা, জবাবদিহির অভাব এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতাও কাজ করে।

বিশ্বজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্ষতি তৈরি হয়। অনেক শিশু ভয়, উদ্বেগ, দুঃস্বপ্ন, বিষণ্নতা, আত্মবিশ্বাসহীনতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়। তারা মানুষকে বিশ্বাস করতে পারে না। অনেকের মধ্যে আত্মঘাতী চিন্তাও দেখা দেয়। কেউ কেউ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও সেই মানসিক আঘাত থেকে পুরোপুরি বের হতে পারে না।

বিশেষ করে ছেলেশিশুদের ওপর সংঘটিত যৌন নির্যাতন নিয়ে সমাজে এক ধরনের নীরবতা বিদ্যমান। অনেক পরিবার বিষয়টি প্রকাশ করতে চায় না। সামাজিক লজ্জা ও ভুল ধারণার কারণে ছেলেদের নির্যাতনের ঘটনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আড়ালে থেকে যায়। ফলে ভুক্তভোগী শিশু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও মানসিক পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হয়।

আমাদের সমাজে একটি বড় সমস্যা হলো শিশুদের কথা গুরুত্ব দিয়ে না শোনা। অনেক সময় শিশু কোনো অভিযোগ করলে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাকে বলা হয়, ‘এসব কথা বোলো না’, ‘ভুল দেখেছ’, ‘ভুল বুঝেছ’ অথবাচুপ থাকো’। এই মনোভাব অপরাধীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে। শিশুদের বিশ্বাস করা, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া শিশু সুরক্ষার প্রথম ধাপ।

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিশুদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অনেক অপরাধী শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। ধীরে ধীরে তারা শিশুর বিশ্বাস অর্জন করে এবং পরে শোষণের ফাঁদে ফেলে। তাই শিশু সুরক্ষার আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু যেন নির্ভয়ে তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে তার শরীর তার নিজের। কোন স্পর্শ নিরাপদ এবং কোন স্পর্শ অনিরাপদ, তা বয়স উপযোগী ভাষায় বোঝাতে হবে। কোনো ব্যক্তি তাকে অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বস্ত বড়দের জানাতে হবে—এই শিক্ষা দিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও শিশু সুরক্ষা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা, অভিযোগ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা, হোস্টেল এবং ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ, ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত বিচার অপরিহার্য। বিচার বিলম্বিত হলে ভুক্তভোগী পরিবার হতাশ হয় এবং সমাজে ভুল বার্তা যায়।

একটি সভ্য সমাজের পরিচয় নির্ধারিত হয় সেই সমাজ তার শিশুদের কতটা নিরাপত্তা দিতে পারে তার ওপর। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর কান্না শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়, সেটি পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। একটি শিশু যখন নির্যাতনের শিকার হয়, তখন ভবিষ্যতের একজন নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি সম্ভাবনা ধ্বংস হয়ে যায়। একটি স্বপ্ন ভেঙে যায়। তাই শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আজ সময় এসেছে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করার। কোনো অজুহাত, কোনো সামাজিক মর্যাদা, কোনো ধর্মীয় পরিচয় কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যেন অপরাধীর রক্ষাকবচ না হতে পারে। শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা মানবিক দায়িত্ব, নৈতিক কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অঙ্গীকার।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কোনো শিশু ভয়ে কুঁকড়ে থাকবে না; যেখানে কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে নীরবে কাঁদবে না; যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে বেড়ে উঠবে, শিক্ষা গ্রহণ করবে, স্বপ্ন দেখবে এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গে জীবন গড়ে তুলবে। কারণ শিশুদের রক্ষা করা মানেই ভবিষ্যেক রক্ষা করা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজ নির্মাণ করা।

 

লেখক : অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, ঢাকা

মোটরসাইকেল সংস্কৃতি : হারিয়ে যাওয়া প্রাণ

আবু সাঈদ মো. নাজমুল হায়দার

মোটরসাইকেল সংস্কৃতি : হারিয়ে যাওয়া প্রাণ

‘ছেলের আবদার মিটাইতেই বাইকটা কিনে দিছিলাম, সেই আবদারই আজ আমার একমাত্র ছেলেকে চিরতরে কেড়ে নিল।’—একজন অসহায় বাবার এই আর্তনাদ বাংলাদেশের বেশির ভাগ পত্রিকায় গত ৩০ মে ২০২৬ প্রকাশিত হওয়া কলেজছাত্র আফতাব শাহরিয়ার মাহিরের মৃত্যুর পর উচ্চারিত হয়েছিল। ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহির মাত্র চার মাস আগে তার বাবার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল পেয়েছিল। বন্ধুদের মতো তারও একটি মোটরসাইকেল চাই। বাবা আপত্তি করেছিলেন, বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সন্তানের জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছিল। চার মাস পর সেই মোটরসাইকেলই হয়ে উঠেছিল তার জীবনের শেষযাত্রার বাহন।

মাহিরের মৃত্যুসহ এমন মৃত্যু নিছক একটি সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ নয়, এটি সমকালীন বাংলাদেশের এক গভীর সামাজিক সংকটের প্রতীক। এটি এমন এক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে তরুণদের কাছে মোটরসাইকেল শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং পরিচয়, স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা এবং অনেক ক্ষেত্রে আত্মপ্রদর্শনের একটি উপকরণে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা গত এক দশকে অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে। সহজ কিস্তি সুবিধা, তুলনামূলক কম দাম এবং দ্রুত চলাচলের সুবিধার কারণে মোটরসাইকেল এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোর একটি। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্ঘটনা, অক্ষমতা এবং মৃত্যুর সংখ্যা। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল আরোহী। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে এক বছরে ছয় হাজার ৯২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ২৯৪ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৯ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, নিহতদের মধ্যে দুই হাজার ৬০৯ জনই মোটরসাইকেল আরোহী, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৬ শতাংশ। আরো তাৎপর্যপূর্ণ হলো, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো যানবাহনের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে মোটরসাইকেলচালকদের ঝুঁকি অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের তুলনায় অনেক বেশি।

এই বাস্তবতা আমি ব্যক্তিগতভাবেও প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করি। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় বসবাস করি। হরহামেশাই সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে তরুণদের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা চলে। কখনো দুটি, কখনো তিন বা চারটি মোটরসাইকেল পাশাপাশি ছুটতে দেখা যায়। অনেক সময় বিকট শব্দ শুনেই বোঝা যায় যে তারা গতি বাড়িয়ে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই দৃশ্য শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

প্রশ্ন হলো, কেন তরুণদের মধ্যে এই বেপরোয়া মোটরসাইকেল সংস্কৃতি গড়ে উঠছে? এর একটি বড় কারণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোটরসাইকেল ঘিরে অসংখ্য ভিডিও, রিলস এবং কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, যেখানে গতি ও ঝুঁকিকে অনেক সময় বীরত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বাস্তব জীবনের ঝুঁকি সেখানে অনুপস্থিত থাকে। তরুণরা দেখতে পায় প্রশংসা, জনপ্রিয়তা ও উত্তেজনা, কিন্তু দেখতে পায় না হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার কিংবা শোকাহত পরিবারের কান্না। দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলকে পুরুষত্ব, আধুনিকতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কারো মোটরসাইকেল থাকলে অন্যদের মধ্যেও সেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। মাহিরের ঘটনাও সেই সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। তৃতীয়ত, আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা সংস্কৃতির ঘাটতি রয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া চালানো, হেলমেট ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত গতি কিংবা ট্রাফিক আইন অমান্য করা—এসব আচরণ অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের মৃত্যু ঘটায় না; এটি একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎ এবং অনেক সময় একটি সমাজের সম্ভাবনাকেও ধ্বংস করে দেয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, মোটরসাইকেল চালনার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। তরুণদের বুঝতে হবে যে দক্ষ চালক হওয়া মানে দ্রুত চালানো নয়, বরং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল বার্তা প্রচার করতে হবে। বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্টকে আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপনের পরিবর্তে নিরাপদ চালনাকে সামাজিক মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। চতুর্থত, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় কথা, অভিভাবকদেরও কঠিন কিন্তু দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা মানে সব আবদার পূরণ করা নয়। অনেক সময় ‘না’ বলতে পারাও ভালোবাসারই অংশ। মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার আগে সন্তানের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ববোধ এবং নিরাপদ চালনার মানসিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কলেজ শিক্ষার্থী মাহির আর ফিরে আসবে না, কিন্তু তার মৃত্যুর ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকতে পারে। আমরা যদি এই বার্তাটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হই, তাহলে হয়তো আগামীকাল আরেকজন মাহির, আরেকটি পরিবার এবং আরেকটি স্বপ্ন একইভাবে হারিয়ে যাবে। গতি মানুষের জীবনকে সহজ করে, কিন্তু বেপরোয়া গতি জীবন কেড়ে নেয়। তাই মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেলে হাত রাখার আগে আমাদের মনে রাখতে হবে, বেপরোয়া বাইক চালিয়ে কয়েক মিনিট আগে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে নিরাপদে ধীরস্থিরভাবে জীবিত পৌঁছানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ফুটবল মানুষের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের মহাকাব্য

ইকরামউজ্জমান

ফুটবল মানুষের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের মহাকাব্য

ফুটবলের জাদুর বাক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছে পুরো দুনিয়া গত ১১ জুন! আগামী ৩৯ দিন বাক্স থেকে বেরিয়ে আসার আর সুযোগ নেই। এর মধ্যে অনেক হৈচৈ! আর আনন্দ-বেদনার কাব্য। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ কষা। আশা ও স্বপ্নভঙ্গের পাঁচালি। একটি একটি করে দিন যাচ্ছে, ফুটবল মনে করিয়ে দিচ্ছে মাঠে নামার আগে কেউ জানে না খেলায় শেষ পর্যন্ত কী হবে। আর তাই নিশ্চিত বলে কিছু নেই ফুটবলে। ফুটবল খেলাটি এত অনিশ্চিত বানাল কারা? ফুটবল মঞ্চের অভিনেতাদের তৃপ্তি আর অতৃপ্তির মধ্যে আছে বিস্তর ফারাক। কেউ কেউ এক পয়েন্ট অর্জন করেই মহাখুশি। আবার কারো কারো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অনুশোচনা! ইস, যদি গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগানো যেত! ফুটবলে গোলই তো শেষ কথা। ঠিক জীবনের মতো! জীবনযুদ্ধে কেউ কেউ গোল দিয়েই চলেছেন, যাঁদের কথা ভাবা হয়নি। আবার যাঁদের কথা ভাবা হয়েছে, তাঁরা সময়মতো কাজটি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

গোলকপিণ্ড গড়াচ্ছে আর তার পেছনে ছুটছে অগণিত মানুষ। এটি এক ধরনের মোহ ও ভালোবাসা। ফুটবল তো আবেগ আর ভালোবাসার মোড়কে মোড়ানো অপ্রতিদ্বন্দ্বী খেলা। অনেক আগেই অলিম্পিক আন্দোলনকে পেছনে ফেলেছে একক এই খেলাটি। খেলাটির ভাষা, আবেগ, মুদ্রা আর শিল্প সৃষ্টির উন্মাদনা বিশ্বজনীন একদম এক।

ফুটবল মানুষের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের মহাকাব্যবিশ্বকাপ মানে একটি পৃথিবী। একটি বল। অগণিত মানুষের প্রত্যাশা। মানুষের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের মহাকাব্য। আনন্দ ও বেদনার সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। খেলার মধ্যে মানুষ দেশকে খোঁজে। দেশের পরিচিতি জানে। ফুটবল খেলাটি তো বিশ্বের ৪০০ কোটিরও বেশি মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে, তা বিশ্বকাপ চার বছর পর পর না এলে বোঝা যায় না। বিশ্বকাপ তো ফুটবলের গৌরব মঞ্চ। সারা বছর দুনিয়াজুড়ে যে ক্লাব ফুটবল চলে এর সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের আবেগ ও আবেদনের কোনো মিল নেই। বিশ্বকাপ ফুটবলের ভূমিকা বহুবিধ। ফুটবল তার মোহজালের মাধ্যমে খেলাটিকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে চলেছে। এবার তো তিন দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যৌথভাবে বিশ্বকাপের রঙিন উৎসব। ২১১টি দেশ থেকে ৪৮টি দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এখন সবার সামনে।

১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল (পশ্চিম জার্মানি বনাম নেদারল্যান্ডস) টিভিতে দেখেছিল ১০০ কোটি মানুষ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে কোনো একটি ইভেন্ট একসঙ্গে এত মানুষ তার আগে কখনো দেখেনি। এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে এর চার গুণের বেশি মানুষ। ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। তুঙ্গে ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে রমরমা বাণিজ্য।

আমরা সৌভাগ্যবান, গাঁটের অর্থ খরচ করে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে হয় না। অন্য অনেক দেশে পেইড চ্যানেলের মাধ্যমে খেলা দেখতে হয়। একবার ইউরোপে থাকাকালে আমার নিজের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। খেলা দেখানো নিয়ে বাণিজ্য করা সম্ভব হয়নি তথ্য মন্ত্রণালয় ও ফুটবল ফেডারেশনের যথাযথ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে। ২০২২ সালের তুলনায় অনেক কম অর্থে এবার স্বত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

দেশের মানুষ ফুটবল নিয়ে দারুণভাবে মেতে আছে। বৈষম্যময় সমাজে দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত কিছু মানুষ যদি ফুটবল দেখে কিছুদিনের জন্য হলেও আনন্দ পায়, এতে ক্ষতির তো কিছু দেখি না! ধর্মের সঙ্গে ফুটবল খেলার বিরোধ আছে বলে তো জানা নেই। এশিয়া মহাদেশ থেকে ৯টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ দেশ তো ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। সৌদি আরব বিশ্বকাপে খেলছে এশিয়া থেকে। আরো আছে ইরান, কাতার, ইরাক, জর্দান প্রভৃতি দেশ। আফ্রিকা মহাদেশ থেকেও খেলছে কয়েকটি মুসলিম দেশ।

ফুটবল বিশ্বকাপের কথা উঠলে যে বিষয়টি সবার আগে উচ্চারিত হয়, শেষ পর্যন্ত কাপ জিতবে কোন দেশ? ট্রফি এখন লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার ঘরে আছে। আর্জেন্টিনা কি পারবে আবার রিটেন করতে। বিগত ২২ বারের আসরে ইউরোপীয় দেশ জিতেছে ১২, আর লাতিন আমেরিকার দেশ ১০ বার। চলমান বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হলো তিনটি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষে ট্রফি জয় অসাধ্য বিষয়। মেক্সিকো এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালেও বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব পালন করেছে। তখন বিশ্বকাপ জিতেছে যথাক্রমে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। কালো মানিক পেলে ও ম্যারাডোনা তখন নিজ নিজ দলে ছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যৌথ স্বাগতিক দেশ হিসেবে আছে মেক্সিকো। এটি একটি রেকর্ড। অনেক বছর পর মেক্সিকো এবার উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এর আগে ২০১০ সালে মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ছিল, সেবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল। এবার যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে স্বাগতিক দেশ। প্রথম খেলায় প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্র শুভ সূচনা করেছে। দেখার বিষয় হলো এবার যুক্তরাষ্ট্র কত দূর এগোতে পরে। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩০ সালে তৃতীয় হওয়া ছাড়াও ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। আরেক স্বাগতিক দেশ কানাডা। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ তাদের জন্য তৃতীয় আসর। এবারই প্রথম গ্রুপের খেলায় বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বকাপের ফরম্যাট এবার অন্য রকম। দল ৪৮টি। সেকেন্ড রাউন্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো কঠিন হবে। বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই কিন্তু সহজ নয়। কখন যে কে কাকে বেকায়দায় ফেলে দেয়, এটি আগাম বলা যাবে না। মরক্কো গতবার কাতার বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালে। এবার প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের ওপর চড়াও হয়ে (১-১) একটি পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। ব্রাজিলের জন্য এটি সতর্কবার্তা। বিশ্বকাপে কিছুদিনের মধ্যে আরো অনেক নতুন গল্প পাব, এটি নিশ্চিত বলা যায়। ফুটবল অনেক মজা করে। কাউকে ভাসায়, আবার কাউকে ডোবায়।

এবারের বিশ্বকাপে মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে দারুণ খেলে ৪৮-এর মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। এই মানচিত্রে আরো স্থান পেয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার ছোট দেশ কুরাসাও। এশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ করে নিয়েছে জর্দান ও উজবেকিস্তান।

আসন্ন বিশ্বকাপে অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, স্পেন এবার সবার ওপরে থাকবে। এর পেছনে কিছু যুক্তিও আছে। স্পেন ২০১০ সালে শেষবারের মতো ট্রফি জিতে ফিফা বিশ্বকাপে জয়ের ক্লাবে অষ্টম সদস্য পদ পেয়েছে। তারা এবার জিতলে ফ্রান্সের নামের পাশে দুইবার জয়ের নাম লেখাতে সক্ষম হবে। গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় এই পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো স্পেনের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়ে নবাগত কেপ ভার্দে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এই গোলশূন্য ম্যাচ জেতার চেয়েও অনেক বেশি। কালের কণ্ঠের মুঠোয় বিশ্বকাপ-২০২৬-এ চমক দেখাতে পারে কেপ ভার্দে শিরোনামে বসুন্ধরা কিংস সভাপতি মো. ইমরুল হাসান আগেই লিখেছেন, ছোট কেপ ভার্দে এবার বড় দলগুলোকে চমক দিতে পারে। মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপদেশটি বিশ্বকাপে খেলবে প্রথমবারের মতো। আফ্রিকান বাছাই পর্বে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে চমক দিয়েছে। পেছনে ফেলেছে মিসর, ঘানা, বুরকিনা ফাসোর মতো দলকে। বলা হচ্ছে, কেপ ভার্দের এই সাফল্যের পেছনে তিনটি কারণ। এক. প্রবাসী খেলোয়াড়। দলের ৯০ শতাংশ খেলোয়াড় পর্তুগাল, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া প্রবাসী। তাঁরা ইউরোপের বিভিন্ন একাডেমিতে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। দুই. কোচ পেদ্রো নেইতাও। তিনি জমাট রক্ষণ আর প্রতি আক্রমণে কারিশমা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তিন. খেলোয়াড়দের মানসিকতা। হারানোর কিছু নেই বলে তাঁরা খেলেন ভয়ডরহীনভাবে, উপভোগ করার মানসিকতা নিয়ে। আর ফুটবলে অঘটন ঘটানোর জন্য এটিই সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র।

এদিকে জার্মানি আরেক নবাগত কুরাসাওকে পরাজিত করেছে ৭-১ গোলে। শক্তিশালী জার্মানির এই জয়লাভে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। জার্মানির টার্গেট হলো পঞ্চমবারের মতো ট্রফি জিতে ব্রাজিলের পাশে নাম লেখানো। জার্মানি শেষবার ট্রফি জিতেছে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে।

ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধের মতিগতি বোঝা খুব মুশকিল। আগেরবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পরেরবার খেলতে নেমে গ্রুপ স্টেজে দেশে বিদায়। এরা হলো ইতালি (১৯৫০ ও ২০১০), ব্রাজিল ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে, ফ্রান্স ২০০২ সালে, স্পেন ২০১৪ সালে, আর জার্মানি ২০১৮ সালে।

বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে এ পর্যন্ত এশিয়ার প্রতিনিধিদের আত্মবিশ্বাসে ভরপুর পারফরম্যান্স সত্যি চোখে পড়ার মতো। আমাদের সঞ্চয় ক্রমেই বাড়ছে। এশিয়ার দেশগুলো ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে কৃতিত্ব প্রদর্শন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া চেক প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করেছে ২-১ গোলে। কাতার ১-১ গোলে ড্র করেছে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক ড্র হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপান ২-২ গোলে ড্র করেছে। ইরান ভয়ানক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে খেলে তাদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে। সৌদি আরব উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে। গত বিশ্বকাপে (২০২২ কাতার) প্রথম ম্যাচে সৌদি আরব পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনাকে। ইরাক প্রথম খেলায় নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে পরাজিত হয়েছে। উজবেকিস্তান ৩-১ গোলে হেরেছে কলাম্বিয়ার কাছে। এশিয়ার প্রতিনিধি ইরাক তার নিজ খেলাটি খেলতে পারেনি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ দাপটের সঙ্গে (৩-০) বিজয়ী হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচসেরা মেসি হ্যাটট্রিক করেছেন। নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ধরে রাখা, আর চতুর্থবারের মতো ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ জয়। দেশে ফুটবলের কড়াই আরো গরম হলো।

সময় যত গড়াচ্ছে, বিশ্বকাপের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ফুটবলের সৌন্দর্যের জয় হোক। উপভোগ করুন স্মরণীয় একটি বিশ্বকাপ। তবে হৃৎপিণ্ডের ওপর জোর খাটাবেন না।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই পুরনো কাঠামোতেই

কাজী হাফিজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই পুরনো কাঠামোতেই

জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সুসংহত একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল সমাজ বিনির্মাণ এবং অব্যাহত সুশাসন, সেবা ও উন্নয়নের টেকসই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য স্থানীয় সরকার ও শাসন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে দক্ষ ও একটি সেবামুখী গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পথে আইন, কাঠামো এবং চর্চাগত নানা বাধা-বিপত্তি রয়েছে। এই ব্যবস্থা কিছুটা আমাদের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, আর বেশির ভাগই চর্চা ও সংস্কৃতিগত অমনোযোগিতা ও উদাসীনতা। এই পর্যবেক্ষণ চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব বাধা অপসারণ করে অন্যান্য বিষয়ের মতো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে নতুন বাংলাদেশের উপযোগী করে বিশ্বমানে উন্নীত করার অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের অমনোযোগিতা ও উদাসীনতা সে সুযোগ নষ্ট করেছে। স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদগুলো থেকে অপসারণ করা হয় বিনা ভোট বা ব্যাপক অনিয়মের একতরফা প্রহসনের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যানদের বেশির ভাগই গা ঢাকা দেয়। জনপ্রত্যাশা জাগে, এবার সব বাধা দূর করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কাঠামোর  স্থানীয় সরকার গঠিত হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই পুরনো কাঠামোতেইআগামী সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যাশিত সেই নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারপ্রধান তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, আগের মতো দলের প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় এই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশনও আসন্ন এই নির্বাচনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশাবাদী; যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কিন্তু নির্বাচন হচ্ছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সেই পুরনো এবং প্রায় অকার্যকর কাঠামো বহাল রেখেই।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও গবেষক অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গত বছরের ৯ অক্টোবর এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার অন্যতম অগ্রদূত।  অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাপক ইউনূস ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত তাঁর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ওই প্রস্তাব প্রতিবেদন পড়েও দেখেনি।

অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব পালনের সময় কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে  বলেছিলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকার হচ্ছে এক ব্যক্তিসর্বস্ব, মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্ভর। কাউন্সিলর বা সদস্যদের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় সংসদের মতো সংসদীয় পদ্ধতিতে হওয়া দরকার। মেয়র বা চেয়ারম্যান পদে সরাসরি ভোট হবে না; ভোট হবে কাউন্সিলর বা সদস্য পদে। নির্বাচিত কাউন্সিলর বা সদস্যরা তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। ভারতে এই ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার গঠিত হয়। স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তা হয় প্রতি তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে একটি নারী আসনের জন্য। একটি সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য বা কাউন্সিলরের তুলনায় অনেক বেশি ভোটারের কাছে পৌঁছতে হয় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীকে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বা সদস্যদের যতটা গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি ভাবে, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর বা সদস্যরা ততটা গুরুত্ব পান না এবং তাঁরা সাধারণ ওয়ার্ডগুলোর সদস্যদের সঙ্গে এক ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে পড়েন। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ডগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে নারীদের জন্য ওয়ার্ড নির্ধারণ করা দরকার। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডের সংখ্যাও জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। যেমনএকটি ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ড থাকলে তিনটি হবে নারীদের জন্য।  পরের নির্বাচনে অন্য ছয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ড হবে নারীদের জন্য। 

১৯৯৭ সালে অ্যাডভোকেট রহমত আলীর স্থানীয় সরকার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা হয়। ওই বছর স্থানীয় সরকার আইনের (ইউনিয়ন পরিষদ) দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে  এই পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে ১৯৯৭ সালে ৪৫ হাজার জন  নারী চার হাজার ২৭৬টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিযোগিতা করে ১২ হাজার ৮২৮টি আসনে নির্বাচিত হন। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের সঙ্গে তিনটি সাধারণ আসন সাংঘর্ষিক হওয়ায় এই বিধানটি ২৯ বছর ধরে  অকার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গতিশীল ও শক্তিশালীকরণ কমিটি ২০০৭ সালে এই ব্যবস্থাটি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিধানটির পরিবর্তে মোট ওয়ার্ড সংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত করার সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ অনুসারে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ, ২০০৭-এ শতকরা ৪০ ভাগ ওয়ার্ডে সরাসরি নির্বাচনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ওয়ার্ডসংখ্যা ৯। আয়তন ও ভোটারসংখ্যার ভিত্তিতে বড় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ওয়ার্ডসংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে অনেকে মনে করেন। সাবেক স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের  অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান এ বিষয়ে আমাকে বলেন, রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের আয়তন এত বিশাল যে সেখানকার ওয়ার্ড সদস্যরা নিজ নিজ ওয়ার্ডের সব স্থানে সহজে পৌঁছতেও পারেন না। দেশের অন্যান্য ইউনিয়নের মধ্যে জনসংখ্যাগত ব্যাপক পার্থক্যও রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের জনসংখ্যা ও আয়তনের ভিত্তিতে ওয়ার্ডসংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জনসংখ্যা সর্বোচ্চ চার লাখ ৭৫ হাজার থেকে সর্বনিম্ন প্রায় পাঁচ হাজার পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের সীমানা ও জনসংখ্যা পুনর্নির্ধারণ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ ধরে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সর্বনিম্ন ৯টি থেকে সর্বোচ্চ ৩৯টি পর্যন্ত ওয়ার্ড হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন। এগুলোকে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমজাতীয় গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক কাঠামোতে রূপান্তর করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি আইন রয়েছে। আছে শতাধিক অধস্তন আইন, অসংখ্য বিধি ও প্রজ্ঞাপন। এসব আইনের জঞ্জাল স্থানীয় সরকার কার্যকরের একটি প্রধান বাধা। সে কারণে এই পাঁচটি আইনকে একটি সমন্বিত আইনে একীভূত করতে হবে। আমরা এই একীভূত আইনের একটি খসড়াও প্রস্তুত করে অন্তর্বর্তী সরকারকে দিয়েছিলাম। এ ছাড়া আমাদের প্রস্তাব ছিল, একীভূত আইন প্রণয়ন করে একই তফসিলে একই সঙ্গে সব স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এতে এক-দেড় মাসের মধ্যেই এবং অনেক কম ব্যয়ে, কম জনবলের মাধ্যমে নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু যত দূর জানি, অন্তর্বর্তী সরকার বা ওই সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আমাদের প্রস্তাবগুলো পড়েও দেখেনি। এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর অবস্থায় ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদও তাঁর মৃত্যুর আগে আমাকে বলেছিলেন, আলী রীয়াজের (জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি) সঙ্গে কয়েকবার দেখা করে অনুরোধ করেছি আমাদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার তালিকায় নিতে। সাড়া পাইনি।

লেখক : কালের কণ্ঠের উপসম্পাদক ও 

নির্বাচন বিশ্লেষক