• ই-পেপার

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রবাসীসহ নিহত ৩

হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে : এমপি বকুল

মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
প্রতীকী ছবি

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় জাহির হোসেন নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার হরিতলা এলাকার বাদশা গেট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহির হোসেন (৩৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়ার ছেলে।

প্রত্যাক্ষদর্শি সূত্রে জানা যায়, জাহির হোসেন মোটরসাইকেল যোগে মাধবপুর হয়ে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথে হরিতলা এলাকার বাদশা গেট সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।

ক্রিকেটার নাঈমকে নির্যাতন : তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ল ৪ দিন

অনলাইন ডেস্ক
ক্রিকেটার নাঈমকে নির্যাতন : তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ল ৪ দিন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময়ে জমা পড়েনি। প্রতিবেদন জমা দিতে আরো ৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী কমিটিকে ২২ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ১৩ জুন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবস, অর্থাৎ ১৮ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার।

শুক্রবার (১৯ জুন) কমিটির প্রধান সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন বলেন, ক্রিকেটারকে মারধরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট ২৯ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নাঈম হাসানকে তল্লাশি ও আটক করা হয়েছিল, সেই তথ্যটি কোন সংস্থা বা উৎস থেকে এসেছে, তা খুব গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। জড়িতদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

গত ১২ জুন রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন নাঈম হাসান। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশা থামিয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নেয়।

গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। এক পর্যায়ে নাঈমকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম। এ ঘটনায় এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরদিন রাতে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে। তাঁকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে হামলা এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত শনিবার ওই মামলায় তাঁকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর নাঈম হাসানের চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও ফরিদারপাড়া এলাকায় গিয়ে তাঁকে মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন সিএমপি কমিশনার শওকত আলী।

রাজশাহী

খাবার দিতে দেরির জেরে দুই রেস্তোরাঁয় হামলা-ভাঙচুর, আহত পুলিশ

রাবি প্রতিনিধি
খাবার দিতে দেরির জেরে দুই রেস্তোরাঁয় হামলা-ভাঙচুর, আহত পুলিশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

খাবার কেনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে একই মালিকানাধীন দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকার ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’ রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় দুর্বৃত্তদের হাতে লাঠি, ছুরি, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় মতিহার থানার এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহত কনস্টেবলের নাম ফয়েজ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিনোদপুরের বাংলা টিফিনে খাবার কিনতে যান স্থানীয় রমজান। খাবার পরিবেশনে বিলম্ব হওয়ায় হোটেলের এক কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পর রমজানের অনুসারীরা ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিন এবং মণ্ডলের মোড় এলাকার বঙ্গভোজ রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কনস্টেবল ফয়েজ আহত হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন এসে বাংলা টিফিনে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের সবার হাতে লাঠি, ছুরি ও চাপাতি ছিল। তারা চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সম্ভবত খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীর সঙ্গে এক ক্রেতার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। আমরা তখন বাংলা টিফিনের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর শোরগোল শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি, কয়েকজন দোকানের কর্মচারীদের বাইরে এনে কার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে, তা জানতে চাইছেন। অভিযুক্ত কর্মচারীকে না পেয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

এ বিষয়ে বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজের মালিক মুর্শেদ সাকিল বলেন, আমি বর্তমানে বাইরে আছি। আমার দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা হয়েছে। যতদূর জেনেছি, স্থানীয় কিছু লোক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে আপাতত বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। আমি বিব্রত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ঘটনার বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, স্থানীয় রমজান নামের এক নেতা বাংলা টিফিনে খাবার কিনতে যান। তাকে একটি খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয় এবং আরেকটি প্যাকেট প্রস্তুত করতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগবে বলে জানানো হয়। এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। কিন্তু এর আগেই তার অনুসারীরা দলবেঁধে বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজ রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়।

এক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি বলেন, ঘটনার সময় একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসময় ফয়েজ নামের এক কনস্টেবল আহত হন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় রমজানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বেতাগীতে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ কর্মী আটক

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বেতাগীতে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ কর্মী আটক
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রস্তুতিকালে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার ফেরিঘাট এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দুর্জয় বেতাগী ভাস্কর্যের’ আশপাশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় রাত ৮টায় বেতাগী থানার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেতাগী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও ৬ জনকে আটক করতে পারে পুলিশ।

আটক যুবকরা হলেন উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের মাহবুব মোল্লার ছেলে মাহিম (১৭), হারুন মিয়ার ছেলে মো. সিফাত (১৯), বশির হাওলাদারের ছেলে পারভেজ (২০), তালগাছিয়া গ্রামের মনজুরুল হোসেনের ছেলে নাঈম (১৭), দক্ষিণ হোসনাবাদের বাসিন্দা শিপন মোল্লার ছেলে শাহীন (১৯), খলিলুর রহমানের ছেলে তাওহিদ (১৮)।

এসময় তাদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের কিছু হ্যান্ড বিল ও পতাকা জব্দ করা হয়।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বেতাগী থানায় সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার বলেন, আগস্ট মাসকে সামনে রেখে ছাত্রলীগ কর্মীরা বেতাগী ফেরিঘাট এলাকার দুর্জয় ভাস্কর্যের সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে এই ৬ জনকে আটক করা হয়। তবে এসময় কয়েকজন পালিয়ে গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা কোনো সাংগঠনিক পদে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেনি। তাই তারা ছাত্রলীগের কোনো পদে রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আটকদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।