kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

বিক্রমাসিংহে কি সংকট উত্তরণে সক্ষম হবেন

এ কে এম আতিকুর রহমান

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বিক্রমাসিংহে কি সংকট উত্তরণে সক্ষম হবেন

আমাদের দেশে একটা কথা প্রচলিত আছে—‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না। ’ আজ শ্রীলঙ্কায় যে সংকট দেখা দিয়েছে তার মূলে কাজ করেছে দেশটির নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার লালসা। এই জটিল সংকট দেশটিকে কোথায় নিয়ে যায় কে জানে! দেশটি যে শুধু অর্থনৈতিক সংকটেই পড়েছে তা নয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওই সংকটকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। এমন দ্বিমুখী সংকটে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি আগে কখনো পড়েছে বলে মনে হয় না।

বিজ্ঞাপন

ভেবে কাজ না করার মাসুল দিচ্ছে দেশটির জনগণ।

রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, রাষ্ট্র চালনায় দক্ষতা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকতা ও সততা, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক রক্ষার সক্ষমতা না থাকলে সেই নেতৃত্ব দিয়ে দেশের উন্নয়ন ঘটে না। শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের মনমানসিকতায় সাধারণত ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য অধিক হারে লক্ষ করা যায়। তা অতি সাধারণ একজন মানুষই হোক বা ধনী ক্ষমতাশালী মানুষই হোক। দেশ বা জনসেবার অলংকার পরে যাঁরা দেশ শাসনের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন তাঁদের (কিছুসংখ্যক বাদে) কাছ থেকে নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভালো কিছু পাওয়ার আশা করার মতো দ্বিতীয় আর কোনো ভুল হতে পারে না। এসব দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহজেই এর সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। আসলে তাঁদের মধ্যে দেশপ্রেম, সততা আর অঙ্গীকার প্রচণ্ডভাবে অনুপস্থিত। তাঁদের থেকে দেশ ও জনগণ কল্যাণকর কিছু আশা করবে কিভাবে? সেই আস্থা যত দিন না সৃষ্টি হবে তত দিন পর্যন্ত জনগণকেই এ ভোগান্তি বয়ে বেড়াতে হবে। শ্রীলঙ্কা আজ তারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

বিদেশি ঋণ গ্রহণের আগেই চিন্তা করতে হবে। উন্নয়নের নামে অযথা কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত নয়। যে প্রকল্প দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে না, অন্যের টাকার কথা বাদই দিলাম, নিজের টাকা দিয়েও সেই প্রকল্প গ্রহণ করা ভুল হবে। ক্ষমতায় থাকার জন্য বা অন্তর্নিহিত অন্য কারণে বিদেশি ঋণের টাকা দিয়ে চোখ-ধাঁধানো উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিতে গিয়ে শ্রীলঙ্কার নেতারা দেশটার এই অবস্থা করেছেন।

শ্রীলঙ্কা হঠাৎ করেই এ পরিস্থিতিতে পড়েনি। বর্তমান সংকটে পৌঁছানোর বীজ বপন করা হয়েছে অনেক দিন আগেই, পূর্ববর্তী কয়েক সরকারের শাসনামলে। ভূ-রাজনীতির বিষয়টিও শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাপ্রেমী নেতৃত্বকে বিপথগামী করে এই সংকট ত্বরান্বিত করেছে। চীনা ঋণের ফাঁদে পড়ে দেশটির নেতৃত্ব আজ শ্রীলঙ্কাকে যে অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে সেখান থেকে বের হওয়া সহজ নয়। ক্ষমতা ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা, সরকারে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নানা অনৈতিক স্বার্থ প্রাপ্তির লোভ এবং দেশ পরিচালনায় ভুল সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে রাজাপক্ষে পরিবার দেশটিকে যে অবস্থায় নিয়ে গেছে তার ক্ষতিপূরণ এখন জনগণকে গুনতে হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সরকারের একা এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন।

গত এপ্রিল অবধি শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পরিশোধ করার ক্ষমতা দেশটির নেই। গত বছরই তাদের ঋণের পরিমাণ ছিল জাতীয় আয়ের চার গুণ। ওই অবস্থায় শ্রীলঙ্কা সরকার নিজেদের প্রথমে দেউলিয়া এবং গত ১২ এপ্রিল ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষণা দেয়। তবে বিদেশি ঋণ ছাড়াও সংকট এতটা ভয়াবহ করার পেছনে সরকারের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড দায়ী। যেমন—জাতীয় আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করা, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে করের হার কমানো, মুদ্রার বিনিময়হারের দুরবস্থা বা মূল্যস্ফীতি, রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ, প্রবাসী শ্রীলঙ্কানদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধস নামা ইত্যাদি। করোনা মহামারির কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন খাত থেকে কোনো আয় আসেনি। তাই এখন জনগণকে খাদ্য সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে, ওষুধের অভাবে চিকিৎসাবিহীন মরতে হচ্ছে, জ্বালানি নেই, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাতি জ্বলছে না। তারা মাঠে নেমেছে, বিক্ষোভ করছে।

গণ-আন্দোলনের মুখে মাহিন্দা রাজাপক্ষে পদত্যাগ করলে ১২ মে রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৬ মে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, দেশে জ্বালানি ও ওষুধের অভাব রয়েছে। মজুদ জ্বালানি দিয়ে হয়তো এক দিন চলা যাবে। কয়েক দিনের মধ্যে কমপক্ষে ৭৫ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান করতে হবে এসব কেনার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমি দেশকে বাঁচাতে এসেছি; ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে নয়। ’ তবে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে ১৬০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভারত তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তারা ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহ করার ঘোষণাও দিয়েছে।

বিরোধী কয়েকটি দল প্রথম থেকেই রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগে বিরোধিতা করে আসছে। তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় যোগদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে দাবি করে, রনিল বিক্রমাসিংহের নিয়োগে ভারতের হাত রয়েছে। অবশ্য ভারত এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। যা হোক গত কয়েক দিনে বিরোধী দলগুলোর অনেক নেতার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ বর্তমান সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। সময় ও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রয়োজনে শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যদি কোনো পরিবর্তন ঘটে তাতে আশ্চর্য হওয়ারও কিছু থাকবে না।

এদিকে ১৭ মে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার ক্ষমতায় থাকা না থাকার ব্যাপারে ‘নো কনফিডেন্স মোশন’-এর ওপর ভোটাভুটিতে তিনি পার (পক্ষে ১১৯ এবং বিপক্ষে ৬৮ ভোট) পেয়ে গেলেও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে জনতার বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি যদি ক্ষমতায় থাকার জন্য অন্য কোনো উপায়ের অর্থাৎ সামরিক শাসন জারির কথা চিন্তা করেন, সেটি বড়ই ভুল হবে। বিশ্বের বা দেশের মানুষের কাছে তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হবে না, বিদ্যমান সংকট আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।

ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে এর আগে পাঁচবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৭ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে সংসদ নেতা মনোনীত হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তামিল টাইগারদের হাতে প্রধানমন্ত্রী প্রেমাদাসা নিহত হলে ১৯৯৩ সালের ৭ মে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সময় তিনি শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ২০০১-০৪ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। সেই সময় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটে তাঁদের থেকে সহযোগিতাও পাওয়া যায়। ২০০২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এলটিটিইর সঙ্গে বিদ্যমান সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ওই চুক্তির বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো মাঠে নামে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রেসিডেন্ট কুমারাতুঙ্গা ২০০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভেঙে দেন।

রনিল বিক্রমাসিংহে ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৬ সালে বৈদেশিক ঋণে ভারাক্রান্ত শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে তাঁর সরকার আইএমএফ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সংস্থান করা ছাড়াও করহার বৃদ্ধি করে। চীনা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় ২০১৭ সালে নবনির্মিত হাম্বানটোটা বন্দরটিকে ৯৯ বছরের জন্য চীনের একটি কম্পানিকে লিজ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে ঋণের বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চীনের কাছ থেকে আরো এক বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট তাঁকে বাদ দিয়ে মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং প্রধানমন্ত্রিত্ব রক্ষা করেন। প্রধানমন্ত্রী রনিল ওই সময় শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয়বৈষম্য কমানো, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে রনিল বিক্রমাসিংহের দলের ভরাডুবি হয়, একটি আসনেও তারা বিজয়ী হতে ব্যর্থ হয়। তবে বিশেষ বিবেচনায় (ন্যাশনালিস্ট নিয়ম অনুযায়ী) ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান।

প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের দেশ পরিচালনা করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। শ্রীলঙ্কার অনেক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটও তিনি মোকাবেলা করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার সঞ্চয় নিয়ে তাঁকে এগোতে হবে। মন্ত্রিপরিষদে যাঁরাই অন্তর্ভুক্ত হন না কেন তাঁদেরও শপথ নিতে হবে একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, অর্থাৎ বর্তমান সংকট থেকে শ্রীলঙ্কাকে বের করে আনা। এ ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব একাধিক দলের অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা গেলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সহিংসতা সামাল দেওয়াসহ অন্য চ্যালেঞ্জগুলো থেকে উত্তরণ সহজ হবে। জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে যেন এটি করা যায় সেদিকে জোর দিতে হবে। বর্তমানে দলীয় স্বার্থের কথা ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

দেশে বিদ্যমান খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোসহ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জোরদার করতে হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলমান রাখা অত্যন্ত জরুরি। চীন সরকারের সঙ্গে ঋণ পরিশোধের একটা গ্রহণযোগ্য ও সুবিধাজনক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। ভারতকে এড়িয়ে চলা শ্রীলঙ্কার জন্য মন্দ বই ভালো হবে না। নিজেদের স্বার্থেই দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য।

সার্বিক বিবেচনায় এ সংকট উত্তরণে বিক্ষোভের চেয়ে ঐক্যের প্রয়োজন অনেক বেশি। দল-মত-নির্বিশেষে জনগণ ও সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নের মধ্যেই নিহিত রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের উত্তরণ। তাই শ্রীলঙ্কার বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের প্রতি জোর দিতে হবে। সরকার প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা লাভে সফল হলে শ্রীলঙ্কার আকাশে ঘনীভূত মেঘ অবশ্যই ধীরে ধীরে কেটে যাবে।

 লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব

 



সাতদিনের সেরা