kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অভ্যাস বদলেই ভাগ্যবদল মমিনুলের

সামীউর রহমান   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভ্যাস বদলেই ভাগ্যবদল মমিনুলের

মানুষ হিসেবে মমিনুল হক অনেকটাই ভাবলেশহীন। অনেক দিন আগে, কালের কণ্ঠ’র তরফ থেকে মমিনুলকে ফোন দেওয়া হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতরানের পর। তখন মমিনুল সদ্য পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরপর দুটো টেস্টে শতরানের পর চারদিকে তাঁর স্তুতিবাক্য আর প্রশংসা। ও রকম সময়েও মমিনুলের কণ্ঠে বাড়তি আবেগ নেই। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ইনিংস এবং ১০৬ রানে জিতে আসার পর, প্রায় দেড় বছর এবং ১৪ ইনিংস পরে শতরান করার পর, অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট জয়ের পর গণমাধ্যমের সামনে এসেও মমিনুল ভাবলেশহীন। পরে জানালেন, এখন তিনিও মেজাজ দেখাতে শিখেছেন!

অধিনায়কত্বে অভিষেকের পর টানা তিন ম্যাচে হার, তিনটিই ইনিংস ব্যবধানে। ব্যাটে রান নেই। এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো ক্রিকেটারেরই চাপের মুখে পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মমিনুল উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আমি জানি না আমাকে দেখে কখনো চাপের মধ্যে আছি বলে মনে হয়েছে কি না, আমার কাছে সেটা মনে হয় না। আমার যা-ই থাকুক, আমি চেষ্টা করি অনেক বড় কিছু আশা করতে। আমি কখনো চাপের মুখে ছিলাম না। শুরুটা খারাপ হলে, ব্যাপারটাকে আমি ওভাবে দেখি না, ও রকম হতেই পারে, যখন ভালো হবে তখন আস্তে আস্তে ভালো হবে। আমার কাছে উন্নতি করাটা গুরুত্বপূর্ণ।’ সেই উন্নতির ছাপটা দেখা গেছে ঢাকায়। অপ্রত্যাশিতভাবে টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার পর বিদেশেই তিনটি টেস্ট খেলতে হয়েছে, তাও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। দেশের মাটিতে টেস্টে জয়, শতরান সব কিছু ছাপিয়ে একটা দল হয়ে ওঠাকেই বড় করে দেখছেন মমিনুল, ‘খেলোয়াড়রা কখন কিভাবে কাজ করবে, আমি সব সময় সেটা দেখতে চাচ্ছিলাম। খেয়াল করে দেখবেন, প্রথম ইনিংস থেকেই সবাই সবার কাজটা করছে। ব্যাটিং বলেন, পেস বোলার বলেন, স্পিনার, দলের যখন যেটা দরকার সে সেই কাজটা করেছে। এ জন্যই কাঙ্ক্ষিত ফল এসেছে।’

ব্যাটিংয়ে শতরান, তার সঙ্গে দারুণ থ্রোতে প্রতিপক্ষের সেরা ব্যাটসম্যান ক্রেইগ আরভিনকে রান আউট করা। মমিনুল অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে নন, দলের একজন সদস্য হিসেবে এসব ‘ছোট ছোট’ অবদান রাখতে পেরেই খুশি, ‘একটু তো অবদান রাখতে পারলেই ভালো! শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, দলের একজন সদস্য হিসেবেও তো সবার কাছ থেকে কিছু অবদান কাম্য। দলের জন্য অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগে। দলের জন্য এ রকম অল্প অল্প অবদানও অনেক বেশি।’ দেশে টেস্ট মানেই যেন গত্বাঁধা স্পিন সহায়ক উইকেট, এবার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। মমিনুল জানালেন, বিদেশের মাটিতে ভালো করার লক্ষ্য থেকেই এই বাঁক্বদল, ‘আমার স্বপ্ন শুধু দেশেই না, বিদেশেও ভালো করব। বিদেশে ভালো করতে হলে পেস বোলারদের সুযোগ দিতে হবে, না খেললে ওরা ভালো বোলিং করা শিখবে না। আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে উইকেট যে রকমই হোক না কেন আমাদের সামর্থ্য আছে জেতার। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমরা জিনিসটা সামলাতে পেরেছি ভালোভাবে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ইনিংসের আগে; ইন্দোর, কলকাতা ও রাওয়ালপিণ্ডিতে কোনো ইনিংসেই আড়াই শর বেশি রান করতে পারেননি বাংলাদেশ। সেখানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ইনিংসেই সাড়ে পাঁচ শর ওপরে রান, তাও অল আউট না হয়েও। পার্থক্যটা কি অন্য দলগুলোর সঙ্গে জিম্বাবুয়ের বোলিং সামর্থ্যে, নাকি ব্যাটসম্যানদের মানসিকতায়? এমন প্রশ্নে মমিনুলের উত্তর, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাইন্ডসেটটা। ক্রিকেটটা ৭০-৯০% মাইন্ডসেটের ওপর নির্ভর করে। আমার কাছে মনে হয় পুরোটাই মাইন্ডসেটের ওপর নির্ভর করে।’ তবে বোলিং সামর্থ্যের পার্থক্যটা অস্বীকার করলেন না, ‘জানেন যে পাকিস্তানের কিংবা ভারতের বোলার আর জিম্বাবুয়ের বোলারে তফাত থাকবেই। তবে যেসব আন্তর্জাতিক দল আছে, সবাই টেস্ট ক্রিকেটে কিছু না কিছু ভালো করার চেষ্টা করে। পাকিস্তানের বোলাররা ভালো, তবে জিম্বাবুয়েকে আমি খারাপ বলব না, হয়তো অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে আছে।’

ঠাণ্ডা মেজাজের মমিনুলকে অধিনায়কত্ব কি কিছুটা বদলে দিল? মমিনুল বলছেন, প্রয়োজনে কঠোর হতে শিখেছেন তিনি, ‘আমার অধিনায়কত্বের শুরু বিসিএল, এনসিএল দিয়ে। তখন শুরুতে এ রকমই ছিলাম, পরে দেখলাম বদল করতে হবে। যারা মাঠে থাকে তারা জানে, মাঠে একটু আক্রমণাত্মক, একটু আগ্রাসী হতে হয়। সবাইকেই ঝাড়ি মারি!’

স্বভাবটা বদলেছেন, বদলেছেন জার্সির নম্বরও। তাতেই বুঝি ভাগ্য বদল, টানা তিনটি ইনিংস ব্যবধানে হারের পর চতুর্থ টেস্টে এসে ইনিংস ব্যবধানে জয়! যে জয় চৈত্রের দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টির মতোই ছিল আরাধ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা