kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

পাঠক-লেখক আড্ডায় প্রাণবন্ত বইমেলা

কালোত্তীর্ণ লেখকের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের কবি-সাহিত্যিকদের বইও বিক্রি হচ্ছে বেশ

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একুশে বইমেলায় এখনো রবীন্দ্রনাথ, শরত্চন্দ্র, বিভূতিভূষণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ শামসুল হক, রিজিয়া রহমান, শওকত আলী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হুমায়ূন আহমেদ, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ-এঁদের বইয়ের চাহিদা বেশি।

তবে এসব কালোত্তীর্ণ লেখকের গ্রন্থের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে চট্টগ্রামসহ দেশের খ্যাতিমান কবি লেখকদের বইও সংগ্রহ করছেন অনেকে। মেলায় জীবনানন্দ রচনাবলি, বিভূতিভূষণ রচনাবলি, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচনাবলি, আল মাহমুদ রচনাবলি, হুমায়ূন আহমেদের ‘সেরা সাত’ মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসহ রচনাবলি বিক্রি হচ্ছে বেশ। গল্প, উপন্যাস, কবিতা ও সায়েন্স ফিকশনের পাশাপাশি অনেকে কিনছেন আত্মোন্নয়নমূলক বই। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের বই পড়ে জীবনকে বদলানোর জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলো রপ্ত করা যায়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে চলছে অমর একুশে বইমেলা। বুধবার মেলার নবম দিন। দিন দিন পাঠক-লেখক আড্ডায় উপস্থিতিও বাড়ছে। মেলার প্রবেশপথের ডানে লেখক আড্ডাস্থল জমে ওঠে সন্ধ্যার আগ থেকে মেলা শেষঅবধি। বইমেলা চলবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

চট্টগ্রামের গল্পকারদের মধ্যে দেবাশীষ ভট্টাচার্যের ‘নির্বাচিত গল্প’ ও বিশ্বজিৎ চৌধুরীর ‘পাথরের মূর্তির মতো’ এবং কবি ছন্দা দাশের কবিতার বই ‘কোমল গান্ধার’ মেলায় এসেছে।

গল্পকার দেবাশীষ ভট্টাচার্য জানান, দীর্ঘ ৪০ বছরের লেখা গল্প থেকে বাছাই করা গল্প নিয়ে তাঁর ‘নির্বাচিত গল্প’ প্রকাশ করেছে বলাকা প্রকাশনী। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা গল্প লিখি এখনো রবীন্দ্রনাথ, মানিক, বিভূতির কাছে যাই। তাছাড়া দেশের সেরা গল্পকারদের গল্প পাঠ করি। তবে বর্তমান সময়ে যাঁরা লিখছেন তাদের অনেকের পঠন-পাঠনে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হয়।’

কবি ছন্দা দাশ প্রায় প্রতিদিন মেলায় আসেন। এবারের মেলায় তাঁর কবিতার বই ছাড়াও স্মৃতিগ্রন্থ ‘সাতকাহন’ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের প্রচুর পাঠক মেলায় আসছে-এটা আমাদের সমাজের জন্য সুখবর। কারণ যারা বই পাঠের সঙ্গে যুক্ত থাকে তারা অসামাজিক কোনো কাজে জড়িত হতো পারে না।’

গল্পকার বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘মেলায় সবাই বই কিনবে-এমন আসা করা ঠিক নয়। কেউ বই কিনতে আসে, কেউ বেড়াতে আসে, মেলাকে বিনোদনের একটা মাধ্যম হিসেবে নিয়ে ঘুরে-বই দেখে। একসময় বইও কিনে নেয়।’

বইমেলায় তিন দিনব্যাপী সাহিত্য সম্মিলনের প্রথম দিন মঙ্গলবার তিন বরেণ্য সাহিত্যিকের প্রাণবন্ত আড্ডা উপস্থিত সাহিত্যপ্রেমীরা দারুণভাবে উপভোগ করেন। কবি-সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী ও রাশেদ রউফের সঞ্চালনায় দুই পর্বে বিভক্ত সাহিত্য আড্ডার প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই। আলোচনা করেন সাহিত্যিক আনিসুল হক, ঔপন্যাসিক হরিশংকর জলদাস এবং কবি ও কথাশিল্পী বাদল সৈয়দ। দ্বিতীয় পর্বে আলোচক ছিলেন সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা