kalerkantho

স্বামীর চুরি করা গয়নায় ফেঁসে গেলেন দুই স্ত্রী

এমপি লতিফের ভাতিজার বাসায় চুরি, গ্রেপ্তার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্দর-পতেঙ্গা আসনের (চট্টগ্রাম-১১) সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বড় ভাই এম এ মজিদের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে গত ১৯ আগস্ট। ওই ঘটনায় এম এ মজিদের ছেলে ইফতেখার হোসেন বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি চুরির মামলা করেন। মামলায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ আনা হয়। চুরির মামলাটির তদন্ত পর্যায়ে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে দুই স্ত্রীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন নারী আছেন। তাঁরা চোর হিসেবে অভিযুক্ত আমির হোসেনের স্ত্রী। ওই দুই সতীনের অপরাধ তাঁরা স্বামীর চোরাই গয়না ও টাকা উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দুই স্ত্রী কারাগারে যাচ্ছে নিশ্চিত হয়েও পুলিশের ফাঁদে পা না দিয়ে আমির যথারীতি পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুলতান আরেফিন জীবন (২৮), সাজ্জাদ হোসেন টিপু (৩২), ইসমাইল হোসেন (৩২), মো. শরীফ (৩৮), জেসমিন আক্তার (৩৫) ও রেহানা আক্তার (৩২)। তাঁদের হেফাজত থেকে চুরির ৮ ভরি ৯ আনা গয়না এবং চার লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে নগর পুলিশের বন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আরেফিন জুয়েল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ১৯ আগস্ট চুরির ঘটনায় বন্দর থানায় একটি মামলা হয়। মামলার তদন্ত পর্যায়ে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বড় ভাইয়ের বাসায় চুরির ঘটনায় যাঁদের সন্দেহ করা হয় তাঁদের সঙ্গে মামলার বাদী ফারজিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক লেনদেন ঘিরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এ কারণে ফারজিনদের বাসায় চুরির পরিকল্পনা করেন এক সময়ের ব্যবসায়িক বন্ধু মো. সুলতান আরেফিন জীবন। চুরির পরিকল্পনা করার পর সুলতান আরেফিন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন টিপুর সঙ্গে। তাঁরা দুজনই সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এরপর টিপু ভাড়াটিয়া চোর ঠিক করার দায়িত্ব দেয় আসামি ইসমাইল হোসেনকে। ইসমাইল হোসেনই ভাড়াটিয়া চোর হিসেবে ঠিক করেন আমির হোসেনকে। আমির হোসেনকে বিস্তারিত তথ্য দেন চুরির পরিকল্পনাকারীরা।

এর মধ্যে ইফতেখার ১৯ আগস্ট কক্সবাজার থাকবেন এটা নিশ্চিত করেন আসামি আরেফিন। এর পর আমির হোসেন সহযোগীদের নিয়ে ইফতেখারের বাসায় চুরি করেন। চোরের দল ইফতেখারের বাসা থেকে ৩৯ ভরি সোনার গয়না, দুটি হীরার আংটি ও নগদ ১৮ লাখ টাকা চুরি করে।

বিপুল পরিমাণ গয়না ও টাকা চুরির পর আমির হোসেন চুরির পরিকল্পনাকারীদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করে। প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ গয়না ও টাকা আমির নিজে রেখে বাকি টাকা ও গয়না ভাগাভাগি করে নেয়। শেষে আমির হোসেন তাঁর দুই স্ত্রীকে গয়না ও নগদ টাকা উপহার দেয়।

কিন্তু মামলার তদন্ত পর্যায়ে যখন জানতে পারে আমির তাঁর দুই স্ত্রীকে চুরির গয়না ও টাকা উপহার হিসেবে দিয়েছে, তখন দুই স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই স্ত্রী স্বামী আমির হোসেনের কাছ থেকে গয়না ও টাকা উপহার হিসেবে পাওয়ার তথ্য পুলিশের কাছে স্বীকার করে। এর পর স্ত্রীর মোবাইল ফোন থেকে আমির হোসেনের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা কথা বলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা আমিরকে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করার অনুরোধ জানান। সঙ্গে শর্ত দেন, যদি আমির আত্মসমর্পণ না করে তাহলে তাঁর দুই স্ত্রীকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে। আর আমির আত্মসমর্পণ করলে দুই স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু চোরস্বামী পুলিশের এমন প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ফলে দুই স্ত্রীও চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান।

মন্তব্য