গান মঈনুল আহসান নোবেল অলরেডি তিনি জনপ্রিয়—বাংলাদেশে যতটা, পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক ততটাই। ভারতের জি বাংলার রিয়ালিটি শো ‘সা রে গা মা পা’র মঞ্চ মাতাচ্ছেন বাংলাদেশের এই রকগায়ক। শোর বিচারক শ্রীকান্ত আচার্য্য, মোনালি ঠাকুর ও শান্তনু মৈত্র রীতিমতো মুগ্ধ নোবেলের পারফরম্যান্সে। এ পর্যন্ত ১১ বার মঞ্চে উঠেছেন, ৯ বারই পেয়েছেন ‘গোল্ডেন গিটার’, মানে দশে দশ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর ভক্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। শুধু সাধারণ শ্রোতারাই নয়, ভক্তর তালিকায় আছেন সেলিব্রিটিদের অনেকেই। একটা পর্বে অনুপম রায়ের সঙ্গে গাওয়ার সুযোগ হয়েছিল নোবেলের। ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ গায়ক সেদিনই জানিয়েছিলেন, নোবেলের গান তাঁর ভীষণ ভালো লাগে। মোনালি ঠাকুর তো নিজেকে ‘নোবেলের ফ্যান’ বলেই দাবি করেন। এই শনিবারের পর্বে ঘটল আরেক কাণ্ড। ‘সা রে গা মা পা’র শুটিং হচ্ছিল যে ফ্লোরে, পাশের ফ্লোরেই রান্নার অনুষ্ঠানের শুটিং করছিলেন অপরাজিতা আঢ্য। নোবেলের গান সরাসরি শুনবেন বলে চুপি চুপি এসে দর্শকসারিতে বসে পড়লেন ‘প্রাক্তন’ অভিনেত্রী। মঞ্চে তখন নোবেল গাইছেন জেমসের ‘চল চলে আপনে ঘর’। গান শেষ হতেই সঞ্চালক যিশু সেনগুপ্ত টেনে মঞ্চে তুললেন অপরাজিতাকে। অভিনেত্রী তখন জানালেন, শুধু তিনিই নন, তাঁর ছেলে ও ছেলের বন্ধুরাও নোবেলের ভক্ত। বাংলাদেশের অনেক তারকাও প্রশংসা করেছেন কুড়ি পেরোনো গোপালগঞ্জের এই তরুণের। তালিকায় আছেন প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু, প্রিন্স মাহমুদ ও ইমরান। শুরুতে এলআরবি, নগর বাউল ও মাইলসের গান করে নজর কাড়েন নোবেল। পরে অবশ্য সব ধরনের গানই গেয়েছেন। রবীন্দ্রসংগীত, আর ডি বর্মন, এ আর রহমানের গান গেয়েও পেয়েছেন দশে দশ। সংগীতাঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, নোবেল শো জিতুক আর না-ই জিতুক, সেখান থেকে ফিরেই নেমে পড়বেন পেশাদার গানের জগতে। নতুন বছরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের গানের জগতে থাকবে এই তরুণের দাপট, সেটা তাঁর ভক্তর সংখ্যা দেখেই বলে দেওয়া যায়। অভিনয় ইয়াশ রোহান গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’-এর প্রিমিয়ার দেখে বের হওয়ার সময় অনেক দর্শকই অবাক হয়ে বলাবলি করছিলেন, ‘কে এই নতুন নায়ক! অভিনয়ে একেবারেই সাবলীল, মনেই হয় না প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছে।’ এই দর্শকরা হয়তো জানেন না, রোহানের মা-বাবা দুজনই নামি অভিনয়শিল্পী—শিল্পী সরকার অপু ও নরেশ ভুইয়া। স্বভাবতই অভিনয় তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। সেলিমের ‘মনপুরা’র মতো ব্যবসাসফল না হলেও ‘স্বপ্নজাল’ দারুণ প্রশংসা পেয়েছে। আর ইন্ডাস্ট্রি পেয়েছে এই অভিনেতাকে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস, পরীক্ষা তো লেগেই আছে। এই ব্যস্ততার মধ্যেও অভিনয় করেছেন বেশ কয়েকটি নাটকে—‘সুখ’, ‘বিবাহ বিভ্রাট’, ‘সাজানো বনবাস’ ও ‘ফেসবুক ছাড়ার ছয়টি উপায়’। এই সময়ে আলোচনায় আছেন গোলাম মুক্তাদির শানের ওয়েব ফিল্ম ‘রূপকথা’য় অভিনয়ের জন্য। এখানে তাঁর সহশিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশা। এই ফিল্মে অভিনয় করতে গিয়ে তিশার সঙ্গে বেশ ভালো বোঝাপড়া হয়েছে রোহানের, ‘আমি খুব চুপচাপ স্বভাবের ছেলে। তিশা আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র অভিনেত্রী। তাঁর অভিনয়ের ক্যারিয়ার প্রায় আমার বয়সী। তাঁর সঙ্গে প্রেমিক চরিত্রে অভিনয়! ভাবছিলাম কিভাবে তাঁর সঙ্গে এই সব প্রেমের সংলাপ বলব। স্পটে আসার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি পরিবেশ তৈরি করে ফেললেন। মনেই হয়নি তিনি অনেক সিনিয়র। আমরা হাসিঠাট্টায় কাজটি শেষ করলাম।’ ২২ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিন। এবারের জন্মদিনে শুরু হয়েছে তাঁর দ্বিতীয় সিনেমার শুটিং—অরুণ চৌধুরীর ‘ময়না পাখি’। এখানেও তাঁর নায়িকা তিশা। রোহানের কাছে একের পর এক নাটক-চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসছে। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার আগে ফুলটাইম অভিনেতা হতে চান না। ‘ভালো গল্প পেলে আবার ছাড়তেও রাজি নই’—বললেন রোহান। ভালো গল্প পেয়েছেন বলেই গত মাসে করলেন আশফাক নিপুনের ‘চাকা’ এবং এন আর সোহেলের ‘রঙ বেরং’। ‘চাকা’য় বেশ প্রশংসা পেয়েছেন। নিজেই বললেন, ‘স্বপ্নজাল’-এর পর অন্যতম সেরা কাজ এটি। প্রায় সব নির্মাতাই আগ্রহী তাঁকে নিয়ে কাজ করতে। আর এই আগ্রহের কারণেই মনে হচ্ছে, ২০১৯ সালে ছোট পর্দা ও বড় পর্দা—দুইখানেই সৌরভ ছড়াবেন এই অভিনেতা।