ছোটবেলা থেকে বন্ধুরা মেঘলাকে খুব হিংসে করত। বলত, মেয়েটির কপাল ভালো। না চাইতেই সব পেয়ে যায়! কথাটা সব সময়ই সত্যি হয়েছে। এবারও তাই হলো। শুরুতে 'আমি শুধু চেয়েছি তোমায়' ছবিতে মেঘলাকে ভাবেননি পরিচালক। চেয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে জনপ্রিয় কোনো নায়িকাকে নেবেন। কিন্তু হঠাৎ ফেসবুকে মেঘলাকে দেখে ভালো লাগল। পরদিন কিছু ছবি নিয়ে দেখা করতে বললেন মেঘলাকে। অনেকটা অপ্রস্তুত হয়েই অফিসে হাজির হলেন মেঘলা। পরিচালক ছবিগুলো দেখলেন। এরপর নিজেই কিছু ফটোশুট করলেন। তারপর সেদিনই মেঘলাকে চুক্তিবদ্ধ করে নিলেন! মেঘলা বলেন, 'ওই দিনের কথা মনে হলে এখনো অবাক হই। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আম্মুকে বলেছিলাম এমনিতেই যাচ্ছি। তাঁরা আমার ছবি দেখতে চেয়েছেন। হয়তো পছন্দ করবেন না। এটা নিয়ে আকাশ কুসুম ভাবার কিছু নেই। কিন্তু বাসায় যখন ফিরলাম, হাতে চুক্তিপত্র এবং সাইনিং মানি।' মিডিয়া জগতে মেঘলার শুরু র্যাম্পের মডেল হিসেবে। পরে আড়ংয়ের বিভিন্ন বিলবোর্ডের ফটোশুট করে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন মেঘলা। এখনো শহরের অলিগলিতে আড়ংয়ের বিলবোর্ডগুলোয় মেঘলাকে দেখা যায়। ফটোশুটটা বেশ উপভোগও করেন তিনি। তবে এখন মেঘলাকে সবচেয়ে বেশি টানে অভিনয়। তিনি বলেন, 'ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করতে এত মজা আগে বুঝিনি। প্রথম যেদিন দার্জিলিংয়ে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলাম, সেদিন মনে হয়েছিল পারব না। কিন্তু আস্তে আস্তে ভয়টা কেটে গেছে। এখন মনেই হয় না আমি নতুন।' এরই মধ্যে কলকাতার আরো দুটি ছবির প্রস্তাব পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠিত দুজন নায়কের সঙ্গে কাজ করার এই সুযোগ হাতছাড়াও করতে চান না তিনি। এই মুহূর্তে ছবিগুলো ও নায়কের নাম প্রকাশও করতে চান না। মেঘলা বলেন, 'প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আমাকে এক্ষুনি মুখ খুলতে না করেছেন। শিগগির আবার কলকাতায় যাব। তখন ওরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটা করে সুখবরটি জানাতে চায়।' বাংলাদেশেও এখন মেঘলার কদর বেড়েছে। এরই মধ্যে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অনেক নামকরা নির্মাতাও মেঘলাকে নিয়ে ভাবছেন। কারো কারো সঙ্গে দেখাও করেছেন মেঘলা। তবে এক্ষুনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না তিনি। কাল ছবির ফলটা আগে দেখতে চান। মেঘলা বলেন, 'আমার ক্ষেত্রে সব সময় না চাইতেই পেয়ে আসছি। তবে এবার একটু প্র্যাকটিক্যাল হতে চাই। হুট করে প্রস্তাব পেলাম আর লুফে নিলাম- এমনটা আর করব না। ঢাকাই চলচ্চিত্র সম্পর্কে আগে জানতে চাই, বুঝতে চাই। এমন তো নয় যে সময় বয়ে যাচ্ছে। সবে তো শুরু। বাকিটা পথ একটু হিসাব-নিকাশ করেই চলতে চাই।'