kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিস্তাপারের বাসিন্দারা ভাঙনে দিশাহারা

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিস্তাপারের বাসিন্দারা ভাঙনে দিশাহারা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কমতে শুরু করেছে তিস্তার পানি। সেই সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ভাঙন। ছবিটি গত মঙ্গলবার উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের লালচামার এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর, লালচামার, হরিপুর, চণ্ডীপুর, তারাপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। গত এক মাসে নদীতে বিলীন হয়েছে কয়েক গ্রামের সাত শতাধিক বসতবাড়ি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা এবং প্রায় এক হাজার একর ফসলি জমি। এখনো ভাঙন আতষ্কে দিশাহারা নদীতীরবর্তী জনপদের মানুষ।

চলমান অবস্থা বিবেচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলতে শুরু করেছে। তবে লালচামার এলাকার (৪ নম্বর পয়েন্টে) দক্ষিণ ও উত্তরের জনবসতি এলাকায় পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ না ফেলে ফসলি জমি ও ফাঁকা জয়গায় ফেলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিকে তিস্তার ভাঙনে প্রতিবছর বাড়ছে ভিটেমাটি হারানো মানুষের সংখ্যা। ভাঙনের কবলে পড়ে কে কোথায় আশ্রয় নিয়েছে তা জানা নেই অনেকের। নদীভাঙনে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব অনেকে।  বাধ্য হয়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে, কেউ আবার জায়গা না পাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

লালচামার ঘাটের বাসিন্দা আইনুল হক বলেন, ‘বন্যার আগেও নদীরভাঙনে বাড়িঘর, ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। এখন আবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। দফায় দফায় ভাঙনে দিশাহারা নদীতীরের মানুষ। ভাঙনের শিকার অনেকে আশ্রয় নিয়েছে বাঁধে ও অন্যের জমিতে। খেয়ে না খেয়ে কোনো মতে আমাদের দিন কাটছে।’ হরিপুর ঘাটের বাসিন্দা আবদুর ছালাম বলেন, ‘ভাঙনের কারণে বাড়িঘর সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব তাও জানি না। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে না উঠতেই নদীভাঙনের কবলে পড়েছি।’

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। গত এক মাসে লালচামারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সাত শতাধিক বসতভিটা ও এক হাজার একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে আরো বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।’

এদিকে তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিতে মানববন্ধন করে আসছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি ভাঙনে দিশাহারা এলাকার মানুষ তিস্তা নদীর পারে পুঠিমারী এলাকায় নামাজ আদায় ও বিশেষ মোনাজাত করে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। ভাঙন রোধে তীর রক্ষায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

অব্যাহত নদীরভাঙনে উদ্বিগ্ন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড তৎপর রয়েছে। বরাবরই ভাঙন রোধে নদীতীরবর্তী এলাকায় শুধু অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলানোর কাজই হয়েছে। তবে এবার ছয় পয়েন্টে ৪১২ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ পুরো এলাকাকে সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা