তিনি ধনকুবের, তিনি প্রেসিডেন্ট, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাড়ির প্রেমে পড়ে আছেন সেই যুবা বয়স থেকে। তাঁর সংগ্রহে আছে অনেক আধুনিক ও আকর্ষণীয় গাড়ি। এগুলোর কোনোটি গতিতে সেরা, কোনোটি আবার বৈশিষ্ট্যে অনন্য। একটি বিষয়ে সবটির মিল আছে—সবটিই দামি। কয়েকটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন আহমেদ বায়েজীদ মার্সিডিজ বেঞ্জ এসএলআর ম্যাকলারেন ২০০৩ ট্রাম্পের গাড়িগুলোর মধ্যে এটিই বেশি দামি। বাজারের দামি গাড়িগুলোর মধ্যেও এটি আছে ওপরের তাকে। চলতি শতাব্দীর শুরুতে বাজারে আসে মার্সিডিজ বেঞ্জের এই নতুন স্পোর্টস কার। বেঞ্জ নামে ডাকে লোকে, আবার ম্যাকলারেনও বলে অনেকে। সেবার মডেলটির মাত্র ৩৭০টি গাড়ি বাজারে ছাড়া হয়েছিল। পরেরবার ছাড়া হয়েছিল ৪৫টি, তার পরেরবার ৬১৫টি। ২০১০ সালে শেষ সাতটি গাড়ি তৈরি করে বেঞ্জ এতে ইস্তফা দেয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যই ছিল ধনী ও শৌখিন ব্যক্তিরা। ট্রাম্পের গাড়িটিতে আট সিলিন্ডারবিশিষ্ট ৬১৭ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন রয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় এর দাম চার কোটি টাকা। ২০০৫ সালে গাড়িটি কিনেছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, বেঞ্জ ও ম্যাকলারেন অটোমোটিভ জোড় বেঁধে গাড়িটি তৈরি করেছে ইংল্যান্ডের সারে আর পোর্টসমাউথে। মার্সিডিজ বেঞ্জ এস৬০০ (২০১৫) ট্রাম্পের গ্যারেজে শোভা বাড়ানো আরেকটি গাড়ির নাম মার্সিডিজ বেঞ্জ এস৬০০-২০১৫। জেমস বন্ড যেমন গাড়ি চালায়, তেমন একটি গাড়ি এটি। সর্বাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে এতে। আছে গুলি ও বোমা প্রতিরোধের ক্ষমতা। এর জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকটি এমনভাবে তৈরি, যে দুর্ঘটনা বা হামলায় বিস্ফোরিত হবে না। আগে থেকে বিপদও আঁচ করতে পারে গাড়িটি। রয়েছে ৫০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন। ওজনে খুবই হালকা। এই গাড়ি মাত্র পাঁচ সেকেন্ডই ঘণ্টায় ৬০ মাইল পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে চালানো যায়। রোলস-রয়েস সিলভার ক্লাউড ১৯৫৬ ট্রাম্পের নিজের কেনা প্রথম গাড়ি। রোলস-রয়েসের প্রতি তাঁর দুর্বলতা আগে থেকেই। গত শতকের মাঝামাঝিতে এটি ছিল সর্বাধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি। ভক্তরা বলতে চান, গাড়িটি বাছাই করে ট্রাম্প তরুণ বয়সেই রুচির পরিচয় দেন। তখন এই মডেলটি বেশ খ্যাত ছিল। তদুপরি ট্রাম্প অর্ডার দিয়ে ডিজাইনে বৈচিত্র্য এনেছিলেন। তাই এমন গাড়ি এই একটিই। সে সময় গাড়িটির দাম ছিল বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। রোলস-রয়েস ফ্যান্টম ২০১৫ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোলস-রয়েসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই গাড়িটি ট্রাম্পের একটি উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ। ট্রাম্প নিজে চালালে এটিই চালান। বাংলাদেশি টাকায় এর দাম চার কোটি টাকা। ১২ সিলিন্ডারবিশিষ্ট ৪৫৩ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন আছে। মাত্র ছয় সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬০ মাইল পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। ছয় হাজার পাউন্ড ওজনের ও ২০ ফুট লম্বা একটি গাড়ির জন্য যা অবিশ্বাস্য। শেভি কামারো পেস কার ২০১১ দ্রুতগতির জন্য বিখ্যাত এই গাড়ি। মূলত রেসিং কার। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেভ্রলে মাত্র ৫০০টি গাড়ি বাজারে ছেড়েছে এই মডেলের। ১৯৬৯ সালের একটি মডেলের সঙ্গে মিল রেখে এটি তৈরি করা হয়। বাজারে আসা মাত্রই ব্যাপক সাড়া ফেলে। এর ইঞ্জিন ৪২৬ হর্সপাওয়ারবিশিষ্ট। গেল মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘ইন্ডিয়ানাপোলিস ফাইভ হার্ডেড’ মোটর রেসের ১০০তম আসরে গাড়িটি নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু তার আগেই তিনি নির্বাচনে নেমে গিয়েছিলেন, তাই সময় করতে পারেননি। ২৪ ক্যারেট গোল্ড অরেঞ্জ কাউন্টি চপার এটি একটি মোটরসাইকেল। তৈরিতে প্রচুর স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচকরা বলেন, এটি যতখানি বাহন, তার চেয়ে বেশি শোপিস। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেউ কখনো এই বাহনটিতে চড়তে দেখেছে বলে জানা যায়নি। অনেকটা বিলাসদ্রব্য হিসেবেই এই মোটরসাইকেলটি তাঁর গ্যারেজে স্থান পেয়েছে। মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ কাউন্টি চপার ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশেষভাবে এটি তৈরি করে ২০১২ সালে। ক্যাডিলাক অ্যালান্তে ১৯৯৩ ক্যাডিলাক মোটরসের তৈরি ছাদবিহীন দুই সিটের এই গাড়িটির নকশা ও বডি প্রস্তুত করেছে ইতালির পিনিনফারিনা কম্পানি। গাড়িটির গতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খুব বেশি উন্নত না হলেও এটি বিখ্যাত তার ডিজাইনের কারণে। তবে রেসেও এই গাড়ি ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের কারণেই গাড়িটি ট্রাম্পের গ্যারেজে স্থান পেয়েছে।