• ই-পেপার

৭১ লাখ টাকার ভাড়া আত্মসাৎ, আসামি গ্রেপ্তার

চসিকের সেই প্রকৌশলী দম্পতিকে অন্য দুই সিটিতে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চসিকের সেই প্রকৌশলী দম্পতিকে অন্য দুই সিটিতে বদলি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আলোচিত প্রকৌশলী দম্পতি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তাকে অন্য দুটি সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত চলাকালেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাহীনকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এবং ফারজানাকে রংপুর সিটি করপোরেশনের শূন্যপদে বা সমপদে পদায়ন করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবারের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় আগামী সোমবার থেকে তাঁদের স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করা হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ বেতনক্রম অনুযায়ী নতুন কর্মস্থল থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তাঁদের জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, অবসরসহ প্রশাসনিক বিষয়ও নতুন কর্মস্থল থেকেই নিষ্পন্ন হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম।

এর আগে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সানসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এই প্রকৌশলী দম্পতির বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ শাহীন ও ফারজানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্ত কমিটিকে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

 

রামপালে মহাসড়কে ভোগান্তি

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
রামপালে মহাসড়কে ভোগান্তি

খুলনা-মোংলা মহাসড়কসহ রামপাল উপজেলার কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক বেহাল। সাধারণ মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র মহাসড়ক খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি নির্মাণের ৩০ বছর পর বিগত ২০১০ সালে প্রথম দফায় সংস্কার করা হয়। সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় প্রায় প্রতিবছর সড়কটি সংস্কার করতে হচ্ছে। কোথাও অস্থায়ী কার্পেটিং আবার কোথাও ইটের সলিং বসানো হয়েছে। এতে এ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এবারের বৃষ্টিতে এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে দিনরাত মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে আমদানি- রপ্তানি পণ্য সময়মতো আনা-নেওয়ায় যানবাহন ও যাত্রী পরিবহন সেবায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ৪২ কিলোমিটারের এ মহাসড়কের অন্তত ২০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগেরহাট সড়ক বিভাগ ও রামপাল উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তাদের কাছে পৃথক ভাবে জানতে চাইলে তারা জানান এখন বর্ষা মৌসুমে সংস্কার করলে টেকসই হবে না। শুস্ক মৌসুমে সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ভূরুঙ্গামারী

কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ

ভোগান্তিতে চার গ্রামের মানুষ

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম ও ভূরুঙ্গামারী প্রতি‌নি‌ধি
কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ি। বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া ইউনিয়নের শতিপুরি মৌজায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি প্রকৌশল প্রকল্পের আওতায় একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ভেতরে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ওই সড়ক ব্যবহার করে দুটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের পশ্চিম পাশে একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে সেখানে দুটি বসতবাড়ি নির্মাণ করেন দুই ভাই সোনাউল্লাহ ও আমান উল্লাহ। এরপর থেকেই বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে পুরো এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ওই এলাকার কৃষক ওসমান গনি বলেন, বাড়ির বাগানে পানি ওঠায় সুপারিসহ বিভিন্ন গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমনের বীজতলাও নষ্ট হয়েছে। জমিতে পানি থাকায় এবার আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণকারী আমান উল্লাহ বলেন, আমাদের অন্য কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে দুই ভাই এখানে বাড়ি করেছি।

ভূরুঙ্গামারী ইউএনও অমৃত দেব নাথ বলেন, ঘর সরানোর জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের আর কোনো জায়গা নেই মর্মে বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। পরে বাড়ির নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটিও তাঁরা শোনেননি। 

 

 

সারা দেশে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে

কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে

সারা দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি আকারের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। চার বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানায় আবহাওয়া অফিস। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে বইছিল। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি অবস্থায় রয়েছে। আজ শনিবারও এই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় এবং অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয়। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সারা দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয়। এর প্রভাবে সারা দেশের অনেক জায়গায় ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টি আরো অন্তত তিন দিন থাকতে পারে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তত্সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে বর্ষা সক্রিয়তার প্রভাবে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকসহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ঝোড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। এতে নওগাঁ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। তবে এখনো নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে এবং ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এতে লালমনিরহাট, নীফফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থান সাময়িক প্লাবিত হতে পারে।