জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেখার মতো অনেক বন্যপ্রাণী থাকলেও এল-৭ নম্বর খাঁচার সামনেই দর্শনার্থীদের কৌতূহলী ভিড়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ কৌতূহল নিয়ে দেখছেন সারা দেশে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষকে। সাদা রঙের এই মহিষটি এখন জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ। দর্শনার্থীদের কাছে এটি পরিচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে।
গত ঈদুল আজহায় বিশেষ চুলের ধরন ও গায়ের রঙের কারণে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসে এই অ্যালবিনো মহিষটি। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের চুলের সঙ্গে মহিষটির চুলের মিল থাকায় এটিকে খামারি আদর করে নাম দেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হলেও পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেটিকে নিয়ে আসা হয় চিড়িয়াখানায়। ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় ছিল ভাইরাল হওয়া এই মহিষ।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, খাঁচার ভেতরে ছায়াযুক্ত ছাউনির নিচে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল মহিষটি। ছাউনির নিচে দুই পাশে স্থাপন করা হয়েছে ফ্যান। রয়েছে মশারির ব্যবস্থাও। তাপমাত্রা কমাতে টিনের ছাউনির নিচে বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে।
সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী ফিরোজ হাসান মনে করেন, চিড়িয়াখানায় ঠাঁই পাওয়ার পর মহিষটির স্বাস্থ্য কমে গেছে। গাজীপুর থেকে আসা রনি মাহমুদ বলেন, আরেকটা মহিষ রেখে দিলে তখন এই ট্রাম্পকে আর মনমরা লাগবে না। তবে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ভালো আছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা এই মহিষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং খাদ্যতালিকাও নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, চিড়িয়াখানায় নতুন কোনো প্রাণী এলে তার পরিচর্যা, ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হয়। তবে এই মহিষটির জন্য আলাদা কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রাণীটির শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মহিষ উন্নয়ন খামারের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল বোর্ড মহিষটির খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এই অ্যালবিনো মহিষটির সম্ভাব্য আয়ু ১৫ থেকে ২০ বছর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বয়সে সুষম খাদ্য ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে প্রাণীটি দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবে।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে মহিষটি পরিচিতি পাওয়ায় প্রথমে অস্থায়ীভাবে খাঁচায় কাগজে প্রিন্ট করে সেই নামই বসায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তবে এখন নতুন স্থায়ী তথ্যফলকে মহিষটির পরিচয় দেওয়া হয়েছে অ্যালবিনো বা সাদা মহিষ হিসেবে। মেলানিন উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈচিত্র্যের কারণে এ ধরনের প্রাণীর শরীরে সাদা রং দেখা যায়। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের মহিষ বিরল এবং বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অ্যালবিনো মহিষটিকে আপাতত জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর বাইরে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।