আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, সে সময় উন্নয়নের নামে তথ্য জালিয়াতি করে কৃত্রিম অগ্রগতি দেখানো হয়েছে, যার বাস্তব ভিত্তি ছিল দুর্বল।
গতকাল শনিবার ঢাকায় এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অধ্যাপক তিতুমীর আরো বলেন, ‘সরকার টাকা ছাপাচ্ছে’-এ ধরনের প্রচারণা ভিত্তিহীন। বর্তমান সরকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে ব্যবসা-বাণিজ্যে পুঁজি সংকট ছিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বারবার হস্তক্ষেপের কারণে অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত করে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে চায়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং দ্রব্যমূল্যও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে।
তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে।
বিতর্কে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।