kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কুশিয়ারার পানি নিয়ে সমঝোতা ভুল ও খারাপ দৃষ্টান্ত

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুশিয়ারার পানি নিয়ে সমঝোতা ভুল ও খারাপ দৃষ্টান্ত

কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি তুলতে ভারতের অনুমতি নেওয়ার চুক্তি করে বাংলাদেশ ভুল ও বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গতকাল শনিবার ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক : নদী, সীমান্ত ও বিদ্যুৎ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এ কথা বলেন।

‘সর্বজনকথা’ নামের একটি সাময়িকী অনলাইনে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কুশিয়ারা চুক্তির কারণে এখন থেকে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ নদীগুলো থেকে বাংলাদেশ পানি উত্তোলন করতে চাইলে ভারত হস্তক্ষেপ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ আইনের আওতায়  বাংলাদেশের পানিচুক্তি সই করা উচিত। আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমেই দেশের সব যৌথ নদীর পানিবণ্টনসহ সার্বিক সমস্যার সমাধান করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে পেনসিলভানিয়ার লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. খালেকুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ভেতরে ১৫৩ কিউসেক পানি তোলার জন্য ভারতের কাছে অনুমতি চাওয়া প্রয়োজন ছিল না। বাংলাদেশ দেনদরবার করতে পারত। তিনি বলেন, কুশিয়ারা নদীর ভারত অংশে তারা খাল বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছু সেচ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প করেছে। এর অভিঘাত বাংলাদেশে পড়ছে ও পড়বে। এসবের জন্য ভারত বাংলাদেশের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।

খালেকুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, এখন ভারত যদি বলে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ১৫৩ কিউসেক পানি নিতে পারবে, বাকি পানি ভারতের। এ চুক্তির অজুহাতে ভারত বাকি পানি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করলে বাংলাদেশ কী করবে?

মো. খালেকুজ্জামান বলেন, এ চুক্তিতে পুরো অববাহিকার পানি ও পলি কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে, তার উল্লেখ নেই। চুক্তিতে এমন কোনো বিধান নেই যাতে বিদ্যুৎ ও সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে যে পরিবেশগত ক্ষতি করা হয়েছে, তার জন্য তারা ভর্তুকি বা ক্ষতিপূরণ দেবে কি না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেন, আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ আইনে বাংলাদেশ কেন স্বাক্ষর করেনি, তা বোধগম্য নয়। ভাটির দেশ হিসেবে এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই দরকার। আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতসহ অন্য দেশগুলোর যৌথ নদীর সব সমস্যা যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করার দাবি জানান তিনি।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সীমান্ত হত্যার জন্য আন্তর্জাতিক তদন্ত, জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে এবার ট্রানজিট বিষয়ে কী চুক্তি হয়েছে তা স্পষ্ট করার দাবি জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান বলেন, ২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সীমান্তে এক হাজার ২৫৩ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছেন। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তা অব্যাহত আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ভারতের ওপর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভরতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় প্রকল্পগুলো (বাংলাদেশ ও ভারতে) বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ভারতের অংশগ্রহণ দাঁড়াবে প্রায় ১৬ শতাংশ। এর সঙ্গে নির্মাণাধীন পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আমদানি শুরু হলে জ্বালানি খাতে ভারতের অংশগ্রহণ ২০ শতাংশের বেশি হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভারতের ওপর নির্ভরতা তৈরি হলে ভারত বাংলাদেশকে আরো নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

 



সাতদিনের সেরা