kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাস্তুহারা কলোনিই এখন খাল

কৌশিক দে, খুলনা   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাস্তুহারা কলোনিই এখন খাল

খুলনা নগরীর বাস্তুহারা কলোনি, জলাবদ্ধতা যেখানে মানুষের নিত্যসঙ্গী। ছবি : কালের কণ্ঠ

শহরের মধ্যে ডোবা। না আছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির সুবিধা। তার পরও তারা খুলনা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা, ভোটের বাজারে তাদের কদর আছে।

মহানগরীর মুজগুন্নি মহাসড়ক, শহীদ আবু নাসের হাসপাতাল পেরিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাস্তুহারা কলোনি। নতুন কংক্রিটের সড়ক। এই সড়ক থেকে নেমে গেছে ছোট ছোট গলি। কোনোটি ইট বিছানো, কোনোটি কংক্রিটের আবার কোনোটি সম্পূর্ণ কাঁচা। এ এলাকায় বাস করছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে একাকার হয় এলাকাটি। সেই জের থাকে বছরজুড়ে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বাস্তুহারা কলোনির দুই পাশে জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হয়েছে। কলোনির পাশে ৪০ থেকে ৫০ ফুট প্রশস্ত খাল রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। ফলে ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিংয়ে ভরাট হয়ে পাশের খালটি পাঁচ ফুট আকার নিয়েছে। এতে বাস্তুহারা, খালিশপুর ও বয়রা থেকে যে পানি নিষ্কাশন হতো, তা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে নগর সংস্থা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো উদ্যোগ নেই।

বাস্তুহারার ১১ নম্বর সড়কের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম (৪২) বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরে এই অবস্থায় আছি। ঘরের সিঁড়ি থেকে পানি নামে না। পায়ে ঘা হয়ে গেছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে পোকা। আমরা তো মানুষ না। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি। জানি না কবে আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাব।’

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাসান সুমন বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় আড়াই শ পরিবার বাস করে। এভাবে মানুষ থাকতে পারে না। এখানে প্রতি তিন পরিবার একটি টয়লেট ব্যবহার করে। সেখানে যেতে হাঁটুপানি ভাঙতে হয়। কিন্তু কেউ কোনো খোঁজ নেয় না।’

খাদিজা বেগম (৩৫) বলেন, ‘একদিন ছোট বাচ্চা নিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। চর্মরোগ ভালো হচ্ছে না। এভাবে বেঁচে থাকা যায় না।’

১২ নম্বর সড়কের মো. নাসির উদ্দিন (৪৮) বলেন, ‘দুই মাস কোনোভাবে শুকনা থাকে; তারপর যা তাই। কষ্ট দেখার কেউ নেই। অথচ রাস্তুাগুলো উঁচু করে ড্রেন নির্মাণ এবং খালগুলো পরিষ্কার করলে এ সমস্যা থাকে না।’ একই সুরে কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা আ. লতিফ, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ।

তিনি বলেন, পাইলিং বা ড্রেন ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেনগুলো নতুন করে সংস্কার করে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ১৪৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সমস্যা নিরসন হবে।

সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমডি মাহফুজুর রহমান লিটন বলেন, ‘করোনার কারণে ওই এলাকায় ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন কাজ বিলম্বিত হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি সড়কের দরপত্র হয়েছে। আমি এসব কাজের বিষয়ে আধাসরকারি (ডিও) চিঠি দিয়েছি। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।’



সাতদিনের সেরা