kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

সাক্ষাৎকার

মানের ক্ষেত্রে আমরা আপস করি না

প্রফেসর ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, ইউএপি

শরীফুল আলম সুমন   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানের ক্ষেত্রে আমরা আপস করি না

১৯৯৬ সালে তিনজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)। মাত্র ২৫ বছরেই বিশ্ববিদ্যালয়টি অর্জন করেছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আস্থা। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেটে স্থাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির দৃষ্টিনন্দন স্থায়ী ক্যাম্পাস। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি বিভাগে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। করোনাকালেও অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়টির লেখাপড়া চলছে সমানতালে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য।

ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সুলতান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করেনি। অনলাইন পরীক্ষায়ও আমরা একাধিক শিক্ষার্থী বহিষ্কার করেছি। মান নিশ্চিত করতে এটা বড় উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুসারে, আমরা বছরে দুই সেমিস্টার চালু করেছি। বিশ্বের নামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দুই সেমিস্টার। এটা মান নিশ্চিত করার আরেকটি উদাহরণ।’

প্রফেসর সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশের ১০টি নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের কোলাবরেশন রয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে পড়ালেখার সুযোগ পায়। আমাদের গ্রাজুয়েটরা বিসিএস ক্যাডার হিসেবেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করছেন, যা আমাদের গুণগত মানেরই প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসিতে যদি কেউ সুযোগ না পায়, তাহলে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আসে ইউএপির নাম। আমাদের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সব প্রগ্রাম রয়েছে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। ইউজিসির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুয়ারেন্স সেল (আইকিউএসি) থেকে আমাদের সবা প্রগ্রামই ভেরি গুড সার্টিফিকেশন পেয়েছে, যা আমাদের গুণগত মানের নিশ্চয়তা দেয়। এমনকি করোনাকালেও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি।’ 

ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বলেন, ‘ইউজিসির নির্দেশনা আছে ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ানোর। কিন্তু আমাদের ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা শতভাগ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পায়। মুক্তিযোদ্ধা কোটার পাশাপাশি আছে ভিসি স্পেশাল ওয়েবার, দুর্গম ও অনুন্নত এলাকার শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পেয়ে থাকে এখানে। করোনাকালে আমরা শিক্ষার্থীদের ২৫ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফ করেছি।’ 

ড. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘করোনায় গত বছরের মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এপ্রিল থেকেই আমরা অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছি। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার শতভাগ। অনলাইন ক্লাসের জন্য আমরা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করছি। ক্লাসগুলো রেকর্ডিং করেও শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। আমাদের এই পদ্ধতি একটা মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অনুসরণ করেছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়।’

আগামীর পরিকল্পনা বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্মলগ্ন থেকেই আমি আছি। একজন লেকচারার থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আমি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। বিশ্বমানে উন্নীত করতে চাই। ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে সম্মানযোগ্য স্থান পেতে আমরা কাজ শুরু করেছি। পূর্বাচলে আমরা আট বিঘা জমি নিয়েছি, সেখানে আবাসিক ক্যাম্পাস হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিরাও চান একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছি।’