• ই-পেপার

ফাইনালে যেতে যেসব দলের মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা

ভিএআরে বাঁচল পর্তুগাল, নকআউটে রোনালদোদের প্রতিপক্ষ কারা

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিএআরে বাঁচল পর্তুগাল, নকআউটে রোনালদোদের প্রতিপক্ষ কারা
ছবি : রয়টার্স

শেষ মুহূর্তে ভিএআরের নাটকীয় সিদ্ধান্তে হার এড়িয়েছে পর্তুগাল। কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’ থেকে রানার্সআপ হিসেবে রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দল। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডাভিনসন সানচেজ বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইড ছিল। ফলে গোল বাতিল করে দেন রেফারি এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পর্তুগাল।

 

ড্রয়ের ফলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলম্বিয়া। অন্যদিকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।

গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২-এ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে রোনালদোরা। আগামী ২ জুলাই নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ক্রোয়েশিয়া। একই দিনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়া মুখোমুখি হবে আফ্রিকার প্রতিনিধি ঘানার।

এদিকে গ্রুপ ‘কে’ থেকে তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতোই উজবেকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্বেই।

ফাইনালের আগে দেখা হচ্ছে না মেসি-রোনালদোর, রূপকথা লিখে নকআউটে কঙ্গো

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালের আগে দেখা হচ্ছে না মেসি-রোনালদোর, রূপকথা লিখে নকআউটে কঙ্গো

বিশ্বফুটবলের কোটি কোটি ভক্তের মনে যে আশার প্রদীপ জ্বলছিল, তা এক ফুঁৎকারে নিভে গেল। ফুটবলমঞ্চে লিওনেল মেসি বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সেই কাঙ্ক্ষিত দ্বৈরথ সহসা দেখার কোনো সুযোগ নেই। আর্জেন্টিনার মতো পর্তুগালও যদি নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারত, তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হয়ে যেত এই দুই মহাতারকার। কিন্তু আজ কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগাল গোলশূন্য ড্র করায় ভেস্তে গেছে সেই মহাকাব্যিক সমীকরণ।

‘কে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ড্র করে গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছে রোনালদোর পর্তুগাল। রানার্স-আপ বা গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ায় পর্তুগিজদের এখন কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। শেষ ৩২-এর (রাউন্ড অব থার্টি টু) মঞ্চেই সিআরসেভেনের দলকে লড়তে হবে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। আর সেই ক্রোয়াট বাধা টপকে সামনে এগোলে শেষ ষোলোয় তাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন! ফলে সমীকরণ এখন স্পষ্ট—বিশ্বমঞ্চে মেসি ও রোনালদোর এই শেষ দেখা কেবল টুর্নামেন্টের ফাইনালেই সম্ভব, তার আগে নয়।

এদিকে ফুটবলবিশ্ব যখন মেসি-রোনালদোর সমীকরণে মগ্ন, তখন ওদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে রূপকথা লিখল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেই বাজিমাত করেছে আফ্রিকান দলটি।

নবাগত উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রেখেছে কঙ্গো।

মেসি নেই, আলভারেজ-লাউতারোকে নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি নেই, আলভারেজ-লাউতারোকে নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হওয়ার আগেই একাদশ নিয়ে বড় চমক দিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বিশ্রামে রাখার ম্যাচে আক্রমণভাগে কোনো রকম ছাড় দিতে রাজি নন আলবিসেলেস্তে মাস্টারমাইন্ড।

জর্ডানের বিপক্ষে একাদশে একসঙ্গে সুযোগ করে দিয়েছেন জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজকে। সাধারণত এই দুই স্ট্রাইকারের যেকোনো একজনকে খেলানো হলেও, আজ ডালাসের মাঠে ‘ডাবল অ্যাটাক’ রণকৌশল বেছে নিয়েছেন স্কালোনি।

বিশ্বকাপের এই ম্যাচের জন্য একটু আগেই আর্জেন্টিনার অফিশিয়াল শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছেন কোচ। পোস্টের নিচে যথারীতি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

রক্ষণভাগে ওটামেন্ডির অভিজ্ঞতার সাথে থাকছেন তাগলিয়াফিকো, সেনেসি এবং সিমিওনে। মাঝমাঠের দখল ধরে রাখার দায়িত্ব পড়েছে লো চেলসো, পারেদেস ও পালাসিওসের ওপর। তাদের সাথে মাঝমাঠে তরুণ রক্ত হিসেবে জাদুকরী পাসিংয়ের জন্য থাকছেন নিকো পাজ। আর সবার নজর কেড়ে নেওয়া আক্রমণভাগের দুই ফলার দায়িত্বে থাকছেন জুলিয়ান আলভারেজ এবং ইন্টার মিলান অধিনায়ক লাউতারো মার্টিনেজ।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ:

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, মার্কোস সেনসি, নিকোলাস ওতামেন্ডি, সিমিওনে, জিওভানি লো সেলসো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এক্সেকুয়েল পালাসিওস, নিকো পাজ, জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া-ঘানাও গেল নকআউটে

ক্রীড়া ডেস্ক
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া-ঘানাও গেল নকআউটে

বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে শেষ মুহূর্তের নাটকিয়তা বেশ ভালই জমে উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে হাসি মুখেই মাঠ ছাড়ল ফেবারিট ইংল্যান্ড।

পানামার বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলেছে ইংল্যান্ড। মাঠের দখল ও আক্রমণে থ্রি লায়ন্সরা পুরোপুরি দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে কাজের কাজ গোলটি অধরাই রয়ে যায় হ্যারি কেইনদের। অপর ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া জালের দেখা পাওয়ায় শঙ্কা জাগে কেইনদের শীর্ষস্থান হারানোর।

তবে দ্বিতীয়ার্ধেই ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্সরা। ডালাসের মাঠে ম্যাচের ৬২ মিনিটে বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন জুড বেলিংহাম। এর পাঁচ মিনিটের মাথায় বেলিংহামের বাড়ানো এক নিখুঁত ও চোখ ধাঁধানো ক্রসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান হ্যারি কেইন।

এতেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

এরপর ম্যাচে আর কেউ জালের দেখা না পাওয়ায় ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের দল। এতে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের।

গ্রুপের অপর ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে যাচ্ছেন মদরিচরা। অপর দিকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করা ঘানাও যাচ্ছে শেষ ৩২-এ। গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে উপরের দিকে থাকায় নতুন নিয়মে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে তারা।