kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মত ও মন্তব্য

জীবিত ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রসঙ্গে

হারুন হাবীব

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



জীবিত ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রসঙ্গে

ঢাকা নগরীতে বসবাস করে জীবনের বেশির ভাগ সময় পাড়ি দিলেও গ্রামের মাটি, গাছগাছালি, খাল-বিল-নদীর সঙ্গে আমার কমবেশি যোগাযোগ আছে। সময় পেলেই গ্রামে যাই। খালি পায়ে হাঁটি। স্কুলের পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করি। চায়ের দোকানে বসি। আমরা সবাই বয়স্কদের দলে, অতএব পুরনো বন্ধুদের সান্নিধ্য ভালো লাগে। তবে ইদানীং মনটা বিষণ্ন হয়ে ওঠে—যখন দেখি সেই বন্ধুদের অনেকেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে আমারই অলক্ষ্যে, আগের মতো বেশির ভাগকে আর উচ্ছল দেখা যায় না, আবার শুনি অনেকেই রোগজরায় আক্রান্ত হয়ে বিছানাগত হয়েছে। একটা সময় ছিল, এই ১০ থেকে ১৫ বছর আগে, গ্রাম বা গঞ্জের পথে হাঁটলেই মুক্তিযুদ্ধের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হতো। একগাল হেসে এগিয়ে এসে ওরা করমর্দন করত। সমবয়স্করা বলত, ভাই, কেমন আছ? চিনতে পারলা কি? অনেক দিন পর দেখলাম তোমারে! কিন্তু একাত্তরের সেই সহযোদ্ধাদের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। ইদানীং কমই দেখা হয়!

দৈনিক খবরের কাগজগুলোর দিকে চোখ পড়লেই দেখা যাবে একাত্তরের জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগী মানুষেরা মৃত্যুবরণ করে চলেছেন। মৃত্যুর এই খবর আসছে প্রায় প্রাত্যহিক। বেশির ভাগই মৃত্যুবরণ করে চলেছে বয়সের ভারে, কেউ বা রোগে ভুগে, কেউ আবার নানা ঘাত-প্রতিঘাতে জর্জরিত হয়ে। এই মুক্তিযোদ্ধাদের বেশির ভাগই গ্রামগঞ্জের মানুষ, যাঁরা জাতীয়ভাবে পরিচিত নন। অথচ নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় জানি, এঁরাই ছিলেন মুক্তিবাহিনীর বেশির ভাগ, এঁরাই অকাতরে জীবন দিয়েছেন। দেশ স্বাধীনের পর এঁরা প্রায় সবাই জাতীয় মঞ্চ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর একাত্তরের এই বীররা উপেক্ষিত, অবহেলিত হয়েছেন চরমভাবে। অনেক কাল পরে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শধারী রাজনৈতিক শক্তি আবার ক্ষমতাসীন হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবহেলার দিন শেষ হয়েছে, তাঁরা আজ স্বদম্ভে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেন।

যা বলছিলাম, এই জাতীয় বীরদের কারো কারো মৃত্যুর খবর পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় না হোক, ভেতরের পৃষ্ঠার কোথাও না কোথাও স্থান পায়। তবে সবার মৃত্যুসংবাদ পত্রপত্রিকায় স্থান যে পায় না, তা নিশ্চিত। তার পরও বলতে হবে গণমাধ্যমের স্থানীয় সংবাদদাতাদের কল্যাণে অনেক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর খবর জানা যায়। যাঁদের জানা যায় না তাঁরা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান।

আমাদের জাতীয় দুর্ভাগ্য যে গত ৪৮ বছরেও আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করতে পারিনি। আজ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সম্পন্ন করা যায়নি। আমার মনে পড়ে, ১৯৭২ সালে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর স্বাক্ষরে আমরা প্রথমবারের মতো সনদ পেয়েছিলাম। ১৯৮৬ সালে একটি তালিকা করা হয়েছিল, যাতে (সম্ভবত) এক লাখ দুই হাজার ৪৫৮ জন মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হন। একই বছরে ভারত থেকে একটি তালিকা সংগ্রহ করা হয়, যাতে ৬৯ হাজার ৮৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম পাওয়া যায়। এঁরা সবাই ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। তবে এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয়। কারণ এর বাইরেও অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যাঁরা বেঙ্গল রেজিমেন্ট, সাবেক ইপিআর ও পুলিশ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে দেশে কিংবা ভারতীয় বিভিন্ন শিবিরে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সম্ভবত ১৯৯৪ সালে আরেকটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়, যাতে ৮৬ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তত্ত্বাবধানে একটি প্রায় চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ‘লাল বই’ নামে খ্যাত। এতে সর্বমোট এক লাখ ৫৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম আছে। সে সময় আমার মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরকৃত একটি সনদ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পৌঁছে। এরপর ২০০১ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় পালাক্রমিকভাবে দুই লাখ ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে জাতীয় গেজেটভুক্ত করে। বর্তমানে (সম্ভবত) দুই লাখ তিন হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আছে। এর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে এক লাখ ৮৪ হাজার ২৯৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে (২০১৭ সালের হিসাব মতে) সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রক্রিয়া চলছে।

অস্বীকার করা যাবে না, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো সাধারণ সমর বা প্রচলিত যুদ্ধবিগ্রহ ছিল না, ছিল একটি জনযুদ্ধ, যাতে সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশা থেকে দেশপ্রেমিক মানুষ সশস্ত্রভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানই শুধু হরণ করা হয়নি, তাঁদের চূড়ান্ত অবহেলার পাত্রই করা হয়নি, সেই সঙ্গে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধকে নিছক একটি সামরিক যুদ্ধ বলে চালানোর চেষ্টা হয়েছে। অথচ ১৯৭১ ছিল সার্বিকভাবে একটি জাতীয় জনযুদ্ধ—যেখানে পূর্বতন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্য, সেদিনকার ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ, আনসারসহ গ্রামগঞ্জের ব্যাপক যুবতারুণ্য যোগ দিয়েছিল। সেই সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত ছাত্র, সাধারণ চাকরিজীবী এবং ব্যাপকসংখ্যক গ্রামীণ যুবক। কিন্তু ১৯৭৫-পরবর্তী দুই দশকে সামরিক ও আধাসামরিক সরকারগুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাকে বিতর্কিত করেছে, মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধীদের পুনর্বাসিত করেছে, বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসকে বিকৃত করেছে। কৌশলগত কারণে সে সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় চালু করা হলেও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে পঙ্গু করার সবটুকু ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছিল।

কাজেই পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা তৈরির সংকট অস্বীকার করা যাবে না। অভিযোগ পাওয়া গেছে, মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়েও আবার কেউ কেউ নাকি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠিয়েছেন, যা একটি গর্হিত কাজ! অবশ্যই এর বিহিত হওয়া দরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা নিয়ে অবহেলা বা ছলচাতুরীর সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, এই তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় একাত্তরের আত্মত্যাগী বীর যোদ্ধারা যেন নতুন করে অপমানিত বা বিড়ম্বনার শিকার না হন। সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সত্যিকারভাবেই তালিকা থেকে রাজাকারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা নন এমন ব্যক্তি কিংবা যাঁরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে—বাদ পড়েন। তা না হলে উদ্যোগটি ব্যর্থ হবে।

জোর দিয়েই বলা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৯৯৬ সালের পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে। মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এখন রাষ্ট্রীয় সম্মানের ব্যবস্থা আছে। অর্থাৎ যাঁরা মৃত্যুবরণ করেন তাঁদের কফিনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ‘গান স্যালুট’ জানান। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ ছাড়া আছে রাষ্ট্রীয় পদকধারী এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা। অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার জন্য বরাদ্দ হয়েছে নির্দিষ্ট অঙ্কের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা, যা তিন মাস অন্তর তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এর বাইরে সম্প্রতি যোগ হয়েছে সামান্য হলেও ঈদ বোনাস। বলা বাহুল্য, অর্থের হিসাবে এসব সুযোগ-সুবিধা যা-ই হোক না কেন, রাষ্ট্র যে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়—এটি তারই স্বাক্ষর। অতএব নানা অভিযোগের পরও মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত বোধ করেন। অতি সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলো যাতে একই নকশায় সংরক্ষিত হয়, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা সবাই বয়োবৃদ্ধ। তাঁরা মৃত্যুবরণ করবেন—এটিই স্বাভাবিক। যে রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য তাঁরা জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, অতি সামান্য প্রশিক্ষণে একটি আধুনিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছেন বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য, সেই রাষ্ট্র যদি তাঁদের স্বীকৃতি না দেয় বা সম্মানিত না করে—সে অপরাধ রাষ্ট্রের। এমন কোনো জাতি বা রাষ্ট্র নেই, যে জাতি বা রাষ্ট্র তার স্বাধীনতাসংগ্রামীদের যোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে না। কারণ এ সম্মান রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা, জাতীয় দায়বদ্ধতা। এটি করা না হলে রাষ্ট্র ইতিহাসবিবর্জিত হয়, নতুন নাগরিকরা তাদের জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে দূরে সরে যায়, জাতি শিকড়শূন্য হয়।

সম্প্রতি কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে গিয়ে মনটা যথেষ্টই খারাপ হয়েছে। প্রথমত, রণাঙ্গনের স্মৃতি ভিড় করেছে। স্বজন হারানোর ব্যথায় কাতর হয়েছি। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শেষবিদায় পাওয়ার আশায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের যত্রতত্র ছোটাছুটি করতে দেখেছি। দেখেছি তাঁদের ছেলে-মেয়েরা কী আপ্রাণ চেষ্টায় এক অফিস থেকে আরেক অফিসে যাচ্ছেন, যাতে প্রয়াত জাতীয় বীর রাষ্ট্রের সম্মান পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন। তৃতীয়ত, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা যেন তাঁর স্ত্রী বা সন্তানরা লাভ করতে পারেন তার প্রক্রিয়া। মোট কথা এই প্রক্রিয়াগুলোর সবটাই সরকারি অফিস-আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বলে কাজগুলো সম্পন্ন করার সংকট অনেক, যা অনেক ক্ষেত্রেই বিপন্ন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের বিব্রত করে ও সংকটে ফেলে। আশা করব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার এই সংকটগুলোর সমাধানের দিকে নজর দেবে। অন্যথায় ভালো বা শুভ উদ্যোগগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। গত কয়েক বছরে আমেরিকা-ইউরোপের কয়েকটি দেশ ঘুরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে একটি বড় সংকট লক্ষ করেছি। শুধু ইউরোপ-আমেরিকা কেন, বহু মুক্তিযোদ্ধাই বহু দেশে অবস্থান করেন পারিবারিক বা পেশাগত প্রয়োজনে। দেশের বাইরে থাকলেও বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধাই চান তাঁদের দাফন দেশের মাটিতে হোক, যে মাটি তাঁদের আপন, যে মাটির জন্য তাঁরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন, সেই মাটিতে। কেউ কেউ আবার বিদেশের মাটিতে কবরস্থ হন নানা পরিস্থিতিতে। এসব মুক্তিযোদ্ধা যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন দুটি অবধারিত সংকটে পড়েন তাঁদের পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুরা। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাষ্ট্রীয় সম্মানের আয়োজন করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই সে প্রত্যাশার পূরণ ঘটে না। ‘গান স্যালুট’ যেহেতু পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দিয়ে থাকেন, সেহেতু দূতাবাস কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় সম্মান দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অন্য যে সংকটটি ঘটে তা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দেশে পাঠানো নিয়ে। অনেকের কাছেই শুনেছি, বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে, বন্ধু-আত্মীয়-স্বজনের আপ্রাণ সহযোগিতায় লাশগুলো দেশে পাঠানো হয়।

এসব ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা বাঞ্ছনীয় বলে আমি মনে করি। প্রথমত, যেসব মুক্তিযোদ্ধা বিদেশের মাটিতে মৃত্যুবরণ করবেন এবং সেখানেই সমাহিত হবেন, তাঁরা যেন প্রথাগতভাবে রাষ্ট্রীয় সম্মান লাভ করেন, তার নিশ্চয়তা থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রতিটি দূতাবাসে সরকার থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশ থাকা উচিত, যাতে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে পারে। অন্যদিকে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ যেন রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। আমাদের রাষ্ট্রে বহুভাবেই বহু অর্থের নয়ছয় ঘটে, রাষ্ট্রীয় সম্পদও বিনষ্ট হয়। কাজেই প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে কিছু অর্থ খরচের বিষয়টি সরকার ভেবে দেখবে—সে আশাই রাখি।

 

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা