kalerkantho

১৯৭৫ থেকে ২০১৯—ষড়যন্ত্র পিছু ছাড়ছে না

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



১৯৭৫ থেকে ২০১৯—ষড়যন্ত্র পিছু ছাড়ছে না

আজ পহেলা আগস্ট। শোকের মাসের প্রথম দিন। আগস্ট মাস এলেই মনটা যেন কেমন হয়ে যায়। আনমনা হয়ে ভাবি, এমনটা কেন হলো, কী করে হলো! কী করে মানুষ এত বড় বিশ্বাসঘাতক হতে পারে! কী করে দেশ ও জাতির সঙ্গে এত বড় মোনাফেকি করতে পারে! যে মানুষটার জন্ম না হলে বাংলাদেশ কোনো দিন স্বাধীন হতো না, সেই মানুষটিকেই কিনা সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায়! এটা তো এখন দিবালোকের মতো সত্য, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল, যার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল এদেশীয় একটি গোষ্ঠী। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের বিচার হয়েছে এবং একাংশের শাস্তি কার্যকরও হয়েছে। কিন্তু ৪৪ বছর পর ২০১৯ সালে এসে এখনো দেখছি পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্রকারী এবং ওই হত্যাকাণ্ডের সুবিধাভোগীরা সেই একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাই ৪৪ বছর পর এসে আবার ফিরে তাকাতে হচ্ছে সেদিন ষড়যন্ত্রের জাল কিভাবে বোনা হয়েছিল এবং কিভাবে তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটটি তৈরি করেছিল।

ঘরের শত্রু বিভীষণ, এনিমি উইদিন। এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। বিশ্বের বড় বড় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার যিনি হয়েছেন, তাঁর একেবারে কাছের বা ঘনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তির যোগসাজশ ও সহযোগিতা না থাকলে এমন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ। রাস্তাঘাট, কল-কারখানা কিছুই নেই। বৈদেশিক মুদ্রা বলতে এক ডলারও নেই। ভারত থেকে এক কোটি শরণার্থী ফিরে আসছে, তাদের পুনর্বাসন জরুরি। পাকিস্তানে আটকে পড়া প্রায় চার লাখ বাঙালির স্বজনদের আহাজারি। বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর। উপযুক্ত অজুহাত পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কা। পাকিস্তানের সহায়তায় জামায়াত নেতা গোলাম আযমের লন্ডন বসে পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার আন্দোলন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার বিরুদ্ধে চীনের একের পর এক ভেটো প্রয়োগ। এত বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছিলেন। কিন্তু এনিমি উইদিন, সরকারের প্রশাসন এবং তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের ইন্টারনাল ষড়যন্ত্রকারীরা তত দিনে মোক্ষম ছদ্মবেশ ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর একেবারে কাছাকাছি থেকে হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রটি প্রস্তুত করে ফেলতে সক্ষম হয়। প্রশাসনে শতকরা নব্বই ভাগ কর্মকর্তা ছিলেন তাঁরাই, যাঁরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় একই পদে বসে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সব অপকর্মের সহযোগী হয়েছেন। কিউবার অবিসংবাদিত নেতা, যাঁকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা শতবারেরও অধিক চেষ্টা করেও হত্যা করতে পারেনি; সেই ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, শেখ মুজিব, পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন প্রশাসন দিয়ে তুমি বাংলাদেশ তৈরি করতে পারবে না, চালাতেও পারবে না। কাপুরুষরা বীরদের সাফল্যে সব সময় হীনম্মন্যতা, ঈর্ষাপরায়ণতা ও পরশ্রীকাতরতায় ভোগে। ফলে বীরোচিত অর্জনের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ থাকে না; বরং সেই অর্জনকেও শেষ করতে পারলেই তারা পুলকিত হয়, যুগে যুগে দেশ-কাল-পাত্রভেদে এটাই দেখা গেছে। একাত্তরে ঢাকায় বসে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সহযোগী বাঙালি কর্মকর্তারা যখন স্বাধীন দেশেও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে গেলেন, তখন ষড়যন্ত্রকারীরা সহজেই তাঁদের ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রশাসনসহ প্রধান প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে কর্মরত ছিলেন ওই সব কর্মকর্তা, যাঁরা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দালালি করেছেন, আর নয়তো সেই সব কর্মকর্তা, যাঁরা পাকিস্তানে আটকা পড়েছিলেন। সুতরাং যা হওয়ার তা-ই হয়েছে।

একটা উদাহরণ দিই। ১৯৭৪ সালে একটা দুর্ভিক্ষ হয়েছিল এবং তাতে কিছু মানুষ মারা যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যের চালান মাঝপথে এসেও ফেরত যায়। সে সময় বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যসচিব ছিলেন আবদুল মোমেন খান। তখন খাদ্যসচিব হিসেবে তিনি কতখানি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বা ব্যর্থ হয়েছিলেন, সে প্রশ্নটি ওঠা স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই ওই আবদুল মোমেন খানকে খাদ্যমন্ত্রী বানালেন। দুর্ভিক্ষের সময় রংপুরের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী বাসন্তীকে জাল পরিয়ে ছবি তুলে সেই ছবি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হলো—বাংলাদেশের নারীরা অভাবের কারণে ইজ্জত রক্ষা করতে পারছে না। পরবর্তী সময়ে জানা গেছে, কারা কিভাবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিবন্ধী নারীকে জাল পরিয়ে ছবি তোলে এবং তা প্রচারমাধ্যমে ছেড়ে দেয়। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, তখন একখানা শাড়ি কাপড়ের চেয়ে একখানা জালের মূল্য ছিল অনেক বেশি।

পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী কর্মকর্তাদের দ্বারা সরকারের প্রশাসনকে পরিপূর্ণভাবে পাকিস্তানীকরণের মাধ্যমে নিজেদের কবজায় নিয়ে নেয়। তাতে ১৫ আগস্টে বিষাদসিন্ধু রচনার প্রথম ক্ষেত্রটি তৈরি হয়ে যায়। এরপর আদর্শের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত—এমন নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর কাছে চলে এলো বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক ও তাঁর গ্রুপ। তাতে আরেক ধাপ এগিয়ে যায় শত্রুপক্ষ। হত্যাকাণ্ডের ফুট সোলজার হিসেবে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁরা তৎকালীন উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে অপ্রতিরোধ্য জায়গায় চলে যান। এর পরই আসে সেই কালরাত্রি, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের জড়িত থাকার কথা এখন আর গোপন কিছু নয়। পঁচাত্তরের রক্তাক্ত অধ্যায়ের বেনিফিশিয়ারি হিসেবে ক্ষমতায় আসা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটে সেসব দল ও রাজনৈতিক পক্ষের, যারা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কখনোই মেনে নিতে পারেনি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল, দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্র যেভাবে পরিচালিত হয়েছে ও যাঁরা পরিচালনা করেছেন, তাঁরা এবং তাঁদের আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গির একটু নিখুঁত নির্মোহ মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে, তাঁরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও দর্শন যেন বাংলাদেশে আর কখনো ফিরে না আসে। পরিণতি, বাংলাদেশ নামের খোলসে আরেকটি পাকিস্তান। তাঁরা পরিপূর্ণভাবে সফল হননি এটা যেমন ঠিক, তেমনি এটাও ঠিক, দেশ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কিছু শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন, যাতে ক্ষমতার বাইরে থেকেও লক্ষ্য অর্জনে তাঁরা যেন লড়াইটা অব্যাহত রাখতে পারেন।

১৯৭৫ সাল থেকে আমরা ২০১৯ সালে চলে এসে কী দেখতে পাই। প্রথমত দেখতে পাই, গত ১০-১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব দিক থেকে রাষ্ট্র একটা মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত এবং বিশ্বের নামজাদা সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং থিংকট্যাংকের প্রেডিকশন হলো এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। দ্বিতীয়ত দেখতে পাই, রাষ্ট্রকে পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের দর্শন ও আদর্শের ওপর পরিপূর্ণভাবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তৃতীয়ত দেখতে পাই, ১৯৭৫ সালের পর পুনরুত্থিত ও নতুনভাবে আবির্ভূত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি ক্রমেই কোণঠাসা হচ্ছে।

তবে অপতৎপরতা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে যেকোনো অঘটন ঘটানোর মতো সক্ষমতা এখনো অটুট আছে। প্রশাসনের সব সেক্টরে এদের বড়সংখ্যক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন, যাঁরা দিনে বঙ্গবন্ধু আর রাতে বিভীষণ। এঁদের মধ্যে অনেকেই বর্তমান সরকারি দলের কিছু নেতার আশীর্বাদপুষ্ট ও ছত্রচ্ছায়ায় আছেন বলে কেউ কিছু বলতে পারছে না। যেমনটি দেখেছিলাম ১৯৭৫ সালের প্রথম দিকে, যে সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর সহযোগী। এ কথা সত্যি যে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের জনবলগত ও রাষ্ট্রের সব অঙ্গনে নেটওয়ার্কভিত্তিক একটি শক্তি থাকলেও নিজেদের হিমালয়সম ভুল রাজনীতির পরিণতিতে তারা প্রকাশ্য রাজনীতিতে তেমন আর সুবিধা করতে পারবে না। তাই পরাজয়-উন্মুখ অশুভ শক্তির সহজাত স্বভাবের অনুসরণে তারা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেবে সেটাই স্বাভাবিক। সেই ষড়যন্ত্রের মূল টার্গেট শেখ হাসিনা। কারণ শেখ হাসিনা সক্রিয় থাকা পর্যন্ত তাদের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই, যে পর্যন্ত তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি থেকে ফিরে না আসে। তাই ২০০৯ সাল থেকে তারা ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্র প্রস্তুতসহ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বহু চেষ্টা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত তো সশস্ত্র পন্থায় করতে চেয়েছে, আর ২০০৭-০৮ সালে করতে চেয়েছে ছদ্মবেশী এক বড় ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী। ২০০৯ সালে নতুন করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর নতুন ষড়যন্ত্রের শুরু হয় ওই বছর ভয়াবহ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এরপর শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সশস্ত্র জঙ্গিদের মাঠে নামানো, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বানচাল করার অপচেষ্টা, ২০১৫ সালের প্রথম দিকে লাগাতার অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হত্যা—সবই ছিল বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। এতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু থেমে নেই। চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ওপর ভর করে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। এ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ সংস্করণ ছিল এই মর্মে গুজব সৃষ্টি যে পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে। আর সে জন্য পদ্মা সেতুর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ দেশের সর্বত্র ছেলেধরা লাগিয়ে দিয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশজুড়ে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছিল, যার ফলে দেখা গেল এক জায়গায় গুজব ও গণপিটুনিতে তথাকথিত ছেলেধরা নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তাতে মারা পড়ে দশজন, আহত হয় অনেকে। তবে মিডিয়া ও প্রশাসনের ত্বরিত ভূমিকার কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা বেশি দূর এগোতে পারেনি।

এর মধ্যে আবার প্রিয়া সাহা নামের একজন বাংলাদেশি নাগরিক কী করে যেন কিভাবে আমেরিকান প্রশাসনের একেবারে অন্দরমহলে ঢুকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অবাস্তব অভিযোগ তুলে জননিরাপত্তার জন্য একটা বাড়তি হুমকি সৃষ্টি করেছেন। প্রিয়া সাহার এই কর্মকাণ্ডকে ছোট বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো সবই ষড়যন্ত্রের অংশ। কে কোথা থেকে কী করছে তা বুঝে ওঠা মুশকিল। কারণ আজকাল ছদ্মবেশী পোশাকের কোনো অভাব নেই, সহজেই পাওয়া যায়। সুতরাং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের পিছু ছাড়ছে না।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

[email protected]

মন্তব্য