৩৭. এরপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তমভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন- অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পণ করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তাঁর কাছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন 'মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?' তিনি বলতেন, এসব আল্লাহর কাছ থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিজিক দান করেন।- সুরা আলে ইমরান তাফসির : মারইয়াম (আ.)-এর জন্মের পর তাঁর মা তাঁকে নিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদে হাজির হলেন এবং মসজিদের ইবাদতকারীদের বললেন, আমি আমার এ শিশুকন্যাটিকে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করেছি। সে জন্য আমি একে নিজের কাছে রাখতে পারি না। আপনারা এর দায়িত্বভার গ্রহণ করুন। মসজিদের ইবাদতকারীদের মধ্যে হজরত যাকারিয়া (আ.)ও ছিলেন। উল্লেখ্য, হজরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতা ইমরান ছিলেন বায়তুল মুকাদ্দাসের ইমাম। মারইয়াম তাঁর মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় পিতার ইন্তেকাল হয়। পিতা বেঁচে থাকলে তো সন্তানের দায়িত্বভার তিনি নিজেই নিতেন। কেননা তিনি এই সন্তানের পিতা এবং মসজিদের ইমাম। আর সে কারণে মসজিদের ইবাদতকারীদের প্রত্যেকেই এ সন্তানের লালন-পালনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এদিকে হজরত যাকারিয়া (আ.) মারইয়ামের লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এ জন্য যে তাঁর স্ত্রী ছিলেন মারইয়ামের খালা। খালা মায়ের মতোই। কাজেই মায়ের পর কন্যাকে লালন-পালনের ব্যাপারে খালার অধিকার বেশি। কিন্তু অন্যরা এ অগ্রাধিকার মেনে নিতে স্বীকৃত হলো না। লটারির মাধ্যমে ব্যাপারটির মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। লটারির যে পদ্ধতি স্থির করা হলো তাও ছিল অভিনব। পরে এ সম্পর্কে বর্ণনা করা হবে। লটারিতেও যাকারিয়া (আ.) জিতে গেলেন। দায়িত্বও নিলেন তিনি। এরপর মসজিদসংলগ্ন একটি উত্তম কক্ষে মারইয়ামকে রাখা হলো। কোথাও যেতে হলে হজরত জাকারিয়া (আ.) সেই কক্ষে তালা লাগিয়ে যেতেন। আর ফিরে এসে তালা খুলে দিতেন। আল্লাহ তাঁর প্রতিপালনের দায়িত্ব দিলেন হজরত যাকারিয়ার (আ.) ওপর। এটা তাঁর এক পরম সৌভাগ্য। যেহেতু তিনি হিতকর জ্ঞান অনুশীলন ও পুণ্যকাজ শিক্ষার সুযোগ পেলেন। তদুপরি হজরত যাকারিয়া ছিলেন তাঁর খালু। তারপর আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইবাদতের স্থানের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, হজরত যাকারিয়া যখনই মেহরাবে তাঁর কাছে যেতেন তখনই তাঁর কাছে জীবিকা দেখতে পেতেন। এ প্রসঙ্গে মুজাহিদ, ইকরামা, সাঈদ ইবনে জুবাইর, আবু শা'ছা, ইবরাহীম নাখঈ, যিহাক, কাতাদা, রবী' ইবনে আনাস, আতিয়াতুল আওফি ও হাদী প্রমুখ মনীষী বলেন যে হজরত যাকারিয়া (আ.) তাঁর কাছে গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফলমূল এবং শীতকালে গ্রীষ্মকালীন ফলমূল দেখতে পেতেন। মুজাহিদ আরো বলেন, 'ওয়াজাদা ইনদাহা রিজকান'। এর অর্থ হলো তাঁর কাছে জ্ঞান পেলেন অথবা এমন কোনো গ্রন্থ পেলেন, যা জ্ঞানে পরিপূর্ণ। এটাই ইবনে আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন, তবে প্রথম কথাটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। অতঃপর হজরত যাকারিয়া (আ.) মারইয়ামের কাছে ফলমূল দেখে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে মরিয়ম! এসব তুমি কোথায় পেয়েছ? তখন হজরত মারইয়াম উত্তরে বলেন, এসব আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে খুশি অপ্রত্যাশিতভাবে জীবিকা দান করেন। তাফসিরে মা'আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে