গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। উচ্চ আদালতের আদেশে শিগগিরই তারা প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই এক আদেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডসংক্রান্ত বিরোধে তিনটি সম্পূরক নিবন্ধিত দলিলের কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ নিম্ন আদালতের দুটি আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত ৫৩১ দিনের বিলম্ব মার্জনা করে আবেদনটি গ্রহণ করেন এবং রুল জারি করেন।
রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত জেলা জজ, অষ্টম আদালতের দেওয়া আদেশ এবং ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট ঢাকার সিনিয়র সহকারী জজ, দ্বিতীয় আদালতের টাইটেল স্যুট নম্বর-৩৭২/২০২৩-এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজের আদেশ বাতিল করা হবে না।
হাইকোর্ট আদেশে ২০০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির আইভি-১৭/২০২৮, ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আইভি-৮০/১১ এবং ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারির আইভি-০১/২৫ নম্বর সম্পূরক নিবন্ধিত দলিলের কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করেন। এ সময়ের মধ্যে অথবা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে বিরোধের মূল দেওয়ানি মামলা (নম্বর-৩৭২/২০২৩) স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। মামলার নথি তলবেরও প্রয়োজন নেই বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশে আরো বলা হয়, আবেদনকারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রুল জারির জন্য প্রয়োজনীয় রিকুইজিট দাখিল করতে হবে এবং বিবাদীদের কাছে আইন অনুযায়ী নোটিশ পাঠাতে হবে।
আদালতে বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ফাহাদ মাহমুদ খান।
আদালতের এই রায়ের ফলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। তাঁরা হলেন—আলতাফুন্নেসা, আবুল কাশেম চৌধুরী, সন্ধ্যা রায়, মনজুর কাদির আহম্মেদ, শিরীন পারভীন হক, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও আব্দুল কাদের আজাদ।
গত ২৯ এপ্রিল কালের কণ্ঠে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতার দাপটে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিকে সরিয়ে দেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও শিরীন পারভীন হক। রিজওয়ানা ছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা। নিয়ম ভেঙে তখন তাঁরা নিজেরাই নিজেদের ট্রাস্টি হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
জানা গেছে, আদালতের আদেশে ওই তিনটি ট্রাস্টি দলিল স্থগিত হওয়ায় বর্তমানে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণে আইনগত কোনো বাধা নেই। এই বোর্ডের সদস্যসংখ্যা পাঁচজন। অন্যরা হলেন—অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ডা. শাহজাহান, অধ্যাপক ডা. মনোয়ারা বেগম ও অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
জানা গেছে, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্ব বুঝে নেন। তবে ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয় ডা. নাজিমউদ্দিনকে।
জানতে চাইলে গতকাল রাতে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালতের আদেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখলবাজমুক্ত হলো। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। তারা আমাদের অভয় দিয়ে পাশে থাকার কথা বলেছে। আমরা খুব শিগগির প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বুঝে নেব।’


